বাঙালি চিরকালের ভ্রমণপিপাসু। শুধু বেড়াতেই যায় নি, ফিরে এসে সেই কাহিনি লিখেও ফেলেছে। ভারতবর্ষ নামক এক উপমহাদেশের অভ্যন্তরে দু-চোখ ভ’রে প্রকৃতিকে দেখার, তীর্থকে ভক্তিমণ্ডিত করে তোলার আর সৌধ-ইতিহাস অতীতচারণায় উপলব্ধি করার এত বিচিত্র উপাদান ছড়িয়ে রয়েছে, তা যুগে যুগে কালে কালে অসংখ্য পর্যটককে লেখকে পরিণত করেছে। কেউ খুঁজেছেন প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ, কেউ পুণ্য, আবার কেউ অতীত-ঐতিহ্য। আবার কেউ কেউ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পারি দিয়েছেন বিদেশে। কে নেই সেই তালিকায়? অতি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠিত লেখক, অধ্যাপক-শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ, স্থপতি, প্রযুক্তি প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, ভাষাতাত্ত্বিক, সন্ন্যাসী, উৎকেন্দ্রিক ভবঘুরে এমনকি অতি সাধারণ মানুষও ভ্রমণ পরিক্রমান্তের আনন্দে তুলে নিয়েছেন কলম। প্রকাশ করেছেন গ্রন্থ। এমনকি অনেকক্ষেত্রেই, নিজের পকেটের পয়সা দিয়েই! বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থাদির এই তালিকা সম্পূর্ণ, সে দাবি আমরা করতে পারি না। কারণ, সম্পূর্ণ তালিকা নির্মাণ প্রায় অসম্ভব কাজ! প্রথম যুগের অসংখ্য ভ্রমণ-গ্রন্থ লাইব্রেরি সংগ্রহেও দুর্লভ। অধিকাংশ, গ্রন্থাকারে প্রকাশিত গ্রন্থগুলিই আমরা সংকলিত করেছি। বিখ্যাত মানুষদের কয়েকটি প্রবন্ধেরও উল্লেখ করেছি মাত্র। কিন্তু অসংখ্য সংবাদ সাময়িকপত্রের পৃষ্ঠায় আরও অনেক অনেক ভ্রমণ বিষয়ক রচনা, এই তালিকায় উল্লিখিত হয় নি! বাঙালি রচিত কয়েকটি ইংরেজি ভ্রমণগ্রন্থেরও উল্লেখ রয়েছে। সেগুলির কয়েকটি, বাংলাতেও অনূদিত হয়েছিল।
ভ্রমণার্থী এবং মানস-ভ্রমণ-পিয়াসীদের সহায়ক হলে, আমার শ্রম সার্থক হবে। তালিকাটি লেখক-নামের বর্ণমালা-ক্রমে প্রস্তুত করা হল—
অক্ষয়কুমার দত্ত : প্রাচীন হিন্দুদিগের সমুদ্রযাত্রা ও বাণিজ্য বিস্তার (১৯০১)।
অক্ষয়কুমার নন্দী : বিলাত ভ্রমণ (১৯২৯)।
অখিল নিয়োগী (স্বপন বুড়ো) : ১। সাত সমুদ্র তেরো নদী (১৯৫২), ২। দেশে দেশে মোর ঘর আছে।
অতুলগোপাল রায় : উত্তরাখণ্ডের তীর্থ পর্যটন।
অতুল্য ঘোষ : পত্রাবলী।
অবলা বসু : জাপান ভ্রমণ (১৯১৬-তে ‘মুকুল’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ)।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর : পথে বিপথে (প্রবন্ধ)।
অবধূত/ কালিকানন্দ অবধূত (দুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়) : ১। নীলকন্ঠ হিমালয় (১৯৬৫), মরুতীর্থ হিংলাজ (১৯৫৫), হিংলাজের পরে (১৯৬২), দুর্গম পন্থা (১৯৭৯), ভ্রমণ কাহিনী সমগ্র (১৯৮৪), ৫। কালিতীর্থ কালীঘাট।
অভিজিৎ সেন ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় (সম্পাদিত) : পথের কথা : শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বঙ্গমহিলার ভ্রমণ (কলকাতা, স্ত্রী, ১৯৯৯)।
অমল ঘোষ : দেবভূমি দক্ষিণ।
অমলকুমার দাম : গঙ্গোত্রী-গোমুখ।
অমরেন্দ্র চক্রবর্তী (সম্পাদিত) : সেরা ভ্রমণকাহিনী (১-৩ খণ্ড), যুরাল পর্বতের পাদদেশে, বন্ধুভরা বসুন্ধরা, পকেট ভ্রমণ (১৯৯৮), ভ্রমণ ট্রেকিং (১৯৯৯), ৬। পথে পথেই দেশ।
অমিয়া বসু : বাংলায় ভ্রমণ (১ম ও ২য় খণ্ড)।
অমিতাভ চৌধুরী : অন্য নগর দর্শন (১৯৬২), দুই সফর (১৯৬২), ৩। ভুবন জোড়া আসনখানি (১৯৮০)।
অমিতাভ ভট্টাচার্য : ইউরোপে ১৬ দিন।
অমিয়কুমার চক্রবর্তী : চলো যাই (১৯৬২)।
অন্নদাশঙ্কর রায় : পথে প্রবাসে (১৯৩১), জাপানে (১৯৪৩), বাংলাদেশে (১৯৭৯), ইউরোপের চিঠি (১৯৮২), চেনাশোনা, ভ্রমণ কাহিনী সমগ্র (১৯৯৮)।
অনিরুদ্ধ সরকার : রহস্যে ঘেরা হিমালয়।
অনিলবরণ চৌধুরী : তুষার তীর্থে।
অনুরূপাদেবী : উত্তরাখণ্ডের পত্র।
অজিত ঘোষ : সূর্যোদয়ের দেশে।
অজিত রায় : ঝাড়খণ্ড ইতিবৃত্ত (বাংলার মুখ প্রকাশনা)।
অজিতকুমার মুখোপাধ্যায় : হিমালয়ের টানে।
অতুল পাল : সমুদ্রপথে আন্দামান।
অতুলচন্দ্র গুপ্ত : নদীপথে (১৯৩৭)।
অতুলচন্দ্র মিত্র : প্রবাস-প্রসূন (১৯১৫, পুরুলিয়া)।
অতুলানন্দ লাহিড়ী : কৈলাশ মানসের পথে।
অনাথনাথ দাস : শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন সংক্ষিপ্ত পরিচয় (আনন্দ পাবলিশার্স)।
অনিল কুমার : হিমালয়।
অভিজিৎ ভট্টাচার্য : অজানার ডাকে অচেনার খোঁজে (প্রতিভাস)।
অমিত রায় : কালাপানি আন্দামান (ধানসিড়ি)।
অমিয় রায়চৌধুরী : সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টারে ফিরি খুঁজে।
অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় : রূপমতী নগরী (১৯৭৫), দেখা হয় নাই (১৯৮২), ছড়ায় স্থান বিবরণ (১৯৮৫), দাক্ষিণাত্যের পথে পথে, বাঁকুড়ার মন্দির, ৬। বাঁকুড়া জেলার পুরাকীর্তি।
অমিয়কুমার বিশ্বাস : কাশ্মীরের চিঠি।
অমিতাভ চৌধুরী : স্বর্গের কাছাকাছি।
অজিত সেন : প্রসঙ্গ বরানগর।
অশোক দেব : কুয়েতে এক দশক (কমলিনী প্রকাশন বিভাগ)।
অশোককুমার সাহা : শত শতাব্দীর মহাপত্র।
অশ্বিনীকুমার পাল : দুর্গম গিরি-শিরে।
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় : হাওড়া শহরের ইতিবৃত্ত (১ম ও ২য় খণ্ড, হাওড়া জেলা ইতিহাস প্রণয়ন সমিতি)।
অমূল্য সেনগুপ্ত : হিমতীর্থ হিমাদ্রি, ২। মন চল গঙ্গা যমুনা।
অজয়কুমার নিয়োগী : দূর দুর্গম গোমুখ।
অরুণকুমার সরকার : দক্ষিণায়ন।
অরুণ মুখোপাধ্যায় : দাক্ষিণাত্যের হিন্দুতীর্থ।
অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় : বাঙালি পর্যটকের বিশ্ব পরিক্রমা (১৯৬৯), শাহী দিল্লী (১৯৯৭), ৩। উত্তরবঙ্গ : ফিরে দেখা।
অর্চনা ঘোষ : শ্রী সোমনাথ মন্দির ও দ্বারকাধীশের রাজ্যে ভ্রমণ।
অসিতকুমার হালদার : বাগগুহা ও রামগড়।
অসীমবরণ দে : সিদ্ধিদাত্রী নর্মদার সন্ধানে।
আ.ন.ম. বজলুর রশিদ : ওগো বিদেশিনী (১৯৭৮)।
আনোয়ার হোসেন : আধুনিক জাপান।
আশিসকুমার চট্টোপাধ্যায় : তপোভূমি তপোবনে, ২। স্বর্গারোহণের সন্ধানে।
আশুতোষ ঘোষ : হিমালয়ের তীর্থপথে।
আশুতোষ ভট্টাচার্য : দণ্ডকারণ্যের অন্ধকারে (১৯৭১), পুরুলিয়া থেকে প্যারিস (১৯৭৫), সুন্দরী ইন্দোনেশিয়া (১৯৭৬), ইরান ভ্রমণ (১৯৮০), অজানা অস্ট্রেলিয়া (১৯৮১), জাপানের আঙিনায় (১৯৮১), ৭। অন্ধকারের আন্দামান (১৯৮৩)।
আহসানুল হক : ইবনে বতুতার ভ্রমণ কাহিনী।
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় : অন্যসমাজ ভিন্নজীবন।
ইন্দ্রনীল সারথি : পায়ে হেঁটে গঙ্গাসাগর থেকে গোমুখ।
ইন্দুমাধব মল্লিক : বিলেত ভ্রমণ (১ম ও ২য় খণ্ড, ১৯১০), ২। চীন ভ্রমণ (১৯১১)।
ইব্রাহিম খাঁ : নয়া চীনে এক চক্কর (১৯৭৬)।
ইসমাইল হোসেন সিরাজী : তুরস্ক ভ্রমণ ( ১ম ও ২য় খণ্ড, ১৯১৩)।
ঈশ্বরচন্দ্র বাগচী : তীর্থমুকুর।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত : ভ্রমণকারী বন্ধু হইতে প্রাপ্ত [পত্র] (১৮৫৩, সংবাদ প্রভাকর)।
উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : ১। পঞ্চকেদার (১৩৭৫), মণিমহেশ (১৩৭৬), কুয়ারী গিরিপথে (১৩৭৪), কৈলাশ ও মানস সরোবর (১৩৮৪), ত্রিলোকনাথের পথে (১৩৭৮), শেরপাদের দেশে (১৩৮১), গঙ্গাবতরণ [গঙ্গোত্রী ও গোমুখ] (১৩৬২, রঞ্জন পাব্লিশিং হাউস), কালিন্দী খাল [গঙ্গোত্রী ও গোমুখ ছাড়িয়ে] (১৩৬১, মিত্র ও ঘোষ), হিমালয়ের পথে পথে [বিরোহী, লোকপাল, নন্দনকানন, স্বর্গারোহিণী] (১৩৬১, মিত্র ও ঘোষ), সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি [দেরাদুন, হরিদ্বার] (১৩৬১, মিত্র ও ঘোষ), আফ্রিদি মুলুকে [পাকিস্তান, পেশোয়ার, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি] (১৩৮৫, মিত্র ও ঘোষ), দুধওয়া (১৩৯৯), ক্যালাইডেস্কোপ, জলযাত্রা (১৩৯৬), কাবেরী কাহিনী (১৩৮০), বৈষ্ণোদেবী ও অন্যান্য কাহিনী (১৩৬৮), আরবসাগরের তীরে (১৩৯৯), দুই দিগন্ত (১৩৯৩), তপোভূমি মায়াবতী (১৩৯৭), পালামৌর জঙ্গলে (১৩৮৯), অ্যালবাম সমগ্র (আনন্দ পাবলিশার্স), ২২। ভ্রমণ অমনিবাস’ (৫-খণ্ড)।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী : দার্জিলিং (সটীক সচিত্র সংস্করণ, চর্চাপদ, ২০১৩)।
উমাপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় : ভ্রমণ অমনিবাস।
উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় : মায়াবতী পথে।
উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় : জাপান রহস্য।
উত্তরাখণ্ডের জনৈক যোগী : হিমালয় তীর্থ, উত্তরাখণ্ডের পথে।
উৎপল দত্ত : চীন যাত্রী।
এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায় : দেশে দেশে (বৈ-চিত্র প্রকাশন)।
কমল বন্দ্যোপাধ্যায় : ভারত দর্শন (১৯৬৩), মুর্শিদাবাদ থেকে বলছি (১৯৭৫), চতুর্বিংশ কৃষ্ণ (১৯৮৪), চল যাই পশ্চিমে, যদি যেতে চান, অমরনাথ, অমরনাথ ও কাশ্মীর, কাশী ও বারাণসী, কেদার বদরি, ১০। ছোটদের ভ্রমণ কাহিনী।
কমলা মিশ্র : কাশ্মীর থেকে কুমারিকা।
কানাইলাল দত্ত : দক্ষিণের ভারতবর্ষ (১৯৮১), নীলাচলে (১৯৮১), ৩। শ্রীধাম বৃন্দাবন (১৯৯২)।
কান্তি মিত্র : সুদূরের পিয়াসী।
কালিপদ বিশ্বাস : নতুন জাপান (১৯৫৮)।
কালিদাস চক্রবর্তী : হিমালয় দর্শন (১ – ৫ খণ্ড), ২। পঞ্চকেদার পরিক্রমা।
কালিদাস নাগ : কবির সঙ্গে একশো দিন।
কামনাশিস চক্রবর্তী : তিব্বতে তিন সপ্তাহ।
কিরণশঙ্কর মৈত্র : নগনন্দিনী নাগাল্যান্ড।
কিনখাপ কোমকার : ব্রহ্মপুত্রের উৎস সন্ধানে (১৮৭৯)।
কেদারনাথ দাস : ভারতবর্ষের প্রতীচী দিগ্বিহার (১৮৭৪)।
কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায় : রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পারস্য ও ইরাক ভ্রমণ (১৯৬২), ২। ভারত দর্শন (১৯৭৫)।
কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় : চীনযাত্রী।
কেশবচন্দ্র সেন : Diary in England.
কুমারেশ ঘোষ : ইংরেজের দেশে (১৯৫১), নব্য তুর্কী সভ্য গ্রীস (১৯৬১), সবুজ রাশিয়া (১৯৬৫), জাপান জাপানী (১৯৭৮), ৫। সাগর নগর।
কৃষ্ণলাল বসাক : বিচিত্র ভ্রমণ (১৯১৯)।
কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য : দূরাকাঙ্ক্ষের বৃথা ভ্রমণ (১৮৫৮)।
কৃষ্ণভাবিনী দাস : ইংলন্ডে বঙ্গমহিলা (১৮৮৫, জে এন ব্যানার্জি এন্ড সনস)।
কৃষ্ণা কুণ্ডু : ভুবনেশ্বরের কারুকৃতি।
কৃষ্ণেন্দু দেব : এডভেঞ্চারের আড়ালে (একুশ শতক)।
ক্ষিতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় : সাইকেলে বলকান ভ্রমণ।
ক্ষিতিমোহন সেন : ভারত পরিক্রমা।
খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ : হেফাজ ভ্রমণ [হজ যাত্রার বিবরণ] (১৯২১)।
খান সাহেব আবিদ আলী খান : গৌর-পাণ্ডুয়ার স্মৃতি (সোপান)।
গজেন্দ্রনাথ মিত্র : দেশে বিদেশে।
গণেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় : ভ্রমণ কাহিনী (১৯০৯)।
গণেশ লালওয়ানি : সাতটি জৈন তীর্থ।
গঙ্গাগোবিন্দ বসাক : চারিধাম প্রদক্ষিণ (১ম খণ্ড), ২। কেদার-বদরী ভ্রমণ।
গঙ্গানারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় : গোমুখের লালবাবা।
গোষ্ঠবিহারী ধর : সচিত্র তীর্থ ভ্রমণ কাহিনী বা ভারতবর্ষীয় তীর্থসমূহের মাহাত্ম (১-২-৩-৪ খণ্ড)।
(চলবে)
সংগ্রহ ও সংকলন : শুভাশিস মণ্ডল, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২
শুভাশিসদার লেখনীদক্ষতা এবং বইএর সংগ্রহ ব্যাপক।
অসাধারণ কাজ
শুভ সন্ধ্যা!
ইসমাঈল হোসেন সিরাজির ‘তুরস্ক ভ্রমণ (১ম ও ২য় খন্ড- ১৯১৩) বইগুলো কিভাবে পেতে পারি?
একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ