করোনা মোকাবিলায় এবার গোটা দেশে ৩ সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ২৩ মার্চ মধ্যরাত থেকেই তা কার্যকর হবে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে এদিন হাতজোড় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দয়া করে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। এই তিন সপ্তাহ বা ২১ দিন সারা দেশে লকডাউন নিশ্চিত না করা গেলে আমাদের দেশ আরও ২১ বছর পিছিয়ে যাবে। করোনা অনেক শক্তিশালী দেশকেও অসহায় অবস্থায় ফেলেছে। সব চেষ্টা করা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ বাড়ছেই। একে ঠেকানোর একমাত্র পথ সামাজিক দূরত্ব। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং শুধু আক্রান্তের জন্য নয়, সব নাগরিক, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর জন্যও প্রযোজ্য। এটা না মানলে দেশকে বড়ো মূল্য চোকাতে হবে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত কিনা তা প্রথমদিকে কেউ বুঝতেই পারেন না।

তাই সংক্রমণ এড়াতে সকলে বাড়িতেই থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে বেরোলেও সতর্ক থাকতে হবে। করোনা মোকাবিলায় সবরকম চিকিৎসাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে পিপিই, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন খাতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ভারত যে জায়গায় আছে সেখানে আমাদের বর্তমান পদক্ষেপ ঠিক করবে আগামী দিনে এই করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে আমাদের দেশকে কতটা রক্ষা করা গেল। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কোনও অভাব হবে না। গুজব, কুসংস্কারে কান দেবেন না, চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।

যাঁরা স্বাস্থ্যের কাজে সর্বদা নিয়োজিত বাড়িতে থেকে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করুন। সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাগাতার সংবাদ পরিবেশনে নিয়োজিত সংবাদকর্মীদের জন্যও সকলকে প্রার্থনা করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ২১ দিন লম্বা সময়। নিশ্চিতভাবেই এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে, কিন্তু এই লকডাউন আপনার ও পরিবারের জন্য জরুরি। মানুষের স্বাস্থ্যের উপর কিছু হয় না। আমার বিশ্বাস, ভারতীয়রা শুধু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সক্ষম হবেন না, আমরা এই সংকট কাটিয়ে জয়ী হবো।
প্রধানমন্ত্রী সব বললেন। তবে লকডাউনে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন-সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্তদের কী হবে তা নিয়ে কিছুই বলেননি প্রধানমন্ত্রী।