এবারের লোকসভা ভোট ও পরপর বেশ কয়েকটি বিধানসভার উপনির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের একছত্র জয়। ধরাশায়ী বিজেপি। ফলতঃ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের মধ্যে এক বিরাট উচ্ছ্বাস উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব এবার পড়েছে ২১শের শহীদ দিবসে লক্ষাধিক মানুষের জনসমাগম বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। যদিও রাজ্যের অনান্য বিরোধী দলগুলি শহীদ দিবস না বলে তৃণমূলের পিকনিক দিবস বলে কটাক্ষ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এবং বরানগর সহ চারটি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর পুনরায় ভরসা রাখার জন্য বাংলার আপামর জনতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন “এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। মানুষের এই আশীর্বাদকে পাথেয় করে, বিনয়ী হয়ে মানুষের সেবায় লীন হতে হবে আমাদের সকলকে। যেখানে আমরা জিতেছি এবং যেখানে কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি, সর্বত্রই আমাদের মাথানত করে মানুষের পাশে থাকতে হবে। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের সামাজিক বন্ধু, মানুষের পাহারাদার। এই দলে বিত্তবানের জায়গা নেই, আছে বিবেকবানের জন্য স্থান। সর্বোপরি, আমাদের দলে অন্যায়, দুর্নীতির কোনো স্থান নেই।” প্রসঙ্গত, গত কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকে কার্যত ধরাশায়ী হতে দেখা যায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।
এহেন সময়ে এবারের ২১শে জুলাই শহীদ সমাবেশ ছিল কাণায় কাণায় পরিপূর্ণ। প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের জনসমাগম লক্ষ্য করা যায় ধর্মতলা শহীদ সমাবেশ চত্বরে। এদিন শহীদ সমাবেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সভা সঞ্চালনা করেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ বিশ্বাস। উল্লেখ্য এদিন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সরকারের পক্ষপাত দুষ্ট আচরণের তীব্র নিন্দা করেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শহীদমঞ্চে আসেন উওরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেষ যাদব সহ সমাজবাদী পার্টির অনান্য বিশিষ্ট নেতৃত্বগণ। এদিন তৃণমূল নেত্রী সভামঞ্চে এসেই সর্বপ্রথম তিনি ১৩ জন বীর শহিদ-সহ রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে যাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সকলকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি, গুরু পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে সকল গুরুর শ্রীচরণে প্রণাম জানান।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ এর ২১শে জুলাই কলকাতার রাজপথ ভিজেছিল ১৩ জন শহীদের রক্তে। তাঁদের আত্মত্যাগ এবং লড়াই নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রাণিত করে বলে জানান দলনেত্রী। ধর্মতলায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শহীদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমস্ত স্তরের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিন মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উত্তরবঙ্গে আমাদের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। আমি আশা করি আগামীদিনে উত্তরবঙ্গের মানুষ আমাদের সমর্থন দেবেন। ‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি কোচবিহার, জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ ও মালদাবাসীদের। আমরা মালদা পার্লামেন্টারি ভোটে জিতিনি। জানি না কেন ভুল বুঝলেন। হয়তো আমাদেরই দুর্ভাগ্য। একটা সিট কংগ্রেসকে, একটি সিট বিজেপি। ওরা কিছু করেছে আপনাদের জন্য। কিন্তু তবুও ভুল বুঝিনি আমি। আমি মনে করি মালদার আম, আমসত্ত্ব ২০২৬এ আমরা পাবই। এই বিশ্বাস আমার আছে।’
রবিবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক বলে আক্রমণ শানান মমতা। তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক হয়ে যান। সমস্ত মানুষ এক হয়ে যান। ভয় পাবেন না। এজেন্সি দিয়ে তৃণমূলকে কিছু করা যাবে না। অনেক তো করলেন। আবার কী।” তিনি আরও বলেন, “আমি আবার বলি, তৃণমূল কংগ্রেসের বুকে রক্ত থাকতে বিজেপি নামক সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আমরা হাত মেলাব না। এটা আমাদের কাজ নয়। আমরা সবাই আমাদের সকলের জন্য।