শিলিগুড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে লালটঙ বস্তি। যার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিমি। বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের কাছে তিস্তা নদীর পারে লালটঙ গ্রাম শতাব্দী প্রাচীন হলেও জীবনযাত্রার মানের বিচারে এখনও অনেক পিছিয়ে। মাত্র ৩৬টি পরিবারের বাস এখানে। গ্রামে কোনও দোকানপাট নেই। প্রতিটি বাড়ি কাঠের। দোতালা। নীচতলায় গোশালা। গোরু পোষা আর শহরে গিয়ে দুধ বিক্রি করা তাদের কাজ। ভীষণ কষ্টে বেঁচে রয়েছে লালটঙের এই কয়জন মানুষ। সম্ভবত প্রান্তিকতার কারণেই লালটঙ এবং লাগোয়া চুমুকডাঙি গ্রাম দুটি এখনও একই রকম রয়ে গিয়েছে। শহর বলতে খুব কাছাকাছি রয়েছে শিলিগুড়ি লাগোয়া সালুগাড়া। গ্রাম থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। সেখানেও গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হলে আট কিলোমিটার এমন এক জঙ্গল পেরোতে হয় যেখানে সারা বছর হাতি ঘোরাফেরা করে। জঙ্গলে চরতে গিয়ে গোরু-মোষ প্রায়ই চিতাবাঘের পেটে যায়।
জলরঙ-এ আঁকা ছবির মতো এলাকা হলেও আর্থিক অনটনের নিত্যসঙ্গী বস্তিবাসী মানুষগুলির। আর লকডাউনে সেই দুর্বিষহতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। দুধ নিয়ে তারা সালুগাড়ায় আসতে পারছে না বিক্রি করার জন্য। ফলে এক দুর্বিষহ অবস্থা তাদের। এগিয়ে এলেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা। ৩৬টি পরিবারের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন তাঁরা। কথা দিলেন আবার আসবেন তাঁরা। এদিন সামাজিক দূরত্ব মেনে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ট্র্যাফিক এসিপি রাজেন ছেত্রী, এডিসিপি ট্রাফিক জসমিৎ সিং, ভক্তিনগর ট্রাফিক গার্ডের আইসি সুবীর দত্ত বনবস্তি বাসীর হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন।