| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ছাত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী

Reporter
অধ্যাপক ড. শিবরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় / ৬১০ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

প্রায় ৪৩ বা ৪৪ বছর আগেকার কথা। যখন একা একা বসে থাকি, অতীতের কথা মনে পড়ে। কখনও আনন্দ, কখনও দুঃখের উদ্রেক হয়। সব কথা মনেও পড়ে না। তবুও কিছু কথা স্মৃতিতে উজ্জ্বল আছে। ১৯৭৩ সালে আমি যোগমায়া দেবী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলাম। তার কয়েক মাস আগে আমি শ্যামাপ্রসাদ কলেজের অধ্যাপক ছিলাম, যেখানে আমার বাবা অধ্যক্ষ ছিলেন। বাবা চাইছিলেন না যে ছেলে এবং বাবা একই কলেজে চাকরি করুন, যখন বাবা একই কলেজের প্রশাসনিক প্রধান। তাই সম্ভবত আমাকে যোগমায়া দেবী কলেজে চালান করা হলো। সেই সময় পাঁচ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার পর (১৯৬৭ থেকে ১৯৭২-এর মার্চ মাস) পশ্চিমবঙ্গে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যোগমায়া দেবী কলেজে ডিএসও (এসইউসিআই-এর ছাত্র সংস্থা) ছাত্র সংসদ দখল করে ছিল, যেখানে আশুতোষ কলেজে ছাত্র পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ দখল করে। সম্ভবত পার্থ (বর্তমানে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়) আশুতোষ কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিল। শ্যামাপ্রসাদ কলেজের ছাত্র সংসদও ছাত্র পরিষদের দখলে চলে এসেছিল। কে সাধারণ সম্পাদক ছিল মনে পড়ছে না। তবে অমিতাভ (মজুমদার), অরবিন্দ ও মানসের মধ্যে কেউ একজন হবে। যোগমায়া দেবী কলেজের পরিস্থিতিটা একটু অন্যরকম ছিল। সেখানে ডিএসও-র দাপট ছিল। একদিনের কথা মনে পড়ে। আমি একটা ক্লাস (তিনতলায় ক্লাস ছিল) শেষ করে বেরিয়ে দেখি কিছু ছাত্রীর মধ্যে বচসা হচ্ছে। একটি ‘ছোটো’ মেয়ে, তার সঙ্গে কয়েক জন ছাত্রী। অপর দিকে ডিএসও-র কিছু মেয়ে, যারা সংখ্যায় বেশি ছিল। ‘ছোটো’ মেয়েটি জোরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনও সময় মারপিট আরম্ভ হতে পারে। আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করলাম। শান্ত করে দোতলায় নেমে এলাম। দোতলায় প্রফেসরদের বসার ঘর ছিল। কিন্তু আমি ওই ঘরে ঢুকলাম না। আমার আশঙ্কা হলো ‘ছোটো’ মেয়েটিকে মারধর না করে। ডিএসও-র মেয়েরা মারমুখী ধরনের ছিল এবং ওরা মারপিট করতে অভ্যস্ত ছিল। তাই আমি আবার তিনতলায় উঠে এলাম। দেখলাম, আর কিছু হয়নি। সেই দিনই ‘ছোটো’ মেয়েটির সাহস ও একরোখা মনোভাব আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। এই ঘটনার ২/১ দিন পর আমি ওই মেয়েটিকে আমার ক্লাসে দেখলাম। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, সেই সময় প্রায় সমস্ত ছাত্রী ক্লাস করত, কেউ বেশি মনোযোগী ছিল, কেউ কম ছিল। কিন্তু দিনের পর দিন ক্লাস কামাই করা তখন শিক্ষা-সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল না। আবার কিছুদিন পর কলেজের সরস্বতী পুজোয় ওকে খুব উৎসাহের সঙ্গে কাজ করতে দেখলাম। যতদূর মনে পড়ে, তখন যোগমায়া, আশুতোষ এবং শ্যামাপ্রসাদ কলেজের একটা পুজো হতো। ‘ছোটো’ মেয়েটি সম্পর্কে খোঁজ করতে শুরু করলাম। ওর নাম কী? যদিও মেয়েটি আমার ক্লাসে থাকত, ওর নাম জানার সুযোগ হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো জনপ্রিয় পাঠ্যবিষয়ে ক্লাসে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ ছাত্রী থাকত। তাই আমি ‘Roll Call’ করতাম না। তরুণদা (যোগমায়ার ভূতত্ত্বের অধ্যাপক তরুণ দত্ত) আমাকে জানালেন, ছাত্রীটির নাম মমতা ব্যানার্জি। ওনার বাড়ির কাছেই থাকে। অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। বাড়ির আর্থিক অবস্থাও তেমন স্বচ্ছল নয়। শুনে মনটা ভারাক্রান্ত হলো। আরও একটি ঘটনার কথা অস্পষ্টভাবে মনে আছে। একটি ক্লাসে ঢুকতে গিয়ে আমি দেখি, ডিএসও-র একটি ছাত্রী ক্লাসের মধ্যে বক্তৃতা করছে। আমাকে দেখে বক্তৃতা থামিয়ে চলে গেল। আমি সবেমাত্র পড়ানো আরম্ভ করেছি। ঠিক এই সময় মমতা এসে হাজির। মমতা ওই ক্লাসের ছাত্রী ছিল না। তার দাবি, তাকে বক্তৃতা করতে দিতে হবে। আমি রাজি হলাম না। মমতার যুক্তি, একটু আগে অন্য ছাত্রী সংগঠনের একটি মেয়ে বক্তৃতা করে গেল। আমি বললাম, আমি ক্লাসে প্রবেশ করার আগে থেকেই মেয়েটি বক্তৃতা করছিল। আমাকে দেখে চলে যায়। এখন আমি তো পড়ানো আরম্ভ করে দিয়েছি। কীভাবে বক্তৃতা করবে? মমতা অনড়। সে ক্লাসে ঢুকবেই। কিছুটা বিরক্ত হলাম, একইসঙ্গে মনে মনে খুশি হলাম। ছাত্র পরিষদে এই ধরনের একবগ্গা কর্মী প্রয়োজন। মমতাকে বললাম, ঠিক আছে ২/৩ মিনিট সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে হবে। মমতা কথা রেখেছিল। জানি না, এখনও মমতার সেই ক্ষোভ আছে কিনা। আরও একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। ১৯৭৩ অথবা ১৯৭৪ সাল। ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন— ছাত্র পরিষদ এবং ডিএসও। যেদিন মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল, সেইদিন বাংলা বিভাগের জনৈক অধ্যাপিকা চিৎকার করতে করতে ‘প্রফেসর রুম’-এ এসে জানালেন, ছাত্র পরিষদের কিছু মেয়ে তাঁর হাত থেকে কয়েকটি মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর পেনের খাপ জানালা দিয়ে হাজরা পার্কে ফেলে দিয়েছে। অধ্যক্ষা সিদ্ধান্ত নিলেন, নির্বাচন স্থগিত রাখবার জন্য। অপর দিকে ছাত্র পরিষদ দাবি করল, নির্ধারিত দিনে নির্বাচন করতে হবে। মমতার নিশ্চয়ই ঘটনাটি মনে আছে, কারণ ও তখনও কলেজের ছাত্রী ছিল। কলেজের শিক্ষক সমিতির (Teachers’ Council) জরুরি বৈঠক ডাকা হলো। আমি এবং তরুণদা বললাম, বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত। অধ্যক্ষা এবং নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবার নেবেন। শিক্ষক সমিতিকে এর মধ্যে টেনে আনা যায় না। শিক্ষক সমিতি শুধু পঠনপাঠন সংক্রান্ত ব্যাপারে অধ্যক্ষাকে পরামর্শ দেবেন। এ ছাড়া জনৈক অধ্যাপিকাকে আমি কয়েকটি প্রশ্ন করলাম— ১) যদি ছিনিয়ে নিতে হয়, সমস্ত মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেবে, কয়েকটি মাত্র কেন? ২) তিনি কী করে বুঝলেন, তারা ছাত্র পরিষদের মেয়ে, কারণ তাঁর নিজের ভাষায় ছাত্র পরিষদের নির্বাচন প্রার্থীরা এই কাজ করেনি। ৩) পেনটা না নিয়ে নিছক খাপ নিয়ে হাজরা পার্কে ফেলে দেবে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? অধ্যাপিকা খাপহীন পেনটা দেখাতে পারেননি। পরের দিন ছাত্র পরিষদের ছাত্রীরা অধ্যক্ষা ও আমাদের সারাদিন ঘেরাও করে রাখল। তার পরের দিন পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সমিতির (WBCUTA) নেতারা কলেজে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মিটিং করতে চাইলেন। অধিকাংশই সিপিআইএমের অধ্যাপক। সিপিআইএম তখন রাজনৈতিকভাবে প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই যে কোনও একটা ইস্যু পেলে, সিপিআইএম-মার্কা অধ্যাপক ও অধ্যাপিকারা ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আমরা ওই সভাটা ভেস্তে দিলাম, এই যুক্তিতে যে বহিরাগত অধ্যাপকরা কলেজের একটি ‘ছোটো’ সমস্যা নিয়ে কলেজের মধ্যে সভা করতে পারবেন না। তখন তাঁরা ঠিক করলেন, এসইউসি, সমাজবাদী (অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী ছিলেন) এবং বামপন্থী অধ্যাপকরা হাজরা মোড় থেকে পদযাত্রা করবেন। অধ্যাপকরা সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু কলেজের সাধারণ ছাত্রীদের বাধার দরুণ পদযাত্রা করবার সাহস পাননি।

মমতা স্নাতক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হলো এবং জনতা দলের সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হলো। পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন প্রবর্তিত হলো ওবং বামফ্রন্ট সরকার অনেকটা আশ্চর্যজনকভাবে ক্ষমতায় ফিরে এলো। ইতিমধ্যে আমি যোগমায়া দেবী কলেজের চাকরি ছেড়ে সরকারি কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দিলাম। সরকারি কলেজের বেতন তখন বেসরকারি কলেজ থেকে কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু যোগমায়া দেবী কলেজের চাকরি ছাড়ার সেটাই একমাত্র কারণ ছিল না। যাতায়াতের দিক থেকে যোগমায়াতে থাকা আমার সুবিধাই ছিল, কারণ কলেজটি আমার বাসস্থানের একদম কাছে ছিল। ১৯৭৪ সালে আমার বাবা কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ চলে গেলেন। সাময়িকভাবে আমাদের পরিবার কিছুটা হলেও আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন হলো। সেই সময় বেসরকারি কলেজের বেতন তিন ভাগে বিভিন্ন সময় পাওয়া যেত— কলেজের দেয় অংশ, রাজ্য সরকারের দেয় অংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) দেয় অংশ। তখন একসঙ্গে মাসিক বেতন মাসের পয়লা তারিখে পাওয়াটা আমার কাছে খুব দরকার ছিল, যেটা সরকারি কলেজে পাওয়া যেত। যাই হোক, ১৯৭৭-এর পর মমতার সঙ্গে সুব্রতদার (সুব্রত মুখোপাধ্যায়) বাড়িতে কখনও প্রায়ই, কখনও মাঝে মাঝে দেখা হতো। পড়াশোনা ও গবেষণার দিকে মমতার ঝোঁক ছিল, আমার সঙ্গে কখনও কখনও আলোচনা করত। তখন মমতা পুরোপুরি বৃহত্তর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। সুব্রতদার সমর্থন ওর প্রতি ছিল। সুব্রতদা মমতার প্রশংসা করে বলতেন, একরোখা মেয়ে। আজকের রাজনীতিতে এই ধরনের দৃঢ়চেতা মেয়ে দরকার। ১৯৮৪-র ডিসেম্বর মাসে লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মমতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো। মমতার বিরুদ্ধে ছিলেন সিপিআইএমের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সোমনাথবাবু তখন লোকসভার সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া নিজে বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণিতে (যে শ্রেণির মতো ধান্দাবাজ ও সস্তা সুবিধাবাদী খুব কমই আছে) আলোচনা হতো, ওইটুকু অখ্যাত মেয়ে সোমনাথবাবুকে হারাবে! মমতার সঙ্গে সীমিত প্রচার করার সুযোগ আমার হয়েছিল। মমতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে লাগল— ‘এবার পরিবর্তন আনুন। একটা সুযোগ দিন।’ আমার যাতে কোনও কষ্ট না হয়, মমতা আমার বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমার ওই সীমিত প্রচারে মনে হয়েছিল, মমতা হয়তো জিতে যাবে। নির্বাচনের ফল কী হয়েছিল, আমরা সকলেই জানি।

লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মমতা একদিন আমার গরচা রোডের ফ্ল্যাটে এলো। সংসদীয় বিষয় সম্পর্কে কিছু আলোচনার জন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও গবেষক হওয়ার সুবাদে সংসদীয় বিষয় সম্পর্কে কিছু ধারণা আমার ছিল। এ ছাড়া ১৯৮২ থেকে সুব্রতদার সঙ্গে বিধানসভা সংক্রান্ত কাজ করার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা কিছুটা অর্জন করেছিলাম। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, কঠিন পরিশ্রম করে এবং সারারাত লেখাপড়া করে তৈরি হয়ে সুব্রতদা বিধানসভায় যেতেন। যাই হোক, কয়েক দিন পর আমি মমতার বাড়িতে গেলাম। একটা মজার ঘটনা ঘটল। মমতাকে একটা লেখা আমি পড়ে শোনাচ্ছিলাম। দু-কাপ চা রাখা হয়েছিল। আমি ও মমতা নিজেদের কাপে চুমুক দিয়েছি। উভয়ই লেখাটা পড়ায় এত ব্যস্ত ও মনোযোগী ছিলাম, ওর চায়ের কাপে আমি চুমুক দিয়ে দিলাম এবং একইভাবে আমার চায়ের কাপে মমতা চুমুক দিয়ে দিলো। একটু পরেই ভুলটা বুঝতে পারলাম। মমতার মনে থাকতে পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। ১৯৮৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মমতা পরাজিত হলো। কিন্তু দমবার ও হতাশ হওয়ার পাত্রী মমতা নয়। ১৯৯০-এর ১৬ আগস্ট ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। সেই দিনটা কংগ্রেস বাংলা বন্‌ধ ডেকেছিল। হাজরা মোড়ের দিকে একটা মিছিল অগ্রসর হচ্ছিল। মিছিলের সামনের দিকে মমতা, অনিলদা (স্বর্গত অনিল মুখোপাধ্যায়), আমার ভাই (কলকাতা পুরসভার পুরপিতা অনুপ চট্টোপাধ্যায়) প্রমুখ ছিল। পিছনের দিকে আমি, অমিতাভ, রানা (কুন্ডু) এবং আরও অনেকে ছিলাম। হাজরা মোড়ে গোলমাল শুরু হলো। বহিরাগত সিপিআইএমের হার্মাদবাহিনী মমতাকে আক্রমণ করল। মমতাকে হত্যা করাই লক্ষ্য ছিল। মাথায় লাঠি পড়ল। আরও একটা লাঠি পড়লে বাঁচানো খুব কঠিন হতো। বহিরাগত হার্মাদবাহিনী যখন মনোহরপুকুর দিয়ে ফিরছিল, তখন আমার ভাইয়ের বাহিনী হার্মাদদের উপর চড়াও হলো। বোমা, লাঠি প্রভৃতি দিয়ে আক্রমণ করল। এই প্রসঙ্গে বলি, আমার ভাই অত্যন্ত ডাকাবুকো প্রকৃতির ছিল, দুর্জয় সাহস ছিল এবং দেহে ভীষণ শক্তি ছিল। গোলমালের ফলে আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লাম। পিজি হাসপাতালে মমতাকে গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি করা হলো। কয়েক দিন যমে-মানুষে টানাটানি হয়েছিল। ঈশ্বরের অসীম কৃপায় মমতায় বিপদমুক্ত হলো। একই দিনে খবর এলো, গড়িয়াহাটের কাছে সুব্রতদা একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সেই মিছিল আক্রান্ত হয় এবং সুব্রতদা গুরুতর জখম হন। তাঁকে বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। এরপর যে ঘটনা ঘটল, ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে কখনও হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে মহাকরণ থেকে বহিষ্কার করা হলো। একটি মূক ও বধির ধর্ষিতা মেয়ের জন্য বিচার চাইতে মমতা মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তো দেখা করলেন না। উপরন্তু পুলিশ দিয়ে মমতাকে চুলের মুঠি ধরে জোর করে মহাকরণ থেকে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়। কোনও মহিলা পুলিশ ছিল না। খবরের কাগজের রিপোর্টে পড়েছিলাম, প্রায় মাঝরাত্রি পর্যন্ত লালবাজারে আটকে রেখে তারপর মমতাকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মমতা তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রতি এই নির্দয় আচরণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সামিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অদ্ভুত নীরবতা তখন সাধারণ মানুষ ও আপামর কংগ্রেস কর্মীকে বিস্মিত করেছিল। এই ঘটনার ৩/৪ মাস আগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশে মমতা বামফ্রন্টের ‘বিদায় ঘণ্টা’ বাজিয়েছিল। তার কিছুদিন পর ১৯৯২-এর ডিসেম্বরের ৬ তারিখে বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হলো। এই ঘটনার কিছুদিন পর বামফ্রন্ট সরকারের তৎকালীন সমবায়মন্ত্রী সরল দেব আমাকে বলেছিলেন, ভাগ্যিস বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল, যার ফলে জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো সম্ভব হয়। নচেৎ মমতার ‘বিদায় ঘণ্টা’ সত্যিকারের বামফ্রন্টের বিদায় ঘণ্টায় পরিণত হতো। তারপর যে ঘটনা ঘটল, সেটা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়। ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। ১৩ জন নিহত হলেন এবং বহু কর্মী আহত হলেন। পরের দিন, মনে পড়ে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস বি চ্যবন কলকাতায় এলেন। যুব কংগ্রেসের তরফ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি দেওয়া হলো, যাতে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করল না। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এবং কংগ্রেস কর্মীরা উপলব্ধি করল, কেন্দ্রীয় সরকার বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না। হয়তো জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতার জন্য বা অন্য কোনও কারণে কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব চাইছিল না, রাজ্য কংগ্রেস এবং যুব কংগ্রেস বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন করুক। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করলেন, যেটা আমার মনে হয়, অন্য কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কল্পনার বাইরে ছিল— বিরোধী দলের প্রভাবশালী নেতাদের নানা সরকারি দাক্ষিণ্য ও সুযোগসুবিধা দিয়ে কার্যত কিনে নেওয়া। ভাবটা হলো, আন্দোলন করুন লোক দেখানোর জন্য এবং কর্মীদের খুশি রাখার জন্য। এর বেশি কিছু নয়। একমাত্র মমতাকে জ্যোতি বসু কিনতে পারেননি। এ ছাড়া পরিষ্কার ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত জ্যোতিবাবু সম্পর্কে অন্য রাজ্যে একটা মিথ তৈরি হয়েছিল। জ্যোতিবাবু উচ্চশিক্ষিত, ভদ্রলোক এবং সজ্জন বাঙালি ব্যক্তিত্ব। তাঁর দলের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু জ্যোতিবাবু একজন দক্ষ প্রশাসক। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে বিজেপির রাজ্য স্তরের জনৈক নেতা (বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে আছেন) আমাকে বলেন, বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত নেতারা যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতেন, তখন অন্য রাজ্যের প্রতিনিধিরা আশ্চর্য হয়ে বলতেন— তোমরা জ্যোতিবাবুকে আক্রমণ করছ কেন? সিপিআইএম খারাপ দল। কিন্তু জ্যোতিবাবুর মতো দক্ষ প্রশাসক ও ভদ্রলোক কতজন আছেন? আসলে জ্যোতিবাবুর মতো নির্মম, ‘রিগিং মাস্টার’ এবং দুর্নীতির উৎস মুখ্যমন্ত্রী কার্যত নেই বললেই চলে। যাই হোক, পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম-বিরোধী সাধারণ মানুষের ইচ্ছার বাস্তব রূপ পেলো ১৯৯৮-এর ১ জানুয়ারি, যেদিন মমতার নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলো। লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কিছুদিন আগে। আশঙ্কা ছিল, নতুন দল দাঁড়াতে পারবে কিনা। কংগ্রেস থেকে চলে এসে বা বহিষ্কৃত হয়ে যারাই নতুন দল গঠন করেছিল, কেউ সফল হয়নি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আশাতীত ভালো ফল করল। তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনকে রাজ্যের বাইরে বিস্তার করার প্রচেষ্টা আরম্ভ হলো। মমতাকে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী করা হলো। মনে আছে, রেলমন্ত্রী হয়ে মমতা একবার আমার ভাইকে নিয়ে আমার ফ্ল্যাটে এসেছিল। একটা বিষয় আলোচনার উদ্দেশ্যে (রেল সংক্রান্ত নয়)। ২০০০ সালে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো এবং সুব্রতদা মেয়র হলেন। কিন্তু ২০০১ ও ২০০৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো। কিন্তু মমতার মধ্যে হতাশা বলে কিছু নেই। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হতো, সেখানেই মমতা এবং তাঁর বিশ্বস্ত সহকর্মীরা। ২০০৬-এ সিঙ্গুরের চাষিদের স্বার্থে এবং বামফ্রন্ট সরকারের জমি-নীতির প্রতিবাদে মমতার নেতৃত্বে জোরদার আন্দোলন আরম্ভ হলো। একই আন্দোলন নন্দীগ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। একদিকে মমতার নেতৃত্বে দরিদ্র চাষি ও সাধারণ মানুষ, অপর দিকে সিপিআইএমের হার্মাদবাহিনী ও পুলিশ। পুলিশ ও সিপিআইএমের যুগ্ম আক্রমণ সত্ত্বেও এই আন্দোলন দমন করা গেল না। তখন মমতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটানা ২৬ দিন অনশন করেছিল। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন দাবানলের মতো বিস্তার লাভ করল। ২০০৮-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে বোঝা যাচ্ছিল, বামফ্রন্টের দীর্ঘদিনের জমানা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০০৯-এ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস-কংগ্রেস জুটি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করল। চূড়ান্ত ম্যাচ হলো ২০১১-এর বিধানসভা নির্বাচন। বামফ্রন্ট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। তৃণমূল কংগ্রেস-কংগ্রেস জুটি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে সরকার গঠন করল। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হলো। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে (২০১৬) তৃণমূল কংগ্রেস একাই মমতার নেতৃত্বে আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এলো। সিপিআইএম মমতার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি। ওর সরল ও সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য ওকে অনেকটা খাটো করে দেখত। কিন্তু মমতার দৃঢ়চেতা ও একরোখা মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল। সিপিআইএম দিশেহারা হয়ে মমতাকে হত্যা করবার চেষ্টা করল (যেমন ১৬ আগস্ট ১৯৯০)। ব্যর্থ হয়ে ব্যক্তিগতস্তরে কুৎসা ও মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করল, যে কাজে কমিউনিস্টরা চিরকালই দক্ষ।

আর একটা কথা লিখে প্রবন্ধটা শেষ করছি। আমাদের রাজ্যের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির (যে শ্রেণি সম্পর্কে আমার ধারণা এই প্রবন্ধেই আগে উল্লেখ করেছি) কিছু উন্নাসিক অংশ মনে মনে মমতাকে এখনও মেনে নিতে পারেননি। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের মতো প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসক। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নাতি এবং প্রথম শ্রেণির ব্যারিস্টার সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। জ্যোতি বসুও উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। ঠিক কথা। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকে এঁরা কেউ মমতার ধারে-কাছে ঘেষতে পারেননি। সবশেষে এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করছি। ১৮৯৩-এর ২০ আগস্ট স্বামীজির একান্ত অনুরাগী আলাসিঙ্গাকে স্বামীজি লিখছেন: ‘গণ্যমান্য, উচ্চপদস্থ অথবা ধনীর উপর কোন ভরসা রাখিও না। তাহাদের মধ্যে জীবনীশক্তি নাই— তাহারা একরূপ মৃতকল্প বলিলেই হয়। ভরসা তোমাদের উপর— পদমর্যাদাহীন, দরিদ্র, কিন্তু বিশ্বাসী— তোমাদের উপর। ভগবানে বিশ্বাস রাখো। কোন চালাকির প্রয়োজন নাই; চালাকি দ্বারা কিছুই হয় না।…আমরা ধনী বা বড়লোককে গ্রাহ্য করি না। আমরা হৃদয়শূন্য মস্তিষ্কসার ব্যক্তিগণকে ও তাহাদের নিস্তেজ সংবাদপত্রের প্রবন্ধসমূহও গ্রাহ্য করি না। বিশ্বাস, সহানুভূতি, অগ্নিময় বিশ্বাস, অগ্নিময় সহানুভূতি।’ (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, ষষ্ঠ খণ্ড, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা, ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৮৮-৮৯)

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, মমতা আরও দীর্ঘকাল পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করুক। ঈশ্বর ওকে আরও শক্তি দিন।

সংগ্রামী মা মাটি মানুষ পত্রিকা ২০১৭ পূজা সংখ্যায় প্রকাশিত

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev