পৃথিবীর মানুষ এতো বড়ো সঙ্কট, অতিমারীর এমন ভয়াবহতা আগে কখনও দেখেননি। পৃথিবীর সকল মানুষের সঙ্গে এক হয়ে মানুষকে নিয়ে লড়াই লড়তে হবে। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে সেই লড়াই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, ভারতবর্ষে নানা জাতি নানা ধর্মের নানান সম্প্রদায়ের বসবাস—এমন জাতি বৈচিত্র্য আর কোথাও নেই বা থাকলেও খুব কম দেশেই রয়েছে। সবাই মিলে লড়াই মানে সব জাতি এবং সব ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মানুষের এক হয়ে লড়াই। জাতিভেদ, ধর্মভেদ, সম্প্রদায়-ভেদ সব ভুলে গিয়ে মানুষ হিসেবে এক হওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলার মানুষ ভারতবর্ষের সঙ্গেই রয়েছে। কিন্তু বাংলার জন্য রয়েছে আরও একটি অতিরিক্ত লড়াই, সেটি হলো অতি-ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই। যার নাম হলো আমফান। অতি-ঝড় এবং অতিমারী, এই দুটোকেই পরাস্ত করতে হবে বাঙালিকে। আর সেই লড়াইয়ের প্রধান অগ্রপথিক এবং লড়াইয়ের দিশারী জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর রয়েছে অপরিসীম ধৈর্য্য এবং অদম্য মনোবল। আর রয়েছে সীমাহীন সহ্যশক্তি। তিনি নেতাজীর দৃঢ়তা এবং মহাত্মা গান্ধীর সহিষ্ণুতার এক অপূর্ব মিশ্রণ।

তাই আজকের দিনে এবং আগামীতে তিনিই বাঙালির আদর্শ। তিনি সামনে, আমরা তাঁর পিছনে ও পাশে রয়েছি। এই সঙ্কটকাল আমরা উর্ত্তীর্ণ হবো এবং আমরা ভালোভাবেই জিতব। এই সময় শুধু চাই কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ ও সহযোগিতা এবং মহানুভবতা। আমাদের কেউ যেন কোনওভাবে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে ক্ষুদ্র সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির দ্বারা উত্যক্ত করে। আমি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার কথা জানাতে চাই রাজ্য সরকারের পুলিশ প্রশাসন এবং নেতৃত্বকে। আর সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানাই ডাক্তারবাবু, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের। তাঁদের লড়াই চিরকাল বাংলার ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশকর্তা ও পুলিশকর্মী সকল সৈনিককে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানাই। আমার মতো সামান্য ক্ষুদ্র মানুষের আপনারা আন্তরিক নমস্কার গ্রহণ করুন। প্রত্যেকেই ভালো থাকবেন। একটা কথা চারিদিকেই শুনতে পাচ্ছি সেটা হচ্ছে, তিনরাত্রি আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর চোখে ঘুম নেই। তাঁর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমকেও জেগে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের এই লড়াই খুব সাধারণ মানুষ যাঁরা, সাধারণ শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, দরিদ্র, গৃহবধূ, সবজি বিক্রেতা সবার মুখ থেকে ভেসে আসছে তাঁরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। খোদার আশীর্বাদে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এই সঙ্কট থেকে রোগমুক্ত, সঙ্কটমুক্ত জীবনে নিয়ে যাবেন।
আমি সহমত পোষণ করি।