
কালিয়াগঞ্জের কলেজ মাঠে পরিষেবা প্রদানের সভার পর প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক থেকেও দিল্লির হিংসা নিয়ে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ৩ মার্চ তিনি বলেন, দিল্লির ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র একবারও বলল না যে তারা দুঃখিত, মর্মাহত, লজ্জিত! এতো মানুষের প্রাণ কেন গেল? বাংলার মানুষ দিল্লি বা উত্তরপ্রদেশ চান না, যেখানে ওরা খালি খুন করে, আগুন জ্বালায়, ধ্বংস করে। বাংলায় আমরা সকলে শান্তিতে থাকি, মানুষের পাশে থাকি। কাশ্মীরে যখন গণ্ডগোল হচ্ছিল তখন আমরা ট্রেনে করে ১৩০ জনকে ফিরিয়েছিলাম। তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছু করতে। মুর্শিদাবাদের যে ৬ জন আপেল বাগানে কাজ করতে গিয়ে খুন হন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেছি, চাকরি দিয়েছি। মা-মাটি-মানুষ সরকার মানুষের পাশে থাকে। আমরা চাই গরিব মানুষ যাতে মাথা তুলে দাঁড়ায়। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বিডিও ও পুলিশকর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লির মতো ঘটনা যাতে এখানে কেউ না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বাইরে থেকে লোক এনে পাঞ্জিপাড়া-সহ সীমানা লাগোয়া এলাকায় বিজেপি গণ্ডগোল করতে যেন না পারে। নজর রাখুন, কোনও বহিরাগত হোটেল বা বাড়ি ভাড়া নিয়ে যেন টাকা না ছড়ায়, কোনওভাবে ধর্মান্তকরণ করতে না পারে। বেশি করে সিসিটিভি লাগিয়ে ও ওয়াচটাওয়ার করে নজরদারি চালাতে হবে। কেউ যেন কারও কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ না চায়। পরিষেবা প্রদানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় এনআরসি, এনপিআর, ‘ক্যা ক্যা’ হবে না। কেউ কোনও কাগজ চাইলে মা-বোনেরা রুখে দাঁড়াবেন। পাশে থাকবে ছাত্র-যুব। আপনারা বলবেন, ভোটার কার্ড আমার অধিকার, বাড়ির ঠিকানা আমার অধিকার, স্কুল-কলেজে সন্তানরা পড়ে, এটা আমার অধিকার। এই রাজ্যে ভোট দিই এটা আমার অধিকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মাটির এক ইঞ্চিও কাউকে দখল করতে দেব না। কারও অধিকার কাড়তে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বিস্তারিতভাবে সকলের সামনে তুলে ধরেন। উত্তর দিনাজপুর জেলায় হাসপাতাল পরিষেবার মানোন্নয়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কাজে কোথাও কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কারও অভিযোগ থাকলে জেলাশাসক বা পুলিশ সুপারকেও জানান। অ্যাকশন না হলে আমি দেখে নেব।