করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা বিধি বা ‘কমপ্লিট সেফটি রেস্ট্রিকশনস’ জারি করল রাজ্য সরকার। মানুষের সুবিধার কথা ভেবে মা-মাটি-মানুষ সরকার মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু ক্ষেত্রকে ছাড় দিয়েছে। আপাতত কাল, সোমবার ২৩ মার্চ বিকেল ৫টা থেকে ২৭ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত কোনও জেলায় পুরোটাই আবার কোনও কোনও জেলায় জেলা সদর ও পুরসভা এলাকাগুলিতে এই বিধিনিষেধ লাগু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, হাওড়া জেলা ও কলকাতা কর্পোরেশনের পুরো এলাকাতেই এই বিধি লাগু হবে। দেখে নেওয়া যাক এ ছাড়াও কোন কোন এলাকায় এই বিধি প্রযোজ্য হবে:
কোচবিহার: জেলা সদর
আলিপুরদুয়ার: জেলা সদর ও জয়গাঁ শহর
জলপাইগুড়ি: জেলা সদর
কালিম্পং: জেলা সদর
দার্জিলিং: দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও শিলিগুড়ি শহর
দক্ষিণ দিনাজপুর: জেলা সদর
পূর্ব বর্ধমান: জেলা সদর, কালনা ও কাটোয়া শহর
পুরুলিয়া: জেলা সদর
বাঁকুড়া: জেলা সদর, বড়জোড়া ও বিষ্ণুপুর শহর
পশ্চিম মেদিনীপুর: জেলা সদর, খড়গপুর ও ঘাটাল শহর
ঝাড়গ্রাম: জেলা সদর
পূর্ব মেদিনীপুর: জেলা সদর, হলদিয়া, দিঘা, কোলাঘাট ও কাঁথি শহর
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং, সোনারপুর, বারুইপুর, ভাঙড়, বজবজ ও মহেশতলা
উত্তর ২৪ পরগনা: বিধাননগর, নিউটাউন-সহ সমস্ত পৌর এলাকা
এবার দেখা যাক কোন কোন জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হয়েছে:
১) আইনশৃঙ্খলা, আদালত ও সংশোধনাগার
২) স্বাস্থ্য পরিষেবা
৩) পুলিশ, আর্মড ফোর্স ও প্যারামিলিটারি ফোর্স
৪) বিদ্যুৎ, জল এবং নিকাশি বা জঞ্জাল অপসারণ
৫) দমকল, সিভিল ডিফেন্স ও এমার্জেন্সি সার্ভিস
৬) টেলিকম, ইন্টারনেট, আইটি ও আইটিইএস, ডাক পরিষেবা
৭) ব্যাঙ্ক ও এটিএম
৮) রেশন দোকান, মুদিখানা, সব্জি, ফল, মাছ, মাংস, পাউরুটি ও দুধ বিক্রি, এইসব খাদ্যসামগ্রী মজুত ও সরবরাহ করা
৯) মুদি ও খাদ্যদ্রব্যের ই-কমার্স ব্যবস্থা ও হোম ডেলিভারি
১০) পেট্রল পাম্প, এলপিজি গ্যাস, তৈল সংস্থা ও তাদের গোডাউনে মজুত ও সরবরাহ করা
১১) ওষুধের দোকান, চশমার দোকান, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার সামগ্রী তৈরি ও সরবরাহ
১২) যেসব প্রোডাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে কাজ জরুরি তারা জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে কাজ চালাতে পারবে
১৩) প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়া
এর বাইরে সব দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, কারখানা, ওয়ার্কশপ, গোডাউন ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হবে। গণ পরিবহণ বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে ট্যাক্সি ও অটো চলাচল। অবশ্য হাসপাতাল, বিমানবন্দর, রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং খাদ্য ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী গাড়িগুলিকে ছাড় দেওয়া হবে। খুব দরকার না পড়লে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। পাবলিক প্লেসে ৭ জনের বেশি জমায়েতও নিষিদ্ধ হয়েছে। বিদেশ বা বাইরে থেকে কেউ এলে তাঁর গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকা বাধ্যতামূলক। নির্দেশ অমান্য করলে ১৮৮ ধারায় শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।




