হিমঘরে এখনও প্রচুর পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। তাই হিমঘর চালু রাখার সময়সীমা একমাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করল রাজ্য সরকার। কৃষি বিপণন দপ্তর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সাধারণ নিয়মে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হিমঘরে আলু রাখা যায়। ডিসেম্বর পর্যন্ত আলু রাখার জন্য দক্ষিণবঙ্গে প্রতি কুইন্টালে ১৮ টাকা ৬৬ পয়সা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ১৯ টাকা ১১ পয়সা। অতিরিক্ত ভাড়া ধার্য করার বিরোধিতা করেছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের চেয়ারম্যান লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ালেও প্রথম ১৫ দিনের জন্য কোনও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়নি। এবার প্রথম থেকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। এমনিতেই হিমঘরে আলু রেখে এবার চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে। হিমঘর থেকে এখন ১৪ টাকা কেজি দরে আলু বেরচ্ছে। ভাড়া মেটানোর পর কোনও লাভ হচ্ছে না। প্রায় ১০ লক্ষ টন আলু এখনও হিমঘরে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসেও ওই আলু শেষ হবে না বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। কারণ এর মধ্যে ভিন রাজোর নতুন আলু বাজারে ঢুকে যাবে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং মুখ খুলেছেন চাষিদের সমস্যা নিয়ে। আলুর দাম কম হওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। এজন্য সরকার চাষিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৬.৫০টাকা দরে আলু কিনছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে এ বছর ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্যে হুগলিতে উৎপাদন হয়েছিল ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন। গত বছর হয়েছিল ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন। রাজ্যে খাওয়ার জন্য দরকার হয় ৫৬ লক্ষ মেট্রিক টন। এবারে রাজ্যের ৪৮০টি হিমঘরে আলু মজুত হয়েছিল ১৫ কোটি ৪৮ লক্ষ কিছু বেশি প্যাকেট। গত বছরের তুলনায় এক লক্ষ প্যাকেট বেশি। গত বছর আলু প্রতি প্যাকেট (৫০কেজি) ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এবারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। হিমঘরের ভাড়া মেটাতে পারছেন না অধিকাংশ চাষি। প্রতি বিঘা আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সেখানে আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। যার ফলে হিমঘরে এখনও আলু মজুত রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, ৬৫০ টাকার পরিবর্তে সরকারকে ৮০০ টাকা দরে আলু কিনতে হবে চাষিদের কাছ থেকে।
এদিকে হিমঘরে মজুত রাখা আলুর সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানোয় চাষিরা খুশি। তবে চাষিদের এও দাবি মজুত রাখা আলুর বাড়তি ভাড়া তারা দিতে পারবে না। এ দিকটা সরকারকে দেখতে হবে।