কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে ড্যানি মরিসন প্রশ্নটা করেই ফেলেছিলেন। এটাই কি আই পি এলে জীবনের শেষ ম্যাচ? হাসিমুখে মহেন্দ্র সিং ধোনির উত্তর, ‘অবশ্যই না, এটা আমার শেষ আই পি এল ম্যাচ নয়’। ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। পরের আই পি এলেও তাহলে বাইশ গজে দেখা যাবে ‘ক্যাপ্টেন কুল’কে।
কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। আর কতদিন? ধোনিভক্তরাও তাদের প্রিয় ক্রিকেটারের ব্যর্থতায় বেদনাহত। পাশাপাশি যথেষ্ট বিরক্ত। তাঁরা তো এই ধোনিকে দেখতে অভ্যস্ত নন। ব্যাটে রান নেই। উইকেটের পেছনেও আগের মতো ক্ষিপ্র নন। নেতৃত্বেও কিছুটা হলেও যেন মরচে ধরেছে। এইভাবে আর কতদিন টানবেন?
সবকিছুই তাঁর কাছে আচমকা। যেদিন টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, তার আগে ঘূণাক্ষরেও কাউকে জানতে দেননি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘটনাটাও একই। বাকি থাকল আই পি এল। আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে মরিসনের প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলে দিলেও হঠাৎ কোনও দিন হয়তো শোনা যাবে আই পি এল থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিলেন ধোনি।

সত্যিই তো আর কতদিন? মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে অনেক আগেই প্রশ্ন উঠে গেছে। আইপিএলে একের পর এক ব্যর্থতায় প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়েছে। নিজের নামের সঙ্গে একেবারেই সুবিচার করতে পারছেন না। ‘ফিনিশার’ তকমাও হারিয়ে ফেলেছেন। এরপরেও কি ধোনির খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত? সম্মানজনক বিদায় নেওয়াই কি ভাল নয়? এবারের মতো খারাপ আই পি এল ধোনির আগে কখনও হয়নি। আই পি এল ইতিহাসে এবছরই প্রথম ধোনির ব্যাটে অর্ধশতরান নেই।
ধোনির অবসরের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ১৯৯৪ সালের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। ফরিদাবাদে ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। কপিলদেব রান নেওয়ার সময় পড়ে গিয়ে রান আউট হন। সেদিনই কপিলদেবের মনে হয়েছিল তাঁর অবসর নেওয়ার সময় হয়ে গেছে। বয়স একটা ফ্যাক্টর। ধোনিরও বয়স হয়েছে। নাম দিয়ে বেশিদিন টানা যায় না। পারফর্ম করতে হবে। সেই পারফরমেন্স কোথায়?
টেকনিকের বাইরে গিয়েও ভাল খেলা যায় ধোনি দেখিয়ে দিয়েছেন। সেই ধোনির এইরকম পরিণতি সত্যিই খুবই বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিল। বয়সটাও একটা ফ্যাক্টর। ক্রিকেট ছেড়ে বেশকিছুদিন নিভৃতবাসে চলে যাওয়াটা ধোনির কাছে ওটা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাচে থাকলে এই সমস্যা হত না। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছে বয়স একটা ফ্যাক্টর। এটা মাথায় রাখতে হবে ধোনির বয়স এখন ২৯–৩০ নয়, ৩৯ পেরিয়ে গেছে। আগে উইকেটে সেট হয়ে গিয়ে ম্যাচ শেষ করে আসত। এখন আর পারছে না। শুধু ধোনি নন, চেন্নাই সুপার কিংস এবার পুরোপুরি ব্যর্থ। যার প্রভাব এসে পড়ছে ধোনির ওপর।

ধোনি কি ফুরিয়ে গেছেন? সাধারণ সমর্থকদের পাশাপাশি চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্টের মনে এই প্রশ্নটাই উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। এছাড়া ধোনির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে। একের পর এক ম্যাচে ফ্লপ করা সত্ত্বেও কেদার যাদবকে নিয়মিত সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভালভাবে নেয়নি চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট।
তিন–তিনটি আই পি এল খেতাব চেন্নাই সুপার কিংসের মুকুটে। প্রতিবছরই প্লে অফে খেলার সুযোগ পেয়েছে। শুধুমাত্র এই বছরই প্লে অফের আগেই ছিটকে যেতে হয়েছে। এর জন্য কি শুধু ধোনিই দায়ী? প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই ধাক্কা। সুরেশ রায়না, হরভজন সিংরা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন আই পি এল থেকে। সুরেশ রায়নার না থাকাটা কিন্তু বড় ধাক্কা। রায়নার বিকল্প হিসেবে যার ওপর ভরসা করেছিলেন ধোনি, সেই কেদার যাদব চূড়ান্ত ব্যর্থ।
তাছাড়া চেন্নাই সুপার কিংসের ওপর বসে গিয়েছিল ‘ড্যাডিস আর্মি’ তকমা। বয়স্ক ক্রিকেটারে ভর্তি। ধোনি থেকে শুরু করে শেন ওয়াটসন, ফাফ ডুপ্লেসি, ইমরান তাহির, পীযূষ চাওলা, কেদার যাদব। এই বয়স্ক ক্রিকেটাররাই ভুগিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসকে।
ধোনিকে ছাড়া চেন্নাই সুপার কিংসকে ভাবা কঠিন হলেও টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পরের আই পি এল থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ধোনির মস্তিষ্ক কাজে লাগানোর জন্য মেন্টরের কথা ভাবতেই পারে কর্তৃপক্ষ। ‘ক্যাপ্টেন কুল’ কি সেই প্রস্তাব মেনে নেবেন? যদিও কদিন আগে চেন্নাই সিইও কাশী বিশ্বনাথন বলেছিলেন, পরের আই পি এলেও ধোনির হাতে থাকবে নেতৃত্বের ব্যাটন। ছয় মাসের মধ্যে আবার আই পি এলের আসর বসবে। সেই হিসাবে আরও একটা আই পি এলে খেলতেই পারেন। সম্মানজনক বিদায় নেওয়াটাই শ্রেয়। এই আই পি এলের ব্যর্থতা পুশিয়ে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।