একুশের রাজ্য বিধানসভা ভোটে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে শাসনক্ষমতা দখলের পরই বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই ভাঙন তরান্বিত হচ্ছে জেলা স্তরেও। অন্যদিকে দলবদলুদের জন্য হাতছাড়া হতে চলা জেলা পরিষদ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনল তৃণমূল কংগ্রেস।
মালদা তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘মালদা জেলা পরিষদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই দখলে ছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর কাছের মানুষ বলে পরিচিত সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল-সহ মালদা জেলা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য দলবদল করে যোগ দেয় গেরুয়া শিবিরে। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে জেলা পরিষদ বিজেপির বলে দাবি করে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিজেপির দাবি যে অনায্য তা আমরা গোরা থেকেই জানিয়েছিলাম’।

এদিকে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হতেই শাসক তৃণমূলের পাল্লা ভারি হতে থাকে। মালদা জেলা পরিষদের বেশ কয়েকজন দলত্যাগী সদস্য ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। কিন্তু মালদা জেলা পরিষদ আদতে কাদের দখলে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কয়েকদিন আগেও বিজেপি দাবি করে, মালদা জেলা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য তাদের পক্ষে। বিজেপির দাবিকে উড়িয়ে দিতে আইনতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।



২০১৮ পঞ্চায়েত ভোট অনুযায়ী মালদহ জেলা পরিষদের মোট সদস্য ৩৭। এরমধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ২৯ কংগ্রেসের দখলে ২ এবং বিজেপি-র দখলে ৬টি আসন। এদিন মালদা তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস জানান, ‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল, মালদহ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সরলা মুর্মু ও আরও কিছু সদস্য দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আজ মালদহের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করল তৃণমূল। ৩৭ আসনের জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১৯টি আসন। এই মুহুর্তে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন ২৩ জন। অর্থাৎ তৃণমূলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট রয়েছে। এটা প্রমাণ করা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’