অবশেষে তিনি আবার ভাষণ দিতে এলেন। রাত ৮টায় তাঁর জাতির উদ্দেশে ভাষণের কথা শুনলেই তো পূর্ব অভিজ্ঞতার জেরে দেশবাসীর বুক কাঁপে। তবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা নিয়ে কী দিশা দেন সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন সকলে। আধ ঘন্টা ধরে তিনি বলেই গেলেন। বললেন, বিশ্বযুদ্ধের থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি। আপনাদের থেকে কয়েকদিন সময় চাইলেন। বেশি জমায়েত না করার কথা বললেন, প্রবীণদের বাড়ি থেকে না বেরোতে বললেন। এ সব নতুন নয়, মানুষ এমনিতেই সতর্ক। একবার করে তিনি বলছেন, ‘অউর এক চিজ মাঙ্গ রাহা হু…’, আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত জনগণের আতঙ্ক তখন আরও বাড়ছিল- আবার কী সর্বনাশের কথা আছে এর পর? প্রধানমন্ত্রী বললেন, রবিবার ২২ মার্চ জনতা কারফিউ করতে হবে। অর্থাৎ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯টা অবধি বাড়িতে থাকতে হবে দেশবাসীকে। আর ঘন্টা বাজাতে হবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে টাস্ক ফোর্সের কথা বলে তিনি বলেন, এটা অর্থমন্ত্রী দেখবেন। সোশ্যাল আইসোলেশনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার আগের দিন যা ঘোষণার করে দিয়ে রাজ্যগুলোর সহযোগিতা চাইলেন!তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আগ্রহ নিয়ে ছিলাম যে, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী দিশা দেখান? হতাশ হয়েছি প্রধানমন্ত্রীসুলভ ভাষণ না শুনতে পেরে। বরং তিনি কারফিউ শব্দ ব্যবহার করলেন। ঘন্টা বাজানোর কথা বললেন, এটা তো আরএসএস কর্মীরা করেন। ঘন্টা বাজিয়ে কি করোনা তাড়ানো যায়? উনি বললেন, নবরাত্রি আসছে, রমজানের কথা তো বললেন না! বলতে পারতেন, সব ধর্মের মানুষের একজোট হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা। বললেন না। এখনও রাজ্যকে কোনও সাহায্য করেনি কেন্দ্র। টাস্ক ফোর্স কীভাবে সাহায্য করবে তাও অর্থমন্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে গেলেন। ভাষণে রইল সূক্ষ্ম হিন্দুত্ববাদের কথা, যে রাজনীতি ওঁরা করেন।তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইটারে লেখেন, সংসদ চলছে। দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য গণতন্ত্রের মন্দির কি পবিত্র বলে মনে হলো না? তার বদলে আগে রেকর্ড করা ভিডিও মেসেজ দিলেন! মুখ্যমন্ত্রীরা টিভিতে দেখলেন! ঘটনা পরম্পরা কী? যা ঘোষণা আজ করে দিলেন। এরপর তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শুক্রবার! এটাই কি কোঅপারেটিভ ফেডারেলিজম? প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গিমিক বেশি, সমাধান কম।
