ব্যবসা নয়, এটা মানুষকে রক্ষা করার সময়। কেউ কাজে ফাঁকি দেবেন না, আমিও দিচ্ছি না। বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ নবান্ন সভাঘরে সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল, ল্যাব ইত্যাদির কর্তৃপক্ষকে নিয়ে করোনা মোকাবিলার বৈঠকে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বেলেঘাটা আইডি-তে বেড ২০ থেকে বাড়িয়ে ১০০টা করা হচ্ছে। এম আর বাঙ্গুরে নবনির্মিত ভবনে ১৫০টি, আর জি করে নাইট শেল্টারের নতুন বিল্ডিংয়ে ৫০টি বেড রাখা হচ্ছে। রাজারহাটে ক্যান্সার হাসপাতালে যে কোয়ারান্টিন কেন্দ্র হয়েছে সেখানে ৫০০টি বেড রয়েছে। ডুমুরজলা স্টেডিয়ামেও কিছু বেড রয়েছে। বেলেঘাটা আইডি-তে ১০টা ও অন্য হাসপাতালগুলিতে ৫টি করে অ্যাম্বুল্যান্স রেখে তা বারবার জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা একটা চ্যালেঞ্জ, সবাই মিলে লড়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে আমরা পারি। মানবিক-স্পর্শ নিয়ে সকলে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামো নিয়ে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার, পিপিই পোশাক সকলকে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার সাধ্যমতো সাহায্য করবে। কেন্দ্রের কোনও সাহায্য পাইনি। ২ লক্ষ মাস্ক, গ্লাভস আমরা কিনছি। দরকারে আরও কেনা হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি মাস্ক, স্যানিটাইজার বানাচ্ছে। ১০ হাজারের পর আরও ১০ হাজার থার্মাল গান অর্ডার দিয়েছি। ৩০০ ভেন্টিলেশন কিনে তা ব্যবহারের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক, এসপি, কমিশনার, সিএমওএইচদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে ভালো বেসরকারি হাসপাতালের লিঙ্কেজ ঘটিয়ে এমার্জেন্সি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। শনি ও রবিবার বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করুন। শিলিগুড়ি, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় ল্যাব চালুর অনুমতি দিতে কেন্দ্রকে বলা হয়েছে। অনুমতি, অ্যাডভাইসরি দিতে দেরি করলে কী করে হবে? সিদ্ধান্তহীনতা বড়ো রোগ, এটা কেন্দ্রকে বলতে হবে। সমস্ত হাসপাতালকে নিয়ে কাজের সুবিধার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, দোকান-বাজার বন্ধ থাকবে না, সব চলবে। সীমান্ত বন্ধ হলেও পর্যাপ্ত জিনিস রয়েছে। চিন্তার কারণ নেই। বর্ডারে লরি আটকে জিনিস নষ্টের খবর পাচ্ছি। সব কাগজ ঠিক থাকলে সব পরীক্ষা করে ঢুকতে দিতে আপত্তি নেই, না হলে যেখান থেকে আসছে সেখানে ফিরে যাক, জিনিস যেন নষ্ট না হয়। কেউ গুজব ছড়াবেন না, কালোবাজারি করবেন না। এটা না মানলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৬০ লক্ষ আইসিডিএস পড়ুয়া, ১ কোটি ১২ লক্ষ মিড ডে মিল পাওয়া পড়ুয়ার বাড়িতে ২ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু পাঠানো হচ্ছে। গর্ভবতী মহিলাদের বাড়িতেও তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হবে। সকলের পুষ্টির ব্যাপার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। শীর্ষ আমলাদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা নিয়মিত করোনা মোকাবিলা সম্পর্কিত রিপোর্ট দেবেন মুখ্য ও স্বাস্থ্য সচিবকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রেভ আর বোল্ড থাকুন, আতঙ্কিত হবেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন পর্যন্ত ৩,৯৯,৪৬৯ জনের স্ক্রিনিং হয়েছে। ২৫ জন আইসোলেশনে আছেন। ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ইউকে থেকে আসা একজনের পজিটিভ ধরা পড়েছে। গৃহ পর্যবেক্ষণে আছেন প্রায় ১৭,৫৫৭ জন। বাইরে থেকে যাঁরা আসছেন সকলে পরীক্ষা করান। এটা অস্পৃশ্য রোগ নয়, কোনও অসুস্থ মানুষকে অস্পৃশ্য ভাববেন না। তাঁকে বিরক্ত না করলেও মানবিকতার পরিচয় দিন। সকলেই সুস্থ হয়ে যাবেন।


