আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিড়লা তারমণ্ডলের সামনে ২১ শে উদ্যানে ভাষা শহীদ স্মারকে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ঠিক বেলা তিনটের সময় এই উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্য-মণ্ডিত করেন, সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, বিধায়ক তথা কলকাতার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, মেয়র পারিষদ সন্দীপ রঞ্জণ বক্সি, মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়, বরো চেয়ার পার্সন সুস্মিতা ভট্টাচার্য, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, সাধনা বোস, কাউন্সিলর সোমা চৌধুরী, প্রদীপ কুমার মুখপাধ্যায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক পুর আধিকারিক ও বিশিষ্টগণ।
শহীদ স্মারকে মাল্যদানের পর মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘আজ সকালে দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা শহীদ মঞ্চে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে ২১ শে উদ্যানে ভাষা শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম। প্রতি বছরই এই উদ্যানে আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান পালন করি। মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের প্রত্যেককে আমরা স্মরণ করছি। বাঙালীদের কাছে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য আছে। আমার ভায়ের রক্তে রাঙা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আমরা আজীবন মনে রাখব। মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষা নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি।’
সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায় জানান, ‘আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানাই। আমরা দুই বাংলার মানুষ-ই এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করি। কোনো কাঁটা তারের বেড়া দুই বাংলার মনকে পৃথক করতে পারেনি, আগামী দিনেও পারবে না। মাতৃভাষার জন্য এই আবেগ সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। বাংলা ভাষাকে বিশ্বজনীন করতে আমাদের অভিপ্রায় জারি থাকবে।’
বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার জানান, ‘ যোগেন চৌধুরীর তেরী করা ২১ শে উদ্যানের শহীদ বেদীতে আজ আমরা উপস্থিত হয়েছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই শহীদ বেদীটি তৈরি হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এই বছরেও কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আমরা ভাষা দিবস পালন করছি। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দল যুবক পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জিন্না সাহেবের সিদ্ধান্ত একমাত্র উর্দুভাষাকে জাতীয় ভাষা করার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষরা বিদ্রোহ শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাই-এর রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পরবর্তীকালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। আমরা বিশ্বাস করি ভাষা আমাদের কাছে আবেগ, ভাষা আমাদের কাছে অহঙ্কার।বাংলা ভাষার গড়িমাকে বজায় রাখার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে আমরা সৈনিক থাকব।’