মুখে তিব্বতের সঙ্গে বন্ধুত্বের ভান করে চিন। আদতে বন্ধুত্বের মোড়কে তিব্বতকে লুঠ করতে চায় তারা। ইয়ালং নদীর ওপর যে বিশাল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করার জন্য চিন উদ্যোগ নিয়েছে তাতে চিনের বিশাল লাভ হলেও বিপন্ন হবে তিব্বত। প্রায় ৬০০০ হাজার মানুষ এরফলে গৃহহীন হবে, বহু বৌদ্ধমঠ ডুবে যাবে জলে, ধ্বংস হবে তিব্বতীদের ধর্ম বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত বহু পবিত্র পাহাড়। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, ইয়ালং নদীর ওপরে চিনের এই প্রস্তাবিত লিয়াঙ্গেখাউ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে ইয়ালং নদীর উজানের ১০০ কিলোমিটার ব্যাপী এলাকার মানুষের জীবনে নেমে আসবে এক বিরাট বিপর্যয়। ২০২৩ এ এই কেন্দ্রটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা।

সমস্যাটা আরও গভীরে। যে ইয়ালং নদীর ওপর চিন এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি করছে সেই নদীর উৎস কিন্তু তিব্বতের কুইংঘাই উপত্যকায়। প্রশ্ন হল, কোন বন্ধু রাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে সৃষ্টি হওয়া কোন নদীর ওপর তার প্রতিবেশী দেশ এমন বেআইনি নির্মাণ করতে পারে? এতে তো নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যহত হবে। সত্যি বলতে কি, এতে তিব্বতের কোন লাভ নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। এমনকি এটা তিব্বতের সঙ্গে কোন যৌথ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও নয়। তিব্বতের মত দুর্বল রাষ্ট্র তার প্রতিবেশী ও প্রবল শক্তিধর চিনের বিরুদ্ধে এখনও এ নিয়ে ততটা সরব হয়নি। কিন্তু তিব্বতের মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলি ইতিমধ্যে এব্যাপারে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে।
চিনের দাবি লিয়াঙ্গেখাউ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও চিনের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। চিনের দাবি এই কেন্দ্র বছরে ১১ বিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কিন্তু তাতে তিব্বতের কি? এই কেন্দ্র তো মূলত চিনের শিল্প শহরগুলির বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে। তিব্বতের অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলির দাবি, চিনের উত্তরাংশের জলসংকট মেটাতে তৈরি হচ্ছে এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নদীর জল টেনে নিয়ে নিজেদের সমস্যা মেটাতে চাইছে তারা।

একটি দেশের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে অন্য দেশের নদীর ওপর এবং তা করছে একদা বিপ্লবের বুলি আওড়ানো একটি দেশ! চিনকে যারা চেনেন তারা অবশ্য এতে অবাক হচ্ছেন না। তাদের মতে, এটা চিনের সম্প্রসারণবাদী চরিত্রেরই প্রকাশ। ভারত সীমান্তে বেআইনিভাবে সেনা মোতায়েন করে ঠিক এই কাজটিই করে চলেছে তারা। প্রতিবেশী দেশগুলি নীরবতা ভেঙে এর উপযুক্ত জবাব না দিলে চিনের সম্প্রসারণবাদী মনোভাব পালটাবে না।