সিপিআইএম, কংগ্রেস বিজেপির হাত ধরে ষড়যন্ত্র করে যত তৃণমূলকে আঘাতের চেষ্টা করবে, মানুষের দল তৃণমূল তত বাড়বে। বিজেপি এখন স্টেটলেস। ইউপি, কর্নাটকে আছে। যেখানে ভোট হচ্ছে সেখানেই ভরাডুবি। এক এক করে কলসি ডুবছে, ভো-কাট্টা হয়ে গেছে। শেষ কলসি ডুববে ২০২১-এ বাংলায়। মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বাঁকুড়ার সতীঘাটে কর্মী সম্মেলনে এ কথা বলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে সিপিআইএম তাদের ভোট বিজেপির হাতে তুলে দিয়ে ভেবেছিল বিজেপি ওদের সাহায্য করবে। দলের সাইনবোর্ড টাকা নিয়ে বিজেপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন মুখোশ খুলে গেছে, ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। বাঁকুড়াতেও সিপিআইএমের যে হার্মাদরা সন্ত্রাস চালাত তারাই বিজেপিতে রূপান্তরিত হয়ে সন্ত্রাস, আতঙ্কের কাহিনী ফেরাতে চাইছে জঙ্গলমহলে। ওরা জঙ্গলমহলে রক্তের রাজনীতি ফেরাতে চায়। রক্তের রাজনীতির খেলা খেলতে দেব না, নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, দাঙ্গা, যুদ্ধ লাগানোর ষড়যন্ত্র রুখব। আমরা সবাই মিলে ওদের দেশ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মা-মাটি-মানুষ সরকার জঙ্গলমহলে উন্নয়ন করেছে। মনে রাখবেন, তৃণমূল থাকলে শান্তি থাকবে, শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপি না ঘর কা, না ঘাট কাল। ভোট নিযল আর এনআরসি দিল। আমি রেলমন্ত্রী থাকার সময় বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথ করে দিয়েছিলাম। আর এক বছর থাকলে পুরো কাজ হয়ে যেত। ওরা কিছুই করল না। এবার বাজেটেও কিছু দেয়নি। আমরা ১ লক্ষ কোটি টাকা পাই, সেটাও দিচ্ছে না।
রাজ্য সরকারের উন্নয়নের বিস্তারিত খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি বাজেটে গরিব, আদিবাসীদের জন্য প্রকল্প, বরাদ্দের কথাও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, বাঁকুড়ায় জল প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। দিদিকে বলো-তে পাওয়া অভিযোগের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সাধ্যমতো সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে মাটির ঘরে থাকে, সাইকেল নিয়ে গিয়ে বুথে বসে, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যায়, চায়ের দোকানে বসে, মানুষের পাশে থাকে সেই কর্মীকেই আমি ভালোবাসি। যারা নিজেরটা ছাড়া কিছু বোঝে না তারা আমার নজরে আছে। জেলা সভাপতি শুভাশিস বটব্যালের অধীনে যে কাজ করবে না তাকে দল করার দরকার নেই। কী কাজ হলো, কী বাকি তা কর্মীদের ডায়েরিতে লিখে রাখার নির্দেশ দেন দলনেত্রী। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক বা সাধু সেজে অচেনা লোক টাকা দিতে এলে বা আঁধার কার্ড, প্যান কার্ড চাইলে দেখাবেন না। এলাকায় সন্দেডহভাজন অচেনা লোক দেখলে পুলিশকে জানান। আদিবাসীদের বিয়ের নামে মালদহে ধর্মান্তকরণ হচ্ছিল, পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আলিপুরদুয়ারেও আটকেছি। আদিবাসীদের কোনও সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানান। কিছু শর্ত যোগ করাতেই এনপিআরের কাজ বন্ধ করা হয়েছে, জনগণনার সঙ্গে ফারাক রয়েছে বলেই। নাগরিকত্ব নিয়ে কারও কাছে কৈফিয়ত দেবেন না। গান্ধীজির হত্যাকারীদের কাছে দেশপ্রেম শিখব না।
এদিনের কর্মী সম্মেলনে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, ইন্দ্রনীল সেন, শুভাশিস বটব্যাল, শ্যামল সাঁতরা-সহ দলীয় নেতৃত্ব।