যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি যখন, তখন হাল ছাড়া চলবে না। ডরেঙ্গে নেহি, লড়েঙ্গে (ভয় না পেয়ে লড়ব)। শুক্রবার ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভিডিও কনফারেন্সে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ যে বৈঠক হচ্ছে তা আমরা দু মাস ধরে করছি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি কিট, মেশিন সরবরাহের জন্য। ৭টি ল্যাবরেটরিকে অনুমতি দিতে বলেছি। এটা দ্রুত হওয়া দরকার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধের দাবি জানাতেই আরও দুটি রাজ্য সেই দাবিকে সমর্থন করে। করোনায় প্রভাব পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রে যুক্তদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্যশস্য পর্যাপ্ত থাকলেও বাংলা ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আরও খাদ্যশস্য পাঠাতে বলেন প্রধানমন্ত্রীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নোট নিয়েছেন। তবে আশ্বাস কিছু মেলেনি। এখনও কেন্দ্রের সাহায্য পাইনি। রাজ্য সরকারের এমএসএমই দফতর স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার তৈরি করছে। হাসপাতালগুলির চাহিদা মিটিয়ে তা বাজারেও আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষ বিদেশ থেকে ফিরেছেন। ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার মানুষের স্ক্রিনিং হয়েছে। কোয়ারান্টিনে আছেন ৫৭ জন। দুজন যাঁদের পজিটিভ ধরা পড়েছে তাঁরা আইসোলেশনে আছেন। গৃহ পর্যবেক্ষণে আছেন ১৮ হাজার ৭০০ জন। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৮ জনের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে চলুন। ভিড় বা জমায়েত এড়িয়ে নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকে সুস্থ রাখুন। রোগ লুকিয়ে কেউ ঘুরবেন না। জরুরি না হলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষা কিছুদিন পর করুন। বাজার-দোকান সব খোলা থাকবে। তবে সেই চত্ত্বর পরিষ্কার রাখতে হবে। কেউ গুজব বা কালোবাজারি চালালে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। জোর করে কিছু চাপানো যায় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা নর্থ-ইস্টের গেটওয়ে। অনেক দেশের বর্ডার থাকায় বাংলার ব্যাপার সব সময় সেনসিটিভ। তবু বাংলা যা পারে আর কেউ পারে না। ফ্রিতে রেশনের ব্যবস্থা বাংলা করেছে দেশের মধ্যে প্রথম।
ছবি : শুভেন্দু দাস
