ড্রেসিংটেবিলের আয়নায় নিজেকে বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে রুমা। আজকের সাজ কিছুতেই যেন মনের মতো হচ্ছে না ওর। আলমারীর দুটো পাল্লা হাট করে খোলা। খাটের ওপরে রাখা স্তূপীকৃত শাড়ি।
বেশ কয়েকবার এটা ওটা গায়ে ফেলে আয়নার দিকে তাকিয়েছে, তারপর ছুঁড়ে বিছানার ওপর ফেলে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তেজপাতা রঙের ওপর রূপোলী বুটিদারে রানি কালারের পাইপিন বর্ডার দেওয়া শাড়িটা পরেছে। এই নিয়ে চার-চারবার শাড়ি বদল করল ও।
ড্রেসিংটেবিলের ওপরে রাখা একটা বড়ো প্লাস্টিকের বাক্স থেকে শাড়ির সাথে মানানসই জাঙ্ক জুয়েলারী বের করে গলায়, কানে পরেও আবার খুলে রাখল ও।
— “নাঃ, আজকের পার্টিতে ঐ নাক উঁচু সোফিয়াকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেব না। ওর চোখ নয়তো, যেন একটা এক্সরে মেশিন।” ভাবল রুমা।
আগেরবারের পার্টিতে সবার মাঝখানে সোফিয়া বলেছিল — “রু, তোমার এই হ্যাণ্ডব্যাগটা তো গতবছরের একটা পার্টিতে তুমি ক্যারি করেছিলে, এখনো এটার মায়া ছাড়তে পারনি? বড্ডো মিডলক্লাস মেন্টালিটি তোমার!” ওর কথায় হাসির রোল উঠেছিল মজলিসে। অপমানিত রু সেদিন মনের ভাব গোপন রেখেই হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিল, “আসল কথা কি জান সোফিয়া, কিছু জিনিস কখনোই পুরোনো হয় না, ভালোবাসার ছোঁয়া তাকে চিরনতুন করে রাখে, এই হ্যাণ্ডব্যাগটা আমার জন্মদিনে বিদেশ থেকে পাঠানো আমার মেয়ের দেওয়া প্রথম উপহার। এমন উপহারের মূল্য অবশ্য সবাই বুঝতে পারে না।”
নিঃসন্তান সোফিয়া সেদিন আর একটাও কথা বলেনি। রুমা ভালো করেই জানে মিছরির ছুরি চালানোর জন্যে সোফিয়া ওঁৎ পেতে আছে। আজ এসব ঝুটো গয়নায় সাজলে টাকার গরমে মটমট করা সোফিয়া নির্ঘাৎ টিপ্পুনী ছুঁড়ে দেবে।
বিবাহবার্ষিকীতে সুগতর দেওয়া প্ল্যাটিনামের চেনের সঙ্গে হীরের পেনডেন্ট আর তার সাথে ম্যাচিং হীরের ঝোলানো বড়ো ইয়ারিংটা আলমারীর লকার থেকে বের করে পড়ল ও।
ঘরে দুখানা টিউবলাইট জ্বলছে তবুও আয়নার ওপরের স্পটলাইটটা জ্বালিয়ে নিল। সারা মুখে কোথাও মেকআপের কোনও তারতম্য আছে কিনা আয়নায় মোহিনী দৃষ্টি ফেলে তল্লাশি করতে লাগল। আইশ্যাডোটা শাড়ির সঙ্গে বেশ মানিয়েছে, মনে মনে ভারি খুশি হয়ে রানি কালারের লিপস্টিকে ঠোঁটটা আরও একটু গাঢ় করে পাউট ঠোঁটে আয়নায় চোখ রেখেই ভ্রূযুগল কুঞ্চিত হল ওর।
— এ কী! গলার চামড়াটা তো ঠিক আগের মতো টানটান লাগছে না! তবে কি বয়সের ছাপ শরীরে ভর করেছে?
“নাঃ এমনটা কখনোই হতে পারে না।”, নিজের অজান্তেই বলে ওঠে রুমা।
গলার হার খুলে ফেলে। হাতে বেশ খানিকটা ফাউণ্ডেশন ঢেলে নিয়ে গলায় লাগায়, তারপর কনসিলার দিয়ে খুঁতগুলো ঢাকার চেষ্টা করে, শেষে গলায় কমপ্যাক্ট বুলিয়ে তির্যক দৃষ্টিতে প্রতিবিম্বকে গর্বের হাসি ফিরিয়ে দেয় ও।
***
রিটায়ারমেন্টের পর কর্পোরেট সি.ই.ও সুগত ঘোষের জীবনে এখন অখণ্ড অবসর। প্রতিদিনের টাইট শিডিউলের চাপমুক্ত হয়ে একটা বিন্দাস জীবনে, বাতাসে ভাসতে থাকা পালকের মতই নির্ভার হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ও। সকালে যখন খুশি ঘুম থেকে উঠে নবাবী মেজাজে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ওর আলস্যের জড়তা আড়মোড়া ভাঙে । এরপর সারাদিন ধরে ইচ্ছে-খুশির ব্যস্ততায় দিন কাটে। খবরের কাগজে ডুবে থাকা, পছন্দের বই পড়া, ল্যাপটপে সিনেমা দেখা এসব নিয়ে একেবারে নির্ভেজাল বাঙালিয়ানা।
এছাড়াও সন্ধ্যেবেলা এলিট ক্লাবে কর্পোরেট-কেতা জড়ানো আড্ডায় রঙীন পানীয়ের গ্লাসে ঝলমল করে ওর নৈশজীবন। সময়কে চেটেপুটে উপভোগ করছে সুগত।
কিন্তু এতো সুখের মাঝেও মনের ভেতর কোথাও একটা ফাঁকের অস্বস্তি বারেবারেই যেন খোঁচা দেয় ওকে।
এখন ও অনুভব করতে পারে যে ওর সারাজীবনের কর্মব্যস্ততা, উন্নতির শিখর ছোঁয়ার লোভে দৌড়ে বেড়ানো ওর জীবনকে যশে ভরিয়ে দিয়েছে ঠিকই, আর্থিক সাফল্যও এসেছে; কিন্তু ঘরের মাঝে প্রাণের ভিতটা কোথাও যেন আলগা হয়ে গেছে। সংসারের রাশটা আজ ওর হাতছাড়া।
একমাত্র মেয়ে নিশা কর্মসূত্রে বিদেশের মাটিতে নিজের জায়গা পোক্ত করে নিয়েছে। ওর জীবন-দর্শন সুগতর সাথে মেলে না।
তাই, বিয়ের কথায় নিশা যখন বলে, “বাবা, জীবন মানে তোমার কাছে তো শুধুই আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আর সমাজের সামনে সুখী দাম্পত্যের বিজ্ঞাপন। কিন্তু তোমরা নিজেরাও বোঝো যে সমাজের সামনে ওটা তোমাদের একটা সুখী চালচিত্রের ভান ছাড়া আর কিছুই নয়; আসলে তোমরা কেউ কাউকে অনুভব-ই কর না। জানো বাবা, আমার চারপাশের এমন হাস্যকর, শুধুমাত্র অভ্যাসের জীবন দেখে, এই মনকে ঠকানো বিয়ে নামের ইনস্টিটিউশনটার প্রতি আজ আমার সত্যিই কোনও মোহ নেই। যদি কাউকে ভালোবাসি, তার সঙ্গে জীবনটা ততদূর পর্যন্তই নিয়ে যাব যতদিন দুজনের মনেই ভালোবাসা বেঁচে থাকবে। তারপর আবার নিজের পথে।”
নিশার খোলামনের এসব কথা সুগত মেনে নিতে পারে না। সব রাগ গিয়ে পড়ে রুমার ওপর। উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে, “মেয়ের এই অধঃপতনের জন্যে একমাত্র তুমিই দায়ী রু।”
রুমা চুপ করে থাকে। মনে মনে হাসে। ফোনে মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করে। বলে, “জানিস মা, মেয়েদের খোলা মনের ঝাঁঝ সমাজ মেনে নেয় না। চলতি ভব্যতার খোলসের আড়ালে মনকে মুড়ে রাখাই যে নিয়ম!”
মায়ের কথায় রাগ করে নিশা ফোন কেটে দেয়।
***
লাইব্রেরী রুমে বসে সুগত মন দিয়ে ঋত্বিক ঘটকের কোমল গান্ধার সিনেমাটা দেখছিল। কিটি পার্টিতে বেরোনোর আগে রুমা আজ হঠাৎই ওর সামনে এসে দাঁড়াল।
রুমার আগমনে চোখ তুলে তাকায় ও।
— কেমন লাগছে আমাকে?
ওর দিকে কিছুক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকে সুগত। তারপর বলে — “তুমি তো সবসময়ই সুন্দর। কিন্তু হঠাৎ এমন প্রশ্ন?”
— “নাঃ, আজ তোমার চোখে যাচাই করতে এলাম মেকওভারটা ঠিকঠাক আছে কিনা।”
সুগত হাসে। বলে — “রু, তোমার যে সৌন্দর্য্যে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম সেটা ছিল তোমার সিম্পলিসিটি। সেদিন সেখানে কোনও মেকআপ ছিল না।”
— “আজও কি তোমার মুগ্ধতাকে একই জায়গায় রাখতে পেরেছো সুগত; নিজেকে প্রশ্ন কর।” সুগতর দিকে আগুনঝরা দৃষ্টি হেনে ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রুমা।
***
প্রতি বছর মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পর পরিমল স্যার তাঁর এই দুই ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের একসাথে খাওয়ানোর আয়োজন করেন। এই গেট-টুগেদারেই সদ্য উচ্চমাধ্যমিকে স্টার পাওয়া ব্রতকে প্রথম দেখে রুমা। পড়াশোনায় ভালো ব্রতর থেকে কিছুটা দূরে দূরে থাকলেও ওর দীঘল চোখের চাউনিতে রুমা আটকে পড়েছিল। কোনওরকমে ফেলের কান ঘেঁষে মাধ্যমিক পাশ করা রুমার শান্ত দিঘীর মতো রূপের অতলে ব্রতর মনও তলিয়েছিল। ফলে এরপর টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে ওদের নিয়মিত দেখা হতে থাকে। পরিচয়ের গাঢ়তাও বাড়তে থাকে। ছোট শহরে এসব খবর হাওয়ার আগে দৌড়ায়। রুমার বাড়িতেও ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ না হওয়া বেকারের হাত থেকে মেয়েকে রক্ষা করতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সাথে সাথেই মেয়েকে পাত্রস্থ করে নিশ্চিন্ত হন রুমার বাবা।
দামী বিএমডব্লিউ এর পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে রু। চোখ জানলার কাঁচের বাইরে। চোখের সামনে থেকে দ্রুত সরে যাওয়া চলমান জগৎ থেকে ওর মন এখন অনেক দূরে। মনের আয়নায় ও আঁতিপাতি করে খুঁজে দেখছে কিশোরী রুমাকে। জীবনের প্রথম ভালোবাসার কলি আজও যে ওর অন্তরমহলে রক্তগোলাপ ফোটায়। ছিন্নভিন্ন হয় রুমা। প্রাত্যহিক মলাটের গোপনে সযত্নে তাকে ঢেকে রেখে জীবন এগিয়ে নিয়ে যায় আজকের রু।
সুগতর কথায় আজ বেশ খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে রুমা। আজ ও মেকাআপ ছাড়া জীবনের কথা ভাবতেই পারে না। মেয়েদের প্রতি সমাজের সব অন্যায়-ক্ষতর ওপরে আজও মেয়েরাই যে নিরুচ্চারে হাসিমুখের প্রলেপ লাগায়!
গাড়ির ভেতরের এয়ারকণ্ডিশনের শীতলতাও আজ রুমার মনকে ঠাণ্ডা করতে পারছে না। ও ভেবে চলে — “আমার মনের মেকওভারেই তো আমাদের দাম্পত্যের শুরু হয়েছিল। আমার সমস্ত অ-সুখ তীব্র বিনয়ের আড়ালে রেখেই প্রতি রাতে আমি সুগতকে সুখের সাগরে ভাসিয়েছি। অন্তর্দহনের জ্বালাটুকু আজও যে একান্তই আমার!”
কলেজের গণ্ডীতে পা না দেওয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে ঘোষবাড়ির চৌকাঠ পেরোনোর অধিকার পেয়েছিল শুধুমাত্র তার রূপের জোরে। কিন্তু বিয়ের পরই পরিজনরা বুঝিয়ে দিয়েছিল যে সংসারে শুধুমাত্র কর্তব্যপরায়ণ হলেই চলে না; মর্যাদা আদায়ের জন্য বাপের বাড়ির সঙ্গতি থাকাও প্রয়োজন। উৎসব-ব্যসনে সেখান থেকে আসা তত্ত্ব-তালাশের মাপকাঠিও সংসারে অধিকারের সীমারেখা নির্দেশ করে।
আজ রুমার অশান্ত মনে সেইদিনগুলো যেন ঝাপটা দিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির জানলার বাইরে ছুটে চলা দৃশ্যগুলোর মতো ওর মনেও অতীত যেন আজ চলমান ছায়াছবি। ও ভেবে চলে, “এইসব কূটকাচালিকে তাচ্ছিল্য করার জন্যই তো সেদিন এক শক্ত খোলস মনের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলাম, যাতে আমার মনের ক্ষতর আঁচে সুগতর জীবনে উন্নতির সোপানে শ্যাওলা না জমে।
সবার উপেক্ষার দৃষ্টিতে বড়ই নির্বোধ ছিলাম আমি।
সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে। বিয়ের পর যখনই বাড়ির অন্যান্য বৌদের সাথে কোনও নিমন্ত্রণ রক্ষায় যেতে হয়েছে ততবারই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে আমাকে। অন্যান্যদের তুলনায় আমার গায়ে কম সংখ্যক গয়না থাকায় শাশুড়ীমা তাঁর নিজের গয়নায় আমার গা ভরিয়ে দিতে দিতে বলতেন, “হাঘরের মেয়ে এনেছি যখন তখনতো আমাকেই প্রায়শ্চিত্তির করতে হবে!”
লজ্জায় মাটিতে মিশে গিয়েও অপমানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারতাম না আমার গরীব বাবা-মাকে। তবুও মনকে সমস্ত অপমান শুষে নেওয়ার ব্লটিং পেপারের আস্তরণে মুড়ে নিয়ে নির্লিপ্ত থাকতাম আমি।”
নিয়ন আলোর ঝলমলে শহরের পথ ধরে গাড়ি ছুটে চলেছে দ্রুতগতিতে। সুগতর কথায় রুমার মন আজ বড়ই বিচলিত। পুরোনো দিনগুলো যেন খোলা বইয়ের পাতার মত আজ হাওয়ায় উড়ছে ওর চোখের সামনে।
একটা সময় প্রায় প্রতিদিনই মাঝরাতে সুগতর ফোন বেজে উঠত। সুন্দরী আধুনিকা পি.এর ফোনে সুগত বিছানা ছেড়ে উঠে ড্রয়িংরুমে চলে যেত, আর বাকি রাতটা সেখানেই কাটাত। চিরপ্রতিবাদহীন রুমা ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছিল যে ওর মতো স্বল্পশিক্ষিতকে দিয়ে ঘরের কাজ চললেও বাইরের জগতে সুগতর পাশে ও বড়ই বেমানান। উন্নতির শিখর ছোঁয়া সুগতর জীবনে নেই হয়েও থেকে গিয়েছিল ও।
তবুও মরুভূমির হা-ক্লান্ত পথিকের মতোই ছুটে চলে রুমা। চোখ বুজে ও মনে মনে বলে, “ভেঙে পড়া আমাকে নিয়ে এক পৃথিবী হাসাহাসি চলতে পারে কিন্তু আমার ভেতরের অনন্ত একাকীত্বের পথে মাথাকুটে মরা শুষ্ক প্রাণকে এক আঁজলা জলে তৃপ্ত করার মানুষের বড়ই অভাব।
তাই মনের খেলাঘরের দরজায় আগল দিয়ে আজ আমি শুধুই দূর্বাদল। এই চটকদারি সমাজের নিষ্পেষণেও বারবার সতেজ হয়ে উঠি; আমার জন্য, আমার নিশার জন্য। ও-ই যে আমার মরুদ্যান।
এক দুর্ভেদ্য বর্মের অন্তরালে আমার সত্যিকারের মনের ছোঁয়া আজ নিশাকে পরিণত করেছে। ও তোমাদের রক্তচক্ষুর পরোয়া করে না। মনের কথা সোচ্চারে বলতে ও সহজ, সাবলীল।”
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই জোরে হেসে ফেলে রুমা।
— “ম্যাডাম, কিছু বললেন?” গাড়ি চালাতে চালাতে ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করে ড্রাইভার।
সচকিত হয় রুমা।
গাড়ির জানলার কাঁচের বাইরে চোখ রাখে ও। দেখে নির্দিষ্ট হোটেলের পের্টিকোয় গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে।
নিজের একান্ত আমিটাকে মুহূর্তে চটকদারি পলেস্তারায় ঢেকে নিয়ে কোলের ওপর রাখা হ্যাণ্ডব্যাগ থেকে ছোট আয়না বের করে নিজেকে একবার দেখে নেয় ও। পছন্দের রানি কালারের লিপস্টিকে ঠোঁটে ফাইনাল টাচ দিয়ে মেকওভার সম্পূর্ণ করে, গাড়ি থেকে নেমে হোটেলের ভেতরের দিকে পা বাড়ায় আজকের রু। বাতাসে মিলিয়ে যায় স্টিলেটোর খটখট আওয়াজ।
খুব ভালো লাগলো।