জলপাইগুড়িতে এক মহিলা কনস্টেবলকে দেখা গেল ‘লেডি সিংঘম’ রূপে। বহু দিন ধরে তিনি লক্ষ্য রাখছিলেন ট্রাফিক আইন ভেঙে আসা একটি বাসের উপর। শেষ পর্যন্ত ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য যাত্রীবোঝাই ওই বাসকে তিনি টেনে নিয়ে গেলেন থানায়। ওই কনস্টেবলের নাম ফাল্গুনী রায়।
মহিলা কনস্টেবল হলেও তিনি দাপট দেখালেন আর পাঁচজন পুরুষের মতো। তাঁর কারণেই এদিন এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকলো জলপাইগুড়ি। এই শহরের একাংশ বাস চালক ‘নো এন্ট্রি’ মানছেন না বলে অভিযোগ ছিল। যার জেরে প্রতিদিনই জলপাইগুড়ি শহরে যানজটের কবলে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। হয়রান হচ্ছিলেন পথ চলতি সাধারণ মানুষ। এদিন বিকেলে নো-এন্ট্রির বোর্ড থাকা সত্বেও তা লঙ্ঘন করে শহরের প্রাণ কেন্দ্র কদমতলায় শিলিগুড়ি হলদিবাড়ি রুটে একটি বেসরকারী বাস ঢুকে যায়। সেখানে এক মহিলা ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক করলেও তার কোথায় কোনওরকম কর্ণপাত করেনি বাস চালক, এমনটাই অভিযোগ ছিল। যার জেরে যানজটে প্রচুর যানবাহন রাস্তায় আটকে যায়।
এরিপরই মহিলা ট্রাফিক পুলিশ ফাল্গুনী রায় ঘটনাস্থল থেকে বাসটিকে আটক করে সদর ট্রাফিক অফিসে নিয়ে আসেন। চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজ পত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মহিলা ট্রাফিক পুলিশ ফাল্গুনী রায়ের এমন কাজকে বাহবা দিয়েছেন জেলার পদস্থ পুলিশ কর্তারা। তাদের বক্তব্য, মহিলা কনস্টেবল ফাল্গুনী রায় ভাল কাজ করেছেন।
শক্তির আরেক রূপ হল নারী। দেবীপক্ষের প্রায় শেষলগ্নে সেটারই প্রমাণ দিলেন জলপাইগুড়ির এক মহিলা ট্রাফিক কনস্টেবল। সদর ট্রাফিক ওসি বাপ্পা সাহা বলেন, “ওখানে মহিলা কনস্টেবল ট্রাফিক দায়িত্বে সামলাচ্ছিলেন। মহিলা দেখে তার কথা চালক পাত্তা না দেওয়াতেই বাসটিকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্য করায় তাকে ফাইন করা হয়েছে। মহিলা কনস্টেবল ভাল কাজ করেছে বলে তিনি প্রসংসা করেছেন।” বাস চালক মতিলাল সরকার সাফাই দিয়ে বলেন, “কদমতলা মোড়ে যাত্রী নামাতে গিয়ে গাড়ি ঘোরাতে গিয়েছিলাম। যার জেরে যানজট হয়। সেইসময় আমার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।”
যানজটের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাজেহাল জলপাইগুড়ি শহরবাসী। একদিকে রাস্তা সংকীর্ণ অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা ও গাড়ি পার্কিং। এই কারণে কালীপুজো পর্যন্ত জলপাইগুড়ি শহরে বাস ও ছোটো গাড়ি চলবে না এমনটাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন।