ইনি মহেন্দ্র সিং। সেলেব্রিটি ধোনি নন! কেবলই মহেন্দ্র। নামগোত্রহীন এক ঝালমুড়িয়ালা। দাঁতবিহীন মানুষদের রসনা তৃপ্তির জন্য অভিনব এক যন্ত্র নিয়ে পথে পথে ফেরি করেন ঝালমুড়ি। ঝালমুড়ির অনুসঙ্গ চানাচুর, বাদাম, ছোলা, নারকেল কুচি, লঙ্কা পেষাই হয় ওর হাত-যন্ত্রে। এরপর বড় এক পাত্রে মুড়ির সঙ্গে মিশেল হয় পেষাই করা যাবতীয় উপাদান। সঙ্গে একটু আচার। চল, এবার খেয়ে দেখো। সে এক অপূর্ব আস্বাদ।
সদা হাসি মুখে মহেন্দ্র ফোকলা মুখো, দাঁতে ব্যথা, না দাঁতের মানুষের মুখে তুলে দেন ঝালমুড়ির জিভে জল সোয়াদ।

প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু ওর এই অভিনব বিক্রি-কথা। চলে রাত নটা অবধি। বাড়িতে স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে। অভাবী মহেন্দ্রর নেই কোন জমি, নেই আয়ের আর কোন উৎস। সাইকেলেই ওর বানিজ্য বহর! সাইকেলও দেখবার মত। ব্যাটারি চালিত যন্ত্রে চলে, নেই কোন ব্রেক। ব্রেক নেই কেন? লাগেনা, নেই কোন বাধা — সলজ্জ হাসি মহেন্দ্রর মুখে।
চলে সংসার? একগাল হাসি মহেন্দ্রর চোখেমুখে। চলে যায়, চলে যাচ্ছে।

বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার সোনাডিহি গ্রামের সোনা ছেলে মহেন্দ্র লকডাউনের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সংসার সুসার করতে পথে। ওর দেখা মিলবে সোনামুখীর সিনেমাতলায়। ব্যতিক্রমী এক যুবক মহেন্দ্র, যে নিজের পসরা বিক্রি করার অভিনব এক পন্থা উদ্ভাবন করেছে।
ও কোন সেলিব্রিটি নয়। কেবলই এক গ্রাম্য যুবক। গান করেনা, চিৎকার করে নিজেকে জানান দেয়না, বিজ্ঞাপন কি জানেনা, কেবল জানে জীবন চলে নিজের গতিতে, তাতে কেবল একটু রঙ এর ছোপ দিতে হয়। ওর কথায়, চলে যাবে, চলে যাচ্ছে দাদা, আমার ঝালমুড়ি সকলে ভালবেসে কিনুক, আর কি চাই; এই আমার চাওয়া মাত্র।