বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের মধ্যে একটি অন্যতম পার্বন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। আর পাঁচজন বাঙালি যখন ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজোয় ব্যস্ত তখন তার উল্টো ছবি ধরা পড়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ৭ নম্বর ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ভাণ্ডার গ্রামে। দশমীর পরের দিন থেকে লক্ষ্মী পুজোর আগে গ্রামের কোনও বাড়িতে আমিশ রান্না হয় না। গ্রামের সবাই লক্ষ্মী পুজোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
গ্রামবাসিরা জানান, লক্ষ্মী এখানে কারও বাড়ির নয়, গ্রামের দেবী। চাষ করতে গিয়ে লাঙলের ফলায় জমি থেকে উঠে আসে লক্ষ্মী এবং নারায়ণ মূর্তি। এরপরই সম্পদের দেবী লক্ষ্মীকে তাঁর স্বামী-সহ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে এখানে। সেই থেকেই কষ্টি পাথরের এই যুগল মূর্তিকে ঘিরে হয়ে আসছে উৎসবের আয়োজন। গ্রামের এই লক্ষ্মী পুজোতে অংশগ্রহণ করে এলাকা ছাড়িয়ে দূর দূরান্তের মানুষ।

জানা যায়, আজ থেকে ৪০ বছর আগে লক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামে বাউল উৎসব চলছিল। সেই সময় স্থানীয় গোকুল চন্দ্র বর্মণের জমিতে চাষ করতে গিয়ে, গ্রামের কৃষক নরেশ চন্দ্র বর্মনের লাঙলের ফলায় উঠে আসে একখন্ড কালো পাথর। তাতে খোদিত ছিল লক্ষ্মী নারায়ণের যুগল মূর্তি। মূর্তি পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ হাজির হন ওই মাঠে। খবর পেয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতাত্ত্বিকরাও ছুটে আসেন। পরীক্ষার পর জানা যায় সেটি কষ্টি পাথরের মূর্তি। মূর্তিটি লম্বায় প্রায় দেড় ফুট ও চওড়ায় এক ফুট। প্রশাসনের তরফ থেকে মূর্তিটিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা হলে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পরে, ফলে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় প্রশাসনকে।
সারা বছর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে দু-বেলা পুজো হলেও কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিনটিতে মহাসমারহে পুজোর আয়োজন করা হয় এখানে। প্রতিবছর লক্ষ্মী পুজোর দিন গ্রামের মহিলারা বাড়ির লক্ষ্মী পুজো কোনওমতে সেরে সন্ধ্যার মধ্যে লক্ষ্মী-নারায়ণ মণ্ডপে হাজির হন, কারণ মন্দিরে পুজো না করলে তাদের পুজো সম্পন্ন হয় না। এবছর করোনা বিধি মেনেই পুজো সম্পন্ন করা হবে বলে জানান পুজো কমিটি। পূর্ব ভাণ্ডার গ্রামের লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজোকে কেন্দ্র করে আসে-পাশের গ্রাম থেকে কয়েক হাজার লোকের সমাগম হয়। বিশাল মেলা পাশাপাশি তিন দিন তিন রাত ধরে চলে বাউল গানের আসর।