অতিমারীর জন্য গত দু-বছর মাহেশের জগন্নাথদেবের রথ পথে নামতে পারেনি। এমনকি স্নানযাত্রাতেও প্রকাশ্যে আসেনি। ভক্তদের মনোবাঞ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। এবার ভক্তরা তাদের মনোবাঞ্ছা ষোলোআনা পুষিয়ে নিতে চান।
উল্লেখ্য, শ্রীরামপুরের মাহেশের রথকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে বাঙালির আলাদা আনন্দ-উৎসব। লক্ষাধিক মানুষের ভিড় সামলাতে প্রশাসনও তৈরি। ৬২৬ তম রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথদেবের রথের রশিতে টান দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত পুণ্য অর্জন করবেন। সেই পুণ্য ক্ষণের অপেক্ষায় ভক্তরা।
শ্রীরামপুরের মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, ১৬ আষাঢ় ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী মাহেশের ৬২৬ তম বর্ষে পূর্ণাঙ্গ রথযাত্রা হবে। অর্থাৎ জগন্নাথদেবের মন্দির থেকে দেড় কিমি দূরে মাসির বাড়িতে রথ নিয়ে যাওয়া হবে। দ্বাদশ গোপাল উৎসব, নামকীর্তন, বিপত্তারিণী উৎসব, হোড়া পঞ্চমী ইত্যাদি সমস্ত কিছু উৎসব বিধি অনুযায়ী পালন করা হবে। ভক্তদের ভিড় সামলাতে প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থবিষয়ক দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মাহেশের রথের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বৈদ্যবাটির এক ভক্ত প্রথমে মন্দিরের রথ দান করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৭৯৭ সালে ঠাকুর রামকৃষ্ণের এক বিখ্যাত শিষ্য বলরাম বসুর দাদা কৃষ্ণরাম বসু একটি রথ দান করেন। সেই রথ অনেকাংশে ভেঙেচুরে গেলে কৃষ্ণরামের পুত্র গুরুপ্রসাদ ১৭৯৮ সালে আরও সুন্দর করে নয় চূড়া বিশিষ্ট নতুন রথ নির্মাণ করে দেন। দুর্ভাগ্যক্রমে ১৮৮৪ সালে রথযাত্রার দিন বল্লভপুর গুণ্ডিচা বাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় রথটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন শ্যামবাজারের বসু পরিবারের সদস্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হুগলির দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্র বসু রথ নির্মাণ করিয়ে দেন। ১৮৮৫ সাল থেকে সেই রথ টানা হয় এবং সেই রথই এখন বর্তমান। চারতলা বিশিষ্ট রথটি সম্পূর্ণ লোহার কাঠামোর উপর কাঠ দিয়ে তৈরি। উচ্চতা ৫০ ফুট। ওজন ১২৫ টন।এক ফুট বেড়-এর বারোটি লোহার চাকা আছে। চারতলায় দেবতাদের বিগ্রহ বসানো হয়। আর রথের সামনে তামার ঘোড়া লাগানো থাকে। এভাবেই চলে আসছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শান্তি-শৃংখলা যাতে বজায় থাকে এজন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।