অনুজকুমার ভৌমিক
লকডাউনে পুলিশের তুঘলকি সিদ্ধান্তে ক্ষোভ মহিষাদলের সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীদের। বাজার সরানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ, সোমবার ২০ এপ্রিল থেকে দোকানপাট বন্ধ রাখলেন মহিষাদলের পুরনো সবজি ও মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় তাঁরা!

বাজার কমিটি কিংবা ব্যবসায়ী, কাউকে কোনও কিছু না জানিয়ে এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না শহরের পুরনো এবং মূল সবজি ও মাছ বাজারটিকে এদিন থেকে রাজবাড়ির ছোলাবাড়ি মাঠে স্থানান্তর করতে চেয়ে মাইকিং করে স্থানীয় পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই পুলিশ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এরপরই দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন মহিষাদলের সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীরা। এদিকে, সবজি ও মাছ বাজার হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ক্রেতারা। সমস্যায় কাঁচা সবজির ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের অভিযোগ, মহিষাদল রাজবাড়ির যে ছোলাবাড়ি মাঠে বাজার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে, সেই মাঠে বাজার বসার মতো ন্যূনতম পরিকাঠামোই নেই। যার ফলে একরকম বাধ্য হয়েই তাঁদের বাজার বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

অন্যদিকে, বাজার সরিয়ে দেওয়ার মতো বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন বাজার কমিটি কিংবা ব্যবসায়ী, কোনও পক্ষের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মানুষজন। মহিষাদলের প্রাচীন সবজির বাজারটি বসে শহরের প্রাণকেন্দ্র দুর্গা মন্দিরের সামনের জায়গায়। স্থায়ী সেই বাজারে প্রায় একশোটিরও বেশি সবজি দোকান আছে। সবজির পাশেই বসে মাছ বাজারও। প্রাচীন সেই সবজি আর মাছ বাজারে প্রতিদিন খদ্দেরদের প্রচুর ভিড় হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় বাজারটিকে রাজ পরিবারের ফাঁকা ছোলাবাড়ি মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

যদিও ব্যবসায়ীদের না ডেকে এবং আলোচনা না করে কেন এরকম বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং বাজার বসার মতো পরিকাঠামো কেন নেই, তা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি বাজার স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত কেন, সে ব্যাপারে কোনও উত্তর দেননি মহিষাদল থানার পুলিশ কিংবা ব্লক প্রশাসন। বাজার বন্ধের খবর জেনে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ।