করোনার জেরে দেশ-বিদেশে বাতিল হয়ে গিয়েছে নানা অনুষ্ঠান। লকডাউনে নামি থেকে নবীন, সব শিল্পীই পড়েছেন সমস্যায়। কবে সব ঠিক হবে, কবে অনুষ্ঠান হবে তা এখন কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। অর্থনীতির যা অবস্থা হতে চলেছে তাতে গ্রামে তো বটেই, শহরেও যে কবে ছোটো-বড়ো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় আগামী কয়েক বছর তথাকথিত ‘মাচা’ অনুষ্ঠানের সংখ্যা কমবে। এটাই আশঙ্কার। ডেকরেটার্স, সাউন্ড, লাইট, পাবলিক রিলেশনস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, বাদ্যযন্ত্রী, শিল্পী সকলকেই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে এনে ফেলেছে করোনা।
এইসব চিন্তার মধ্যেই রেওয়াজ চালিয়ে যাচ্ছেন কালনায় বড়মিত্রপাড়ার বাসিন্দা, নবীন সঙ্গীতশিল্পী দেবপ্রিয়া সাহা। বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহবধূ। বোন দেবস্মিতা, ওড়িশী নৃত্যশিল্পী, তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আটকে আছে। দেবপ্রিয়া অর্থনীতিতে পিএইচডি করছেন। কালনা থেকে উঠে আসা এই সঙ্গীতশিল্পী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের নানা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় হন। বেশ কয়েকটি সিডি রয়েছে তাঁর। করোনা পরিস্থিতিতে দেবপ্রিয়ার বিদেশ সফর বাতিল হয়ে গেল, যা তাঁর কেরিয়ারে বড়ো ধাক্কা।
মেলবোর্নে ২০ ও ২১ জুন বাংলা ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার কথা ছিল দেবপ্রিয়ার। সেটি বাতিল। আমেরিকাতে সেপ্টেম্বর মাসে ন্যাশভিলে একক রবীন্দ্রসঙ্গীত ও লোকসঙ্গীতের অনুষ্ঠান ছিল। বাতিল ঘোষণা না হলেও আমেরিকার যা পরিস্থিতি তাতে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই মন খারাপ আর উদ্বেগ লকডাউনে গান গেয়েই কাটাচ্ছেন দেবপ্রিয়া। সময় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা গানের রেওয়াজ আর বাড়ির লোকদের সঙ্গে সময় কাটানো, গান শোনা। লকডাউনে এটাই দেবপ্রিয়ার রুটিন। বড়ো শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন বুকে তাই কখনও দেবপ্রিয়ার গলায় ‘আমরা করব জয়… ‘, কখনও আবার আঁকড়ে থাকা রবীন্দ্রনাথে।
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে…..নবীন সঙ্গীতশিল্পী দেবপ্রিয়া সাহা
আমরা করবো জয়…নবীন সঙ্গীতশিল্পী দেবপ্রিয়া সাহা