বাংলার মেধাকেই কাজে লাগায় অন্যরা। কিন্তু কিছু হলেই তাঁদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়। এবার করোনার সময়ও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সেই ভাই-বোনেদের উদ্দেশে এবার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্যে এখন অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। জরি, সোনার কাজের প্রচুর ক্লাস্টার রয়েছে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কর্মতীর্থ থেকে শুরু করে কিষাণ মাণ্ডি রয়েছে। বেকারদের ব্যবসা করতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। দেশে যখন বেকারত্ব বেড়েছে তখন বাংলায় তা কমেছে ৪০ শতাংশ। কোনও কাজ ছোটো নয়। যেখানে কাজে গেলে যখন-তখন বাড়ি পাঠিয়ে দেয়, সেখানে না গিয়ে বাংলায় থেকেই কাজ করুন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে যাঁরা বিদেশ থেকে বা বাইরের রাজ্য থেকে এসেছেন, তাঁরা ১৪ দিন বাড়ির বাইরে বেরবেন না। নিজেকে অবশ্যই আলাদা করে রাখুন। বাকিদের সুস্থ ও ভালো রাখতে নিজের ব্যবহার করা জিনিস অন্যরা যাতে ব্যবহার না করেন, তা নিশ্চিত করুন।সাবধানে থাকুন, বিশ্রামে থাকুন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোন উপসর্গ দেখা দিলে, ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন। বিদেশ থেকে বা বাইরের রাজ্য থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের আরও একবার অনুরোধ করা হচ্ছে ১৪ দিন বাড়ির বাইরে না বেরোতে। বাইরের কাজকর্ম কিছুদিন পরে করুন। আতঙ্কিত হবেন না, আতঙ্ক ছড়াবেন না। সকল রাজ্যবাসীকে অনুরোধ করা হচ্ছে কোনও অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। সেরকম পরিস্থিতি দেখলে, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে খবর দিন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।গরিব মানুষের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে একটাই ঘরে থাকেন। সেক্ষেত্রে যিনি বাইরে থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি মশারির মধ্যে থাকুন। বাড়ির লোকেরা মাস্ক বা গ্লাভস ব্যবহার করুন। মাস্ক না পেলে গেঞ্জির কাপড় দিয়ে মুখ-নাক ঢেকে রাখুন। ২ মিটার দূরত্ব থেকে কথা বলুন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি মাস্ক, স্যানিটাইজার বানাচ্ছে। দিনে ৬ হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি হচ্ছে। হাসপাতাল, সাফাইকর্মী, পুলিশকে দিয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার কয়েকটি জায়গা থেকে তিন-চারদিনের মধ্যে বিক্রি শুরু হবে। সতর্ক থাকতে নিম, তুলসি খান। প্রোটিনের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট দরকার। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খাবেন। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁ, নাইট ক্লাব, ম্যাসাজ পার্লার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
