| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

নিজের মেয়ের ক্ষমতা লিখছেন প্রজ্ঞাপারমিতা রায়

Reporter
প্রজ্ঞাপারমিতা রায় / ৩১৩ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

“জয় চেয়েছিনু, জয়ী আমি আজ”। জয়ী হলেন বাঙালীর ঘরের মেয়ে। সমস্ত বাঙালী দেখলো একটি সাধারণ বাংলা শাড়ি পরিহিতা, আমাদের ঘরের মেয়ে সসম্মানে জয়লাভ করে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করল নিজেকে।

জিতে যাবার পরও সকলেই দেখলো — তিনি বার বার বলছেন, রাজ্যবাসীকে শান্তি বজায় রাখতে। বলছেন — কোভিড নিয়ে তার দুশ্চিন্তার কথা, তার সাহায্যের কথা, তার বিভিন্ন ভাবে রোগের সঙ্গে লড়াই করার কথা। সকলেই দেখলো — যে, সংযত ভাবেও জয়োৎসব পালন করা যায়। জনমানসে তার প্রভাব যে কতখানি, ছোটখাটো হৈ-হল্লা বাদ দিয়ে সে তো দেখাই গেলো। সকলে তো মোটামুটি সংযতই আছেন। শপথ নেবার আগে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেন— বলেন, ‘সবার কাছে আবেদন করব, বাংলা শান্তিপ্রিয় জায়গা, সংস্কৃতি প্রিয় জায়গা, সম্প্রীতি প্রিয় জায়গা। নির্বাচনে হারজিত আছে। আবহাওয়া গরম হয়েছে, কখনও আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয়েছে। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে জানি। তা সত্ত্বেও সবাইকে বলবো, শান্ত থাকে যেন সবাই, কেউ যেন কোনো হিংসাত্মক ঘটনায় না জড়ায়। এখন মানুষের সবচেয়ে বড় কাজ, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করা’। এক বড় মাপের অভিজ্ঞ মানুষ এমনিই হন।

এপর্যন্ত আপনার সবই ঠিক আছে, কিন্তু হিসেব আপনাকে মেলাতেই হবে। আপনার সৎ ইচ্ছা, আপনার চেষ্টা, আপনার কর্মক্ষমতা আপনাকে আজ এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। শুধু এইটুকু মনে রাখলেই হবে না যে — “যো জিতা ওহি সিকন্দর”। আপনাকে মনে রাখতে হবে এই সমস্ত মানুষের মঙ্গলের কথা, রাজ্যে সুশাসনের কথা, মনে রাখতে হবে কল্যাণ ধর্মী কর্মপন্থার কথা, সকলেই যে আপনার সঙ্গে আছে তা সকলেই প্রমাণ করেছে। এবার আপনার পালা।

মন খারাপ লাগে। কিছু ভালো লাগে না — হাসপাতালে বেড নেই, জীবনদায়ী ওষুধ নেই, অক্সিজেন নেই, কালোবাজারি আছে, আড়তদার তার ভাণ্ডার ভরে রেখেছেন অক্সিজেন দিয়ে, বাজারে চাহিদা বিপুল — চারিদিকে শুধু ছুটে বেড়াচ্ছে মানুষ। হাসপাতালে, ওষুধের দোকানে শুধু ছুটছে, আপনি দেখছেন তো? আপনার হাতেই সব। এই সমস্ত মানুষগুলোর সব কিছুর দায়িত্ব আপনার। আমরা শুধু আপনার কর্মযজ্ঞের হাত, আপনি কিন্তু পুরোহিত।

তৃণমূল প্রত্যাশার থেকে বেশি ভোট পেয়েছে, কি করে পেলো? কি ব্যাপার? এত চেষ্টা করলো বিজেপি, তবু কি করে এবং কেন ? এই সব প্রশ্ন উঠছে, লোকেরা করছে। করুক, ওতে কিছু যায় আসে না, এই নিয়ে চলুক না তর্ক বিতর্ক, আলোচনা। কিন্তু আপনাকে আপনার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। লোকে যাকে পছন্দ করে এনেছে তিনি তো জনগণের আস্থাভাজন। অতএব, আপনি যেমন সামনের দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে হেঁটে অনেকটা পথ চলতে পারেন, ঠিক তেমনি আপনাকে আরও অনেক পথ ওইভাবেই হাঁটতে হবে। আপনার পিছনে যারা আছে — তাদের জন্য পথকে করে দিতে হবে মসৃণ — সুগম। মনে রাখবেন, আপনি পুরোধা — আর আপনার পিছনে চলেছে পথিকের দল। পথ দেখানোই আপনার লক্ষ্য।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝে মাঝেই ঘুরতে যাওয়া আমার একটা অভ্যাস। জঙ্গমহলের ভিতরকার রাজনীতির কথা আমি গভীরভাবে ততটা জানি না। কিন্তু যেটুকু বুঝি — ওখানকার মানুষগুলো তাদের নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই আপনাকে বা আপনার দলকে বেছে নিয়েছে। এখানকার মানুষগুলো বুঝেছে — আপনার মুখ চেয়ে আজ ওরা যে টুকু খেতে পড়তে পারছে, হয়তো আপনি দায়িত্ব পেলে ওই টুকু ওরা পাবে, সে বিষয়ে ওরা নিশ্চিন্ত। ওই খানকার দু-চারটি পরিবারের কথা বলতে পারি, যারা কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকায় মেয়েকে একটু লেখাপড়া শিখিয়ে, সুস্থভাবে বড় করার চেষ্টা করছেন। প্রত্যেক মাই-ই তার মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। এই কন্যাশ্রী প্রকল্প তাকে সেই স্বপ্নও দেখতে সাহায্য করছে। কন্যা সন্তানদের আত্মবিশ্বাসী, স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে তাদের অন্তর্নিহিত সত্ত্বার বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন ছিল এই প্রকল্পের। সামাজিক অগ্রগতিতে মেয়েরা সামিল না হলে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা হয় না। উচ্চ শিক্ষায় সাহায্যের জন্য এই প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এই প্রকল্প এতটাই ভালো যে দেশ এবং দেশের বাইরে একাধিক শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার এবং সম্মান সে পেয়েছে। ভবিষ্যতে কার কি হলো বা হবে, সেই চিন্তা তো ভবিষ্যতের হাতে। বর্তমানটা কিন্তু এই মায়েরা দেখতে পাচ্ছেন। এখানকার মহিলারা তো শেষ পর্যন্ত একটা ছোট গণ্ডীর মধ্যেই থাকেন, কিন্তু নিজের ভালোমন্দ তারা বোঝেন। আপনাকে এই মানুষগুলোর জন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে।

খেলাধুলার জগৎ আপনার জিতে ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের আপনার কাছে অনেক প্রত্যাশা। সব কিছু কেউ পূরণ করতে পারে না, কিন্তু চেষ্টা সবাই করতে পারে। আর কে না জানে — চেষ্টা করলে সব হয়, চেষ্টা করাটাই আসল কথা। এর পরেও বলবো মেয়েদের খেলাধুলার ব্যাপারে যদি একটু বেশি আগ্রহ দেখান। ছোটবেলা থেকেই যেসব মেয়েরা খেলায় উৎসাহী তাদের কথাও একটু মনে রাখবেন। বাংলার মেয়েরা যে এদিকেও কম যায় না আপনার হাত ধরে সারা ভারত সেটা একটু বুঝে যাক।

আপনার জয়ের হিসেব নিকেশ তো আছেই– ভোট বিশ্লেষণ যারা করেন তারা ওই সব ব্যাপার নিয়ে গত কয়েকদিন কত কথাই তো বলছেন, আমি তো তেমন মানুষও কেউ নই। একজন সাধারণ শিক্ষিকা এবং গৃহবধূ হিসেবে বলতে পারি এই মুহূর্তে আপনি ছাড়া কিন্তু কেউ নেই। বাঙালীর মানসিকতায় আপনি আছেন, ভোট পেয়েছেন, সব দিক ঠিক মতো বজায় রেখে নিজের আসন সুরক্ষিত করেছেন। সত্যি বলছি আপনাকে, খুবই ভয় পেতাম যখন মনে হতো বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের অবস্থা কিরকম হবে? এরা মেয়েদের স্বাধীনতা, অধিকার, বুদ্ধিমত্তাকে কি চোখে দেখবে? উত্তরপ্রদেশের কোনো ধর্ষণের ঘটনা শুনলেই আতঙ্কগ্রস্ত হতো মন। পশ্চিমবঙ্গে তবে কি হবে? খুব আশ্বস্ত হলাম আপনার প্রত্যাবর্তনে। তাই বলে কি এখানে অঘটন ঘটে না? ঘটে ঠিকই— তবুও কোথাও যেন মনে হয় একটু কম।

আমফানের কথা মনে পড়ল, জানেন তো— সেই সময় আমাদের এলাকায় ৫৬ ঘণ্টার পরে জল এবং বিদ্যুৎ এসেছিল। সেই সময় স্কুল তো আমাদের বন্ধই ছিল, পরে যখন খুললো তখন শুনলাম কেঊ ১২৫ ঘণ্টা, কেউ ৭৫ ঘণ্টা পরে জল এবং বিদ্যুৎ পেয়েছে। সেই সময়কার কথা নিয়ে লোকে অনেক কথাই বলেছে, শুনেছি, কিন্তু এও দেখেছি এলাকার পঞ্চায়েত এবং পৌর সভা থেকে লোকেরা এসে জল এবং খাবার দিয়ে গেছেন। যারা বলছে, কেউ কিছু করেনি তাদের জন্য, কেউ কিছু দেয়নি— সে কথা হয়তো সম্পূর্ণ সত্যি নয়, কিন্তু যারা সাহায্য পেয়েছেন এমন মানুষের কথাও জানি। আর সবচেয়ে বড় কথা— সাহায্য পেলো, টাকা পেলো, খাবার পেলো — এসে বললো ‘ভালো আছি, সব পেয়েছি, দিদি ছিল তাই রক্ষা’— এই ভোটের পর, আপনার জয়ের পর তাদের মুখেই শুনলাম, ‘কি করে জিতলো বলো তো, জেতার তো কথা নয়’ — এমন মানুষও তো সংখ্যায় কম নেই। কিন্তু ঝড়ের রাতে নবান্নে আপনার রাতজাগা ও ঘূর্ণিঝড়ের পর যাদের ব্যাঙ্কের খাতায় আপনি সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন — তারা কিন্তু আপনাকে ভোলেনি, সেই প্রমাণও তো পেলেন। পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে সাত কোটি ভোটার, এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করেছে। আপনাকে ভালোবেসে তারা আবার আপনার সিংহাসন ফিরিয়ে দিয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে বাংলাই শেষ কথা বলেছে। বাঙালী জাতি হিসেবে তো আবেগপ্রবণ ছিলই, তার সঠিক ব্যবহার করে দিল আপনাকে নির্বাচন করে — সঠিক সময়ে। বিরোধী পক্ষ বলবো না — বলবো কেন্দ্রীয় শক্তি — আট দফা নির্বাচন করে শুধু আপনাকে দুঃখ দিয়েছে তা নয়, সমস্ত পশ্চিমবঙ্গবাসীকে যে ভীষণ দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে ছিল সে কথা সবাই জানে। নতুন করে বলার কিছুই নেই। মানুষকে কতটা ছোট ভাবলে এমন করতে পারা যায়!

ঘর শত্রু বিভীষণদের কথা তো বলারই প্রয়োজন নেই, তাদের কি করে সামলে দিলেন আপনিই জানেন। আমরা মেয়েরা সবাই আপনার জন্য গর্বিত আজ। নির্বাচন কমিশন, সিবিআই, আয়কর দপ্তর প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে যারা আপনাকে বেছে নিয়েছিল তাদের আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে আপনি তাদের দু’হাতে সামলেছেন। সেই আপনিই আমাদের গর্ব। বাঙালী মেয়েদের কঠিন এবং কোমল দুটি রূপই আমরা আপনার মধ্যে পেয়েছি, তাই চুপ করে বসে থাকতে না পেরে এই লেখা লিখছি। না লিখে পারছি না। ইতিহাস পড়েনি কেউ — আপনার বিরোধীরা — তাই তারা জানেনা — মহিলাদের অপমান করলে তার বিনাশ অনিবার্য। যেভাবে প্রতিটি জনসভায় — মিটিং-এ — সমাবেশে আপনাকে অপমান এবং বিদ্রুপ করা হয়েছে — তা আপনার গায়ে তো লেগেইছে, আমাদেরও গা জ্বলে গেছে। কিন্তু প্রতিবাদের তো কোনো জায়গা ছিল না একমাত্র ভোট ছাড়া। সারা ভারতের সবাই আজ আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ কোথাও নেই। সব ধুয়ে মুছে সাফ।

পশ্চিমবঙ্গ আর পাঞ্জাব ছাড়া এই ভারতের কোনো রাজ্য জানেনা রিফিউজি কাকে বলে ? দেশ ভাগ কেমন ? এরা কোনো দিনও এই ইতিহাস জানতে পারেনি, না জানাই ভালো — তবুও বলবো– যেসমস্ত সামাজিক সমস্যা মানুষের সভ্যতাকে আজও কলঙ্কিত করে তার প্রথম নাম হলো সাম্প্রদায়িকতা। মানুষের মধ্যে ভাষা, জাতি, ধর্ম প্রভৃতির ভিত্তিতে ভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক, কিন্তু তার ভিত্তিতে কখনই একে অপরের শত্রু হয়ে ওঠা উচিত নয়। অথচ, এই ইতিহাস না জানা এবং না পড়া মানুষগুলো অক্লান্তভাবে সেই চেষ্টাই করে চলেছে। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা, নির্ভরতা হারিয়ে ফেললে আমরা বাঁচবো কি করে ? সমাজ তো বিষিয়ে যাবে — সেদিন কি এর থেকে কেউ রক্ষা পাবো ?

মেয়েরা একটু নিরাপত্তা চায় সবসময়। মেয়েরা যে আপনাকে ভোট দিলো, সবাই যে বলছে — তার কারণ টা তো ভাবতে হবে। একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে যেভাবে, যতটা খারাপ কথা বলা যায়, তা বলতে দ্বিধা করেনি কেন্দ্রীয় দল বা আপনার বিরোধী পক্ষ। যতই আমাদের জীবনে ধনতেরাস চোখ ধাঁধিয়ে দিক — ঘরে বাইরে মেয়েরা এখানে সহজ, স্বাভাবিক, স্বতস্ফূর্ত জীবনযাপন করে। সেই স্বাভাবিক বোধ থেকেই তারা বুঝেছে — যে আপনি থাকলে ভালো হবে। কারণ তারা আর কিছু বুঝুক আর না বুঝুক নিজেদের মান সম্মানের ব্যাপারটা বোঝে।

সেই কবে থেকে হিন্দু-মুসলমান বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ ভারত শাসন করে গেছে। সেই থেকেই রাজনৈতিক নেতারা একে হাতিয়ার করে চলেছে। বাঙালী জাতি এই বিবাদের ঊর্ধ্বে ছিল– আজও আছে। বহু দিন বাদে বাঙালী জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারলো, বুঝিয়ে দিতে পারলো যে সাম্প্রদায়িকতার মানে তারা বোঝে। আমরা আমাদের ছোটবেলা থেকে মা-ঠাকুমাদের কাছে এই দেশ ভাগ, ছিন্নমূল মানুষের কথা শুনেই বড় হয়েছি। আজও বাঙালী মুসলমান এবং হিন্দু ওই বীভৎস স্মৃতির আভাস মাত্র পেলেই যে রুখে দাঁড়াতে পারে, তা জানিয়ে দিলো।

সেই বাঙালী জাতিকে কেবলমাত্র ধর্ম দিয়ে শাসন করা যে যাবে না — তা আর একবার প্রমাণ হলো। শুধুমাত্র হিন্দু হিন্দু করলেই হয় না — একটা জাতির সম্পূর্ণ ইতিহাসকে বুঝতে হয়, বুঝতে হয় তার আবেগকে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা পরিষ্কার হলো পশ্চিমবঙ্গে যে, আমরা এক, আমরা আলাদা নই। ঈদের দিনে আমাদের অনেকের ঘরেই খাবার আসে এবং আমরা খাই, আর দুর্গা পুজোতে ওরাও মাতে মহানন্দে — সর্বত্রই রুজি-রোজগার, খাওয়া-দাওয়া, বন্ধুত্ব, প্রেম-ভালোবাসা, অফিস-কাছারি, আপদে-বিপদে আমরা একসঙ্গে ছিলাম আর থাকবোও, তাই এটাই বাঙালীর পরিচয়।

মুজতবা আলির কথায় — “বাঙালীর চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান। তার অর্থ এই যে, কী রাজনীতি, কী ধর্ম, কী সাহিত্য যখনই যেখানে সে সত্য শিব সুন্দরের সন্ধান পেয়েছে তখনই সেটা গ্রহণ করতে চেয়েছে ; এবং তখন কেউ ‘গতানুগতিক পন্থা’, ‘প্রাচীন ঐতিহ্য’– এর দোহাই দিয়ে সে প্রচেষ্টায় বাধা দিতে গেলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং তার চেয়েও বড় কথা, — যখন সে বিদ্রোহ উশৃঙ্খলতায় পরিণত হয়েছে, তখন তার বিরুদ্ধে আবার বিদ্রোহ করেছে।

এ বিদ্রোহ বাঙালী হিন্দুর ভিতরই সীমাবদ্ধ নয়, বাঙালী মুসলমানও এ কর্মে পরম তৎপর। ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না”।

লেখা শেষ করার আগে আবারও কিছু কথা। শেষেরও তো শেষ থাকে তো…। যে মন নিয়ে সবাই আপনাকে আপনার জায়গায় এনে দিলো — সেদিকটা দেখুন এবার। তরুণ প্রজন্মের কাছে বার্তা পৌঁছে দিন, রাজনীতি করলেই — খুন, গুন্ডামি, সিন্ডিকেট, ভয় দেখানো এসব করার দরকার নেই। একে অপরের ভালো করতে হবে সেই মন্ত্রে দীক্ষা দিন। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে আদর্শ তুলে ধরুন — জীবনের সার্থকতা শুধু নিজের ভালোতে নয়, সকলের ভালো হলেই আমরা ভালো থাকবো। একা একা ভালো থাকা যায় না।

কিছু ভালোমন্দ সর্বত্রই থাকে, আপনার দলেও আছে। তাদেরকে বুঝিয়ে দিন ঝগড়া-মারামারি-কাদা ছেটানো — এগুলো আমাদের হাতিয়ার নয়। উন্নয়নের জোয়ার আনতে হলে মানসিকভাবে উন্নত হওয়া দরকার সবার আগে। চুরি, ডাকাতি, অসহিষ্ণুতা ছাড়াও নিজের এবং অন্যের ভালো করা যায়। সমাজ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের অনুপ্রেরণা দিন। এর জন্য আপনার দরকার কিছু সতেজ, সবুজ সেনাপতি — যারা সারা বাংলায় ছড়িয়ে দেবে এমন বার্তা — যেখানে দাঁড়িয়ে গোটা বাঙালী জাতি যেন বলতে পারে — হ্যাঁ, আমরা বাঙালী। আমরা ভালো আছি, আমরা সুস্থ আছি। আমরা সকলে সকলের জন্য আছি, একের বিপদে অন্যরা সবাই আছি। আমরা যেন আমাদের পরিবারের মেয়ে এবং শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পারি। ঘৃণা-আক্রোশ নয় — স্নেহ ভালোবাসাই আমাদের অস্ত্র। কিছু কর্মসংস্থান দরকার, শিল্প মহলের সঙ্গে পরামর্শ করুন, দেশ বিদেশ থেকে যাতে লগ্নি হয় সে দিকে দৃষ্টি দিন। ছেলেমেয়েরা যাতে কাজ পায়, সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিন। আর যারা আপনাকে ছেড়ে গিয়েছিল তারা যেন আর আপনার আশ্রয় না পায় — কারণ সুযোগ পেলে তারা আবার একই কাজ করবে। রাজনীতি হোক মিলনের-ভালোবাসার, আতঙ্কের নয়। আগামী অনেক বছরের পরিকল্পনা করুন এমনভাবে যেখানে দাঁড়িয়ে বাংলা এবং বাঙালী মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। সারা ভারত যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে বলতে পারে, ওরা বাঙালী, ওরা অন্যরকম!

আপনার মতামত লিখুন :

4 responses to “নিজের মেয়ের ক্ষমতা লিখছেন প্রজ্ঞাপারমিতা রায়”

  1. ড. মনোজ কুমার পাল says:

    বলিষ্ঠ লেখা। লেখিকা কে সাধুবাদ জানাই।

  2. Ajoy Bose. says:

    আপনার লেখা খুবই প্রাসঙ্গিক।যেভাবে বিশদে আপনি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিন্যাস করে দিকনির্দেশ করেছেন তা বিশেষভাবে প্রানিধানযোগ্য।তবে বর্তমান পরিস্থিতি কতটা আশাব্যঞ্জক হয় সেইদিকে আপামর রাজ্যবাসীর মতো আমিও অপেক্ষমাণ।

  3. Sukanti Bhowmik says:

    Khub sundar hoeche. Bartaman samay e pakhe ekdam thik katha. Tabe kato khani karjakar hobe setai mul katha. Onek asa.

  4. পার্থ রায় says:

    Ekjon ondho vokto o onuraginir ek peshe lekha।। Samprotik panchayat nirbachon sei kathai proman kore।। Onek Katha bolar chilo, ekhane somvob noy।। Shudhu eituku bolbo (Kanyashri baadey)kajer sujog na kore diye ৫০০/ vikkha deoya kono sodorthok chintadhara not।।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev