২০১৯ সেপ্টেম্বরের এক বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিভেজা সকালে দক্ষিণ কলকাতার এক পুরনো বাড়িতে শুটিং শুরু করেছিলেন পরিচালক অতনু। তাঁর কথায়, একটা দিনের গল্প। দুই মানুষের পনেরো বছর পরে দেখা। পনেরো বছর আগে তাদের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এই পরিণত দুই মানুষের যখন এক দিনের জন্য দেখা হয় তখন স্বভাবতই ওইটুকু সময় তাদের প্রেম তৈরি হয়ে যাবে এমনটা আশা করা ঠিক নয়। তা হলে কী হতে পারে? সেটাই বলবো ‘রবিবার’ ছবিতে।
অসীমাভের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সায়নীর ভূমিকায় জয়া আহসান। ছকভাঙা, খানিক বোহেমিয়ান অসীমাভ আর স্মার্ট-কর্পোরেট অফিসার সায়নীর পনেরো বছর পরে দেখা। প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত দু’জন মানুষের মধ্যেকার ‘ব্যাটল অফ উইটস’ই এ ছবির উপজীব্য। বহু দিনের পুরনো একটা ভালবাসা, যা শেষ হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত ভাবে। ফিরে যাওয়ার রাস্তাও পুরোপুরি ভাবে বন্ধ। একটা রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনার আকস্মিকতায় কী ভাবে কাটিয়ে দেয় দুই প্রাক্তন, তা নিয়েই এগোবে কাহিনি। অতনু বললেন, ‘‘এই ছবিটা প্রসেনজিৎ-জয়াকে মাথায় রেখেই লেখা। এখনও পর্যন্ত এত জটিল মনস্তত্ত্বের চরিত্র কখনও লিখিনি। সেই জন্যই এই দুই তুখড় অভিনেতাকে নেওয়া।’’
‘রবিবার’ ইতিহাস গড়েছে বাংলা ছবির দুনিয়ায়। মঙ্গলবারে ‘রবিবার’-এর সুখবর জানালেন পরিচালক অতনু ঘোষ। তাঁর এই ছবি আন্তর্জাতিক মাদ্রিদ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০-তে আবারও সম্মানিত। আরও একবার ‘সেরা অভিনেতা’র সম্মানে সম্মানিত ছবির নায়িকা জয়া আহসান। ‘সেরা মূল চিত্রনাট্য’র শিরোপা পেল ‘রবিবার’। পরিচালকের উচ্ছ্বাস, ‘কিছু দিন আগেই উৎসব কমিটি এই ঘোষণা করেন। স্পেনে লকডাউন চলছে। তাই ট্রফি আসতে কিছু দিন সময় লাগবে।’

জয়া তাঁর ফেস বুক পেজে লিখেছেন, মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০–এ ‘রবিবার’ ছবির মুকুটে দুটো পালক যুক্ত হলো। সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেলেন এ ছবির পরিচালক অতনু ঘোষ। এই দুঃসময়ে আমাদের সবার জন্য কী একটা দারুণ সুখবর নিয়ে এলে অতনুদা! অনেক অভিনন্দন তোমাকে, অনেক অনেক ভালোবাসা। বিদেশি চলচ্চিত্রে সেরা নারী অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আমাকে। এত এত ছবি আর বাঘা বাঘা অভিনয়শিল্পীর মধ্যে আমার ভাগ্যেই যে পুরস্কারটা এল, সিংহভাগ অবদানই তোমার। এমন একটা ছবি তুমি না বানালে, চরিত্রের জন্য আমার ভেতরটা নিংড়ে না আনলে এ সৌভাগ্য কি আমার হতো? রবিবারের সব শিল্পী আর কুশলীকে আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।
তিনি আরও বলেন, ‘বুম্বা দা (প্রসেনজিৎ) আমাকে সমানতালে সহযোগিতা না করলে এতো কঠিন চরিত্র করতেই পারতাম না। খুব কঠিন একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি। এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা আন্তর্জাতিক পুরস্কার।’
এই ছবিটার শুটিং চলাকালীন এক সাক্ষাতকারে প্রসেনজিত জানিয়েছিলেন, ‘ময়ূরাক্ষী’র পর আর এক বার পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন তিনি। ‘‘এত দিনে সেই সুযোগটা হল। এই স্ক্রিপ্টটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অতনু এমন একজন পরিচালক, যার সঙ্গে কাজ করার জন্য যে কোনও অভিনেতাই উৎসুক হয়ে থাকে। চেনা ছকের বাইরে, একদম অন্য রকম ভাবে গল্পটা বলতে জানে ও। অসীমাভের মতো চরিত্র সচরাচর কেউ ভাবেন না। তাই এটা একটা চ্যালেঞ্জও বটে।
আত্মানুসন্ধানের এক জার্নির গল্প ‘রবিবার’। অতনুর ছবিতে কাহিনি কখনও মুখ্য হয় না। জার্নির মধ্য দিয়ে আবেগের রূপকথা বোনেন তিনি।