নবরূপে সেজেছে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির। ভক্তদের দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রার পীঠস্থান মাহেশকে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে ভারতের মানচিত্রে তুলে ধরা হবে। সেই মতো কাজও শুরু হয়ে গেছিল দ্রুতগতিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে হুগলি জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও অন্যান্য মন্দির সংলগ্ন জায়গাগুলির উন্নতিসাধনে পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ২০১৭ সাল থেকে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে আসছেন। কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।
৬২৫ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ হলে গতকাল ও আজ এক অনুষ্টানের মাধ্যমে রত্নবেদীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলো জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। মূল মন্দির-সহ ভোগের ঘর, প্রসাদের ঘর, মন্দির সংলগ্ন অন্যান্য দেবদেবীর মন্দির সংস্কারের কাজও শেষ।

পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন স্বয়ং উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে এই সংস্কারের কাজ খতিয়ে দেখেছেন। তারপর তিনি জেলাশাসক, বিধায়ক, ট্রাস্টি বোর্ডের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এর ফলে এখানকার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। মন্দির সংলগ্ন জিটিরোডের ওপর সুদৃশ্য তোরণ তৈরির কাজও শেষের পথে।
শ্রীরামপুরের বিধায়ক জানিয়েছেন , মাহেশ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ির মন্দির সংস্কারের কাজ চলছে। মাহেশের গঙ্গার তীরে একটি মনোরম পার্ক তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। মন্দিরের পার্শ্ববর্তী মাঠটিও সংস্কার করা হবে। এরই পাশাপাশি, জি টি রোডের দুধারে সৌন্দর্যায়নের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান তিনি। বিধায়ক সুদীপ্ত রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন তাই করেন। এটা চালু হলেই সেটা বুঝতে পারবেন রাজ্যের মানুষ। মাহেশে পর্যটন দফতর তৈরি করছে ইকো ট্যুরিজম রিসোর্ট। এখানে থাকছে ৭টি কটেজ ও ডরমিটরি, পিকনিক স্পট ও লোকশিল্পীদের জন্যে অনুষ্ঠানের জায়গা।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জগন্নাথ মন্দিরে প্রস্তাবিত অতিথিশালার কাজ এখনও চলছে। প্রবেশদ্বার, স্নানপিড়ি মাঠের কাজ, স্নানমঞ্চ, দোলমঞ্চ সংষ্কার এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ বাকি আছে। মন্দিরের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানিয়েছেন, ওই সব কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেই অনুরোধ আমরা রাখব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। জগন্নাথ দেবের মন্দিরে নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা এবং হোমযজ্ঞ কর্মাদি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রমমন্ত্রী ও পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না, আনন্দময়ী মাতার সাধিকা মিতা মা, প্রধান পুরোহিত সৌমেন্দ্র অধিকারী।