এর আগেও পঞ্চায়েতে ভাল কাজের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে মমতার সরকার পুরস্কার সবরূপ সাহায্য পেয়েছে। পঞ্চায়েতে কোন রাজ্য কেমন কাজ করছে তা নিয়ে একটি সমীক্ষার আয়োজন করে বিশ্বব্যাঙ্ক। প্রায় দশটি বিষয়ের উপর চোখ রেখে এই সমীক্ষা করা হয়। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত দারুণ কাজ করেছিলো। দু-হাজারেরও বেশি পঞ্চায়েতের উপর সেই সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিটি পঞ্চায়েতকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বা তার বেশি অর্থমূল্যের অনুদান দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যকে বিশ্বব্যাঙ্ক প্রায় ৪২৬ কোটি টাকা অনুদান দেয়।
তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি দুয়ারে সরকার প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সরকারি হিসাব অনুযায়ি ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৯৪.৩০ লাখ মানুষ এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। রাজ্যের বহু জায়গায় দুয়ারে সরকারের এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণের জন্য ভিড় উপচে পড়েছে। এবার বিশ্বব্যাঙ্ক মমতা সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল।
বাংলার মহিলা, তফিসিলি জাতি-উপজাতি, বয়স্ক-সহ আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে বিশ্বব্যাঙ্ক প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯১৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন প্রোগ্রামের আওতায় রাজ্য সরকারকে এই অর্থ ঋণ দেবে বিশ্বব্যাঙ্ক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর রাজ্যে মহিলা উন্নয়নে কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে রূপশ্রী, সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এইসব প্রকল্প চালানোর টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন যেমন ছিল তেমনি বিশ্ব স্বীকৃতিও ছিল। এবার মমতার জনদরদী প্রকল্পে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিল বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের উন্নয়নে যে সমস্ত প্রকল্প চালু করছেন তাতে ১২ কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্য করবে তারা।
মমতার যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে কন্যাশ্রী বিশ্বের দরবার থেকে প্রথম সেরার স্বীকৃতি এনেছিল। যে প্রকল্পে রাজ্যের কন্যাশ্রীদের আর্থিক সাহায্য করা হয়। এই প্রকল্পের ফলে স্কুলছুটের সংখ্যা কমেছে। ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক মহিলার বিয়ে রোখা সম্ভব হয়েছে। তারপর রয়েছে দরিদ্র পরিবারের মহিলাকে বিয়ের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পে টাকা প্রদান।

সম্প্রতি মমতা সরকার চালু করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এই প্রকল্পে জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা ৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১০০০ টাকা করে প্রতি মাসে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। সেপ্টেম্বর থেকেই তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে মহিলাদের হাত খরচের টাকা। সমাজ উন্নয়নে মমতার সরকারের এই কাজের পাশেই দাঁড়াতে চায় বিশ্বব্যাঙ্ক। মেয়েদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে মমতার সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পে যে সাড়া পেয়েছে। এরপরে মেয়েদের মানোন্নয়নে মমতা আরও অনেক পরিকল্পনা করছেন।
এটা ঘটনা মমতা সরকার মহিলাদের সামনে এগিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। সেই কারণে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কোনও পুরুষের নামে না হয়ে বাড়ির মহিলার নামে হচ্ছে। মহিলারাই বাড়ির চালিকাশক্তি। তাই মহিলাদের বাড়ির প্রধানের সম্মান দিচ্ছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। মমতা সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করতে, তাদের ভাবনা-চিন্তাকে আরও সুদূরপ্রসারী করতে চালু করেছে কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প। এর থেকেও বোঝা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী।
প্রসঙ্গত, জাতীয় হারের চেয়ে রাজ্যের শ্রমশক্তিতে মহিলাদের অনুপাত অনেকটাই কম। পশ্চিমবঙ্গে এই হার ১৬ শতাংশ, জাতীয় হার ২৩ শতাংশ। গত এক দশক ধরেই রাজ্যে গ্রাম ও শহর, দুই স্তরেই মহিলা শ্রমশক্তির বিকাশের হার কম। এই ছবিটার বদল দরকার বলে মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যেই মমতা সরকারের তরফে ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে, তারই অঙ্গ হিসাবে মহিলাদের উন্নয়নে চলছে কন্যাশ্রী-রূপশ্রী-লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বয়স্কদের পেনশনের জন্য ‘জয় বাংলা’ প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই সব জনমুখী প্রকল্প শুধু জাতীয় স্তরে নয়, স্বীকৃতি পেয়েছে আর্ন্তজাতিক মহলেও।
এবার মমতার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। তাদের আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তাঁর ভাবনা-চিন্তাকে আরও সুদূরপ্রসারী করবেন তা বলাই যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, সামাজিক ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ুক। তারা আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর হোক। আর তা করতে গেলে তাঁদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেটাই করছে তাঁর সরকার। বিশ্বব্যাঙ্কের মতো সংস্থা যদি তাঁর কাছে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে, তার থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। এই উৎসাহ পেলে তাঁর সরকার কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারবে।