মাইলের পর মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে প্রাণ পর্যন্ত হারাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। আর সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশ পালনে একদিকে কেন্দ্র ব্যর্থ, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। এটা কি আদালত অবমাননা নয়, এই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

১২ বছরের জামালো মাড়কমের মর্মান্তিক পরিণতি দেখে আর থেমে থাকতে পারেননি মহুয়া। আদিবাসী দুঃস্থ পরিবারের কন্যা জামালো তেলেঙ্গানায় লঙ্কা তোলার কাজ করতে গিয়েছিল। ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলা থেকে অনেকেই প্রতি বছর এই কাজে যায়। গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে মাস দুয়েক আগে জামালো ওই কাজ করতে গিয়েছিল। লকডাউনে বিপদে পড়ায় তারা ১৪ জন মিলে নিজেদের গ্রামে হেঁটে ফিরছিল তেলেঙ্গানার পেরুরু গ্রাম থেকে। জামালোর সঙ্গে থাকা বাকি ১৩ জনের মধ্যে আটজন মহিলা ও তিন শিশু ছিল। তিনদিন ধরে ১০০ কিলোমিটারের বেশি হাঁটার ধকল সইতে না পেরে সকাল ৮টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জামালো। তার সঙ্গে থাকা কেউই তখন গ্রামে খবর দিতে পারেননি, কারণ একজনের কাছে একটি মোবাইল ছিল, তার ব্যাটারিও শেষ। পরে ভাণ্ডারপাল গ্রামে পৌঁছে এক গ্রামবাসীর ফোন থেকে জামালোর বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ও প্রশাসন এরপর তৎপর হয়ে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেয়।

এই খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে মিথ্যাবাদী বলে তোপ দেগে মহুয়া মৈত্র টুইটে লেখেন, তুষার মেহতা গত ৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টকে বলেছিলেন, রাস্তায় কোনও পরিযায়ী শ্রমিক নেই, সকলকেই থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। অথচ ২ এপ্রিল নাগপুর থেকে তামিলনাড়ু হেঁটে যাওয়ার সময় এক পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন। তারপর বছর বারোর জামালোর মৃত্যু। আরও অনেক ঘটনা আছে। হাত থেকে রক্তের দাগ ধুতে পারবেন? আদালত অবমাননার জন্য এইসব ঘটনা কি সুপ্রিম কোর্টের কাছে সুয়ো মোটো কগনিজ্যান্স হিসেবে গণ্য হওয়ার উপযুক্ত নয়?
শীর্ষ আদালত কী পদক্ষেপ করে সেদিকেই এখন সবার নজর।