বিজেপি মানেই যেন সব নিয়মের ঊর্ধ্বে! নিজের পদ বাঁচাতে খুশি রাখতে হবে বিজেপিকে। আর তাই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার লকডাউনের বিধিনিষেধ অগ্রাহ্য করলেন। যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
লকডাউনে জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহন ছাড়া এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাতায়াত যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে নীতীশের বদান্যতায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুড়ি মেরে ওড়ালেন বিজেপি বিধায়ক। ওই বিধায়ক অনিল সিং জানান তাঁর মেয়ে কোটাতে ডাক্তারি পড়েন। সেখানে তিনি যেখানে থাকেন তাঁর সহপাঠী সকলেই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ফলে একলা থাকা মেয়েকে পাটনা ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হই। নীতীশ ই-পাসের আবেদন করতে বলেন। সেই পাস পেয়েই গাড়ি পাঠিয়ে পাটনা নিয়ে এসেছি। মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করে যেমন বিধায়কের দায়িত্ব পালন করছি, মেয়েকে বাড়ি এনে বাবার কর্তব্য পালন করেছি!

বাংলা আর বিহারের ফারাকটাও এবার সকলের সামনে তুলে ধরা যাক। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ পুলিশকে জানিয়েছেন, যে যত বড়ো লাটসাহেব হোক না কেন, কেউ কারও বন্ধু হোক না কেন, লকডাউনে কাউকে রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কোনও বিধায়ক বা সাংসদের সুপারিশ থাকলেও এটা করা যাবে না। বন্ধুত্ব নয়, দেশের স্বার্থ আগে। আর বিহারে? বিজেপি বিধায়ক অন্যায় করলেন, তাতে সায় দিলেন নীতীশ!এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি বলেন, কোটায় বিজেপি বিধায়কের মেয়ে একাই শুধু পড়েন না, বিহারের আরও অনেক ছেলে-মেয়ে সেখানে আটকে রয়েছেন। তাঁদের রাজ্যে ফেরানোর আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন নীতীশ কুমার। কিন্তু সেখান থেকেই বিজেপি বিধায়কের মেয়েকে ফিরিয়ে আনার অনুমতি দিয়ে কী প্রতিপন্ন করতে চাইলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী?