একমাস আগের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে আবার ও জলের তলায় গ্ৰামের পর গ্ৰাম। এলাকার বিঘের পর বিঘে কৃষি জমি জলের তলায়। এমনিতেই কয়কেদিন আগের জলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল প্রচুর, সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই এবারেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে এলাকার মানুষ।
আরামবাগের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হুগলির আরামবাগ ও গোঘাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হেলিকপ্টারে করে পরিদর্শন করেন তিনি। সেইসাথে জলমগ্ন কালিপুর ও হোরপুরে গিয়ে বন্যার পরিস্থিতি দেখেন। এদিন তিনি আরামবাগের পল্লীশ্রী হেলিপ্যাডে নামেন। এখান থেকে গাড়ি করে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। বন্যা পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই দায়ী করেছেন। ডিভিসির ছাড়া জলেই আরামবাগ, গোঘাট খানাকুল এবং পুড়শুড়া প্লাবিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা পরিদর্শন নিয়ে কড়া নিরাপত্তা ছিল আরামবাগ জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসবেন বলে বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ব ও বিধায়ক বিধায়িকারা উপস্থিত হয়েছিলেন। তারাও বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, হরিপালের বিধায়িকা করবি মান্না, আরামবাগ সাংসদ অপরুপা পোদ্দার, সপ্তগ্রাম বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, জাঙ্গিপাড়া বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমান, হুগলির জেলাশাসক, আরামবাগ মহকুমা শাসক, আরামবাগের পৌর প্রশাসক স্বপন নন্দী, আরামবাগের প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ চন্দ্র সাঁতরা, তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব দিলীপ যাদব, ধনিয়াখালির বিধায়িকা অসীমা পত্র সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

তারকেশ্বর ব্লকের কানাড়িয়া গ্ৰামে জলবন্দি মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে খাবার। বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের উদ্দ্যোগে রান্না করা খাবার ও জল পৌছে দেওয়া হচ্ছে কানাড়িয়া গ্ৰামের দূর্গত এলাকায়। কেশবচক গ্রাম পঞ্চায়েতের সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট কানারিয়া, বড় কানাড়িয়া, দেবীপুর, নচিপূর, মোহনবাটি, কেশবচক, এছাড়াও গোপীনাথপুর-২ চৈতন্য বাটি, সন্তোষপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, তালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত। মূলত তারকেশ্বর বিধানসভার এই পাঁচটি গ্রামের অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনটাই জানালেন তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় তিনি আরো জানান বারোটা মত ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এলাকার বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় মানুষের সেবার কাজে নিয়োজিত হয়ে আছেন তিনি আরামবাগ মহকুমার খবর প্রতিমুহূর্তে নিয়েছেন তারকেশ্বর বিধানসভার মানুষের যে কোনো অসুবিধে কথা শুনলে তড়িঘড়ি সেখানে তিনি ছুটে চলে যাচ্ছেন, এ ছাড়াও স্থানীয় মানুষ অভিযোগ করেন পানীয় জলের একটু ঘাটতি আছে যাতে এটা লক্ষ্য দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উপকারই হবে। বিদ্যুত নেই তার মধ্যে এই পানীয় জলের সমস্যা একটা অন্যতম মাত্রা ।
এছাড়া দামোদরের ছাড়া জলে জলমগ্ন হয়েছে জাঙ্গীপাড়া ব্লকের তিনটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। জলের তলায় প্রায় এক হাজার হেক্টর কৃষি জমি। জাঙ্গীপাড়া থেকে বকপোতা হয়ে উদয়নারাযনপুর যাবার রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে যাতায়াত। প্রশাসনের তরফে ২টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে দূর্গত মানুষের সহায়তায়।

জাঙ্গীপাড়া থেকে উদয়নারায়নপুর কিংবা হরিপাল থেকে রাজাবলহাট হয়ে উদয়নারায়নপুর যাবার রাস্তায় বকপোতা সেতুর আগে রাস্তার উপর দিয়ে ছুটছে জল। বাঁশের বেরিকেড দিয়ে দু-চাকা, চার চাকা-সহ সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। চলতি মরসুমে এই নিয়ে তিন তিন বার প্লাবিত হল জাঙ্গীপাড়া ব্লকের রসিদপুর, রাজবলহাট-১, রাজবলহাট-২ পঞ্চায়েতের দামোদর অববাহিকার বিস্তৃর্ন এলাকা। এর মধ্যে রাজারহাট-১ এর ছিটঘোলা আর্দশ গ্ৰাম এবং রসিদপুর পঞ্চায়েতের আঁকনা, সেনপুর এলাকায় সবথেকে বেশী জল ঢুকেছে। তার ফলে কয়েক হাজার মানুষ জলবন্দি।
জাঙ্গীপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তমাল শোভন চন্দ্র বলেন, জাঙ্গীপাড়া ব্লকের ২ হাজার মানুষ জলবন্দি। প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি জলের তলায়। প্রশাষনের তরফে বহু মানুষকে এলাকার ২ টি ত্রান শিবিরে এনে রাখা হয়েছে। এবং বন্যা কবলিত এলাকায় খাবার ও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।