বুথে বুথে ভোটকর্মীরা উপস্থিত, আঁটসাঁটো নিরাপত্তা। রাত পোহালেই নির্বাচন। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন রাজ্যে এক দফায় শান্তিপূর্ণভাবে করতে চায় কমিশন। এজন্য প্রস্তুতি সাড়া। এবার ত্রিস্তর নির্বাচনে রাজ্যের ৬৩ হাজার ২২৯ টি গ্ৰাম পঞ্চায়েত, ৯ হাজার ৭৩০ টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ৯২৮ টি জেলা পরিষদের আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য মোট ৬১ হাজার ৩৪০টি বুথে হবে ভোট গ্ৰহণ পর্ব। এর মধ্যে বেশ কিছু মহিলা পরিচালিত পিঙ্ক বুথ থাকছে। রাজ্যের ৫ কোটি ৬৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯১১ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গাইড লাইন মেনেই বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমজীবী মানুষের বাড়িতে ফেরা ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারে ত্রিস্তর নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল ছাড়াও, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, আই এস এফ ও নির্দল অংশগ্রহণ করেছে। উল্লেখ করতেই হয় রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পগুলি যেভাবে মানুষের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ককে শক্তপোক্ত করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অপরদিকে বিজেপি ও সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব মনে করছে তাদের মানুষ ক্ষমতায় আনবে ।
এদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘ঢাল’ করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা অবতীর্ণ হলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতে রাজি নয় তৃণমূল। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হাইকোর্টকে ধন্যবাদ। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্বাগত। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য শাপে বর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি ২০১১, ‘১৪, ‘১৬, ‘২১ সালের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল। বাংলার মানুষ কিন্তু তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন। তাই এবারে ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে তৃণমূলই ক্ষমতায় আসবে।
প্রসঙ্গত, ভোটের জন্য রাজ্যের জেলায় জেলায় বাস তুলে নেওয়ার জন্য মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। ট্রেকার, ম্যাজিক, অটো ও টোটো করে বাদুরঝোলা হয়ে বাড়ি ফেরেন।
উল্লেখ্য, ভোটগ্ৰহণ শুরু হবে সকাল ৭ টায়। ভোট গ্ৰহণ পর্ব শেষ হবে বিকেল ৫ টায়। গণনা করা হবে ১১ জুলাই। ফল ঘোষণার পরও ১০ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে রাজ্যে। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে গত বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।