এনআরসি-ই বিজেপি-র ব্যুমেরাং হবে। এনআরসি হলো বেআইনি। অসমেও তো এনআরসি মানা হচ্ছে না। সরকার লাক্সারি নয়। কোনও রাজ্য এই এনআরসি মেনে নেবে না। মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ বিধানসভায় নিজের ঘরে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে প্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার আগের দিনই বলেছিলেন, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই এনআরসি করে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। তার প্রেক্ষিতে আরও একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি চলবে না। আমরা ভারতবর্ষের নাগরিক। সকলেই এই দেশে থাকব। বিজেপি-র রাজনীতির স্লোগান যা-ই হোক না কেন, সরকার ও দলের তরফ থেকে আমরা এর বিরোধিতা করে যাব। বিজেপি যা বলবে তা মেনে নেব না। এনআরসি-র বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সব ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এনআরসি-র বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, আমরা দেশের নাগরিক। সকলেই ভোট দেয়। একবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। কতবার দিতে হবে? আর দেওয়া যাবে না। শরীর থেকে দুটো কিডনি, লিভার বাদ দিয়ে দিলে শরীরটাই তো থাকবে না। শরীরটা ভাগ করে দেবে! রাজ্যে সম্প্রতি তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি নেতাদের এত ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার ভাল নয়। এরা সর্বনাশের খেলায় নেমেছে। হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগি করছে। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় মানুষদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। আমার ওপর আস্থা রাখুন, ভরসা রাখুন। বাংলায় এনআরসি হচ্ছে না। অহেতুক আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। আর মঙ্গলবার বিধানসভায় নিজের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা রাজনৈতিক স্লোগান দিক, আমরা পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে লড়ে যাব।
তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এনআরসি-র বিরুদ্ধে দল প্রতিটি অঞ্চলে মিটিং-মিছিল করছে। বিজেপি-র বিরুদ্ধে বিধানসভার তিনটি উপনির্বাচনে মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে তাঁরা আস্থা রেখেছেন। এদিন বিধানসভার লবিতে কলকাতার মেয়র এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড়ো বড়ো হুঙ্কার দিচ্ছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও এনআরসি নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। গব্বর সিংয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তুলনা করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে ভাঙার চক্রান্ত করছেন। বিভাজন করার চেষ্টা করছেন। এটা আমরা হতে দেব না। সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি দিচ্ছে কেন্দ্র এবং বিজেপি। বিজেপি সরকারের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। তাই বাংলার মানুষ ভোট দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন দেখে।