
অনেকে বলে আমি নাকি মুসলিম তোষণ করি! আসলে আমি মানবতাকে তোষণ করি। আমাদের হিন্দু ধর্ম শিখিয়েছে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, ইসাই— সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে। আমরা মানবতায় বিশ্বাসী, আর সেবার আরেক নাম ধর্ম। বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ নেতাজি ইনডোরে ভারত সেবাশ্রম সংঘের আচার্য প্রণবানন্দজি মহারাজের ১২৫তম জন্মবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্ম বিশ্বজনীন। কারও সামনে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ধর্ম নয়, বরং তা খোলা মনে সকলকে গ্রহণ করার জন্য। এটাই সহনশীলতা। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ থেকে শুরু করে প্রণবানন্দজি— সকলের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। স্বামী বিবেকানন্দের মতো প্রণবানন্দজিও স্বল্পায়ু ছিলেন, ৪৫ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁরা কতো কাজ করেছেন। তাঁরা একটাই পথ দেখিয়েছেন যেখানে ধর্মের নাম সভ্যতা, সংস্কৃতি, সংহতি, সম্প্রীতি, একতা, ভালোবাসা, সবাইকে আপন করে নেওয়া, দুর্বলদের সবল করা, সবাইকে সমান চোখে দেখা, মানুষের কাজ করা, মানুষের পাশে থাকা, সুখে-দুঃখে দরিদ্রদের পাশে থাকাই তো মানবধর্ম। আমরা সকলে সমাজকে ভালোবাসি, ঐক্যবদ্ধ ভারতকে ভালোবাসি। আমরা একে অপরের জন্য প্রাণ দিই, কিন্তু আলাদা করি না। কারও আশ্রয় কেড়ে নেওয়া ধর্ম নয়, বরং আশ্রয় দেওয়াই ধর্ম। ভাষণ নয়, কাজই মূল কথা।

ভারত সেবাশ্রম সংঘের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রামকৃষ্ণ মিশন যেমন শিক্ষায় এগিয়ে, তেমনই ভারত সেবাশ্রম সংঘ মাটিতে থেকে কাজ করে। কী হবে না ভেবে যে কোনও সময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে। কাজের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। নরেন্দ্র মোদীর নাম না নিয়ে বিজেপি-আরএসএসকে নিশানা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান না দিয়ে কাজ করাই আসল। এখন একটা উদ্ভট ধর্ম নিয়ে এসে বলছে, আমি থাকবো তুমি বাদ! আমি খাবো তুমি বাদ! আমরা এটার পক্ষে নই। ওদের ব্রেনে মরুভূমি! আমরা চাই সবুজ, সতেজ ধর্ম। মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, শিকাগো যেতে চেয়েছিলাম। আমন্ত্রণ পেয়ে সম্মতিও জানিয়েছিলাম। পরে আয়োজকরা চিঠি দিয়ে জানালেন, অনিবার্য কারণবশতঃ অনুষ্ঠান করতে পারছি না। আমি বুঝেছি, নিশ্চয়ই ওেদর উপর চাপ ছিল যাতে আমি না যাই। আরে রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ কি শুধু শিকাগোতেই? তাঁরা মানুষের অন্তরে। সেই হৃদয়কে ইগনোর করার ক্ষমতা কারও নেই। আসুন, মানুষকে ভালবাসা শেখাই, বিপদে পাশে দাঁড়াতে শেখাই। রক্ত ঝরিয়ে নয়, বরং রক্ত দিয়ে জীবড় বাঁচাই, কারও কথায় যেন ভেদাভেদ না করি। বাংলা বিশ্বসেরা হবেই, বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।
