আজ ৭ এপ্রিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ২০২২ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের থিম হল “আমাদের গ্রহ, আমাদের স্বাস্থ্য”। জল, মাটি, হওয়ায় দূষণের মাত্রা বাড়তে বাড়তে বিষ মিশেছে সর্বত্র। ক্যান্সার, হাঁপানি, হৃদরোগের মতো রোগগুলি ক্রমবর্ধমান। দূষণে জর্জরিত পৃথিবীতে সুষ্ঠুভাবে ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে WHO মানব ও গ্রহকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপগুলির উপর বিশ্বব্যাপী মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে এবং সমাজ গঠনের জন্য একটি আন্দোলন গড়ে তুলবে।
আক্রান্তের সংখ্যা কমার ফলে ,আগের মতো আবার যেন ফুরফুরে মেজাজে ফিরে আসছে চেনা শহরটা। অলিগলি তে ভেসে আসছে সেই চেনা সুর,চেনা ছন্দ। লোকাল ট্রেনের কামরায় মানুষে মানুষে জড়াজড়ি, ভালোবাসা, গালাগালি, চেঁচামেচি। ট্রেনের দরজায় সহস্র কিলোর চাপ। চিচিং ফাঁক হয়ে যাওয়া ইকো পার্ক, সায়েন্স সিটি, চিড়িয়াখানা, মায়াপুর, হাজারী দুয়ার… ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানগুলি ঘিরে হাতে হাত রেখে খুনসুটির সেলফিতে কেমন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে ছোটখাটো ভিড়।

চলছে, তপ্ত আলোচনার পাড়ার চায়ের দোকানগুলোয় পাশাপাশি বা মুখোমুখি বসে ডিমটোস্ট, বাপুজি কেক সহযোগে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতে হরেক রকম গুলতানি, কাউন্টারের আদান-প্রদান। সেলের মরশুমে নিজের পছন্দের জিনিসটি সংগ্রহ করার জন্য অন্যের ঘাড় টপকে গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার বিজয়উল্লাস।
রোজের সেই কেজো, হতাশা, ক্লান্তিভরা জীবনটাকে এক ঝটকায় দূরে সরিয়ে মখমলের মতো বিছানো সবুজ ঘাসের গালিচায় পা দিয়ে, একটু উদার আকাশের নিচে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেওয়ার ইচ্ছা আবার শুরু হয়েছে।
এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ দেশে কম। উঠে গেছে কোভিড-বিধি। এই পরিস্থিতিতে আপনার পাশে বসা বা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে যদি জিগ্যেস করেন, ‘মাস্ক পরেননি কেন?’
উত্তর আসবে, ‘এদ্দিন ধরে মুখে ঠুসে রইলাম, আর কত? কবে থেকে বেরুচ্ছি, কিস্যু হয়নি! যারা বেশি সাবধানী, তাদের বেশি হচ্ছে…’
‘আপনি তো পরেছেন, আবার আমার কী দরকার?’
প্রশ্ন উঠছে, মাস্কের ব্যবহারে উদাসীন ও বেপরোয়া মনোভাব ফের নতুন কোন বিপদের সূচনা করবে না তো? বাংলা-সহ সাতটি রাজ্যে ডেল্টাক্রনের (Deltacron) হদিস মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বারংবার বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকলেই মাস্কের অস্ত্রে ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে ডেল্টাক্রন হোক বা করোনার যে কোন ভ্যারিয়েন্ট। কোভিড নাক-মুখ থেকে বেরোনো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই মাস্ক সংক্রমণ প্রতিরোধ কমায়।

বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাগুলি ০.০১ থেকে ১০০ মাইক্রন অবধি আকারে হতে পারে। ভাসমান এই কনাগুলির মধ্যে ডাস্ট, ফ্লাই অ্যাশ, সিমেন্টের, কয়লার গুঁড়ো ইত্যাদি ধুলো ও ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করে নানা ধরনের সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। শুধু করোনা নয়, বিভিন্ন ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ এড়াতে মাস্কের ব্যবহার অপরিহার্য। ব্যক্তিগত স্তরে সচেতন না হলে বিপদের আশঙ্কা খুবই।
একটি গবেষণা বলছে, মাস্ক পরলে শ্বাস নেওয়ার সময় যে বাতাস আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে, তাতে আর্দ্রতা বাড়িয়ে তোলে মাস্ক। আর তাতেই হয় উপকার।
এছাড়া নাক ও ঠোঁটের গঠনগত ত্রুটি ঢেকে পটলচেরা চোখের কদর বাড়িয়ে তোলে মাস্ক। আর ‘চোখের আমি, চোখের তুমি, চোখ দিয়ে যায় চেনা’ বা ‘চোখে চোখে কথা বলো’ ব্যাপারটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
গড়ুর পাখির মতো মাস্ক পরে চলার সময় আইডেন্টিটি লুকানো যায় তাতে কিছু জনের সাময়িক লাভ হয় বৈকি। এছাড়া রাস্তায় নাকের সাফাই, হাঁচি, কাশি, এখানে সেখানে থুতু ফেলার মতো জঘন্য কাজগুলো বন্ধ হবে কিছুটা।
সম্প্রতি ফ্যাশন ডিজাইনারদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিভিন্ন ধরনের এক্সক্লুসিভ মাস্ক বাজারে উপস্থিত। কাঁথা স্টিচ, এমব্রয়ডারি, তুলির ছোঁয়া নক্সা শুধু নয় রয়েছে বহু কর্পোরেট সংস্থা, বিশেষ করে পাঁচতারা হোটেল বা রেস্তোরাঁর কর্মীদের জন্য, রাজনৈতিক দলের জন্য, স্কুলের ইউনিফর্মের ম্যাচিং, বিভিন্ন ড্রেসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হরেক রকমের মাস্ক। মাস্ক রাখার জন্য বাড়ির ওয়ারড্রবে একটি নতুন খাপ বানাতে হচ্ছে।

অপাত্রে জ্ঞান, উলুবনে মুক্তো ছড়ানো যাই বলুন না কেন, নিজেকে ভালোবাসলে বা আপনজনের সুরক্ষার তাগিদে বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতেই হবে। দয়া করে কান ঝোলা, ঠোঁটবন্ধনী, থুতনি কভার, হেয়ার ব্যান্ড হিসাবে মাস্ক ব্যবহার না করে সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পড়ুন। আপনার অসাবধানতা অন্য কারোর জীবনে ভয়াবহতাকে ডেকে না আনে।
মহামারী অন্যান্য অসুখ মোকাবিলা কররার জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীরা আজো আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ এই বিশেষ দিনটিতে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমরা কেউই মৃত্যুঞ্জয়ী নই, তবে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্নের মাধ্যমে বার্ধক্যেও আমরা জরা-ব্যাধিমুক্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারি। আপনার স্বাস্থ্য আপনার সম্পদ- প্রতিদিন এর যত্ন নিন।এই দেশটা আমার আপনার। একে সুস্থ রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।
‘আমার এই দেশেতে জন্ম যেন, এই দেশেতে মরি’ তবে মরবার আগে নিজের দায়িত্ব পালন করে মরি।
খুব ভালো হয়েছে।
Happy healthy day