ভয় না পেয়ে লড়ব, করোনাকে পরাস্ত করব। বুধবার ৮ এপ্রিল নবান্ন থেকে করোনা যুদ্ধে এই প্রত্যয়ের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলার অবস্থা অন্য রাজ্যের তুলনায় ভালো। আমরা লকডাউনের সুফল পাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা পজিটিভের সংখ্যা দুটি বেড়ে ৭১ হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১১টি পরিবারের ৬১ জন। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং না মানার ফলেই এটা হয়েছে। বেলেঘাটা আইডি-তে ৮২টি বেড থাকলেও রোগী আছেন ১৬ জন, তাঁদের মধ্যে আজ ছুটি পাবেন ৩ জন, আরও দুজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আরেকটা স্বস্তির খবর, এনআরএস হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার তিনটি টাস্ক ফোর্স গড়েছে। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া দরকার, তা দেখবে। অর্থ সচিবের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স অর্থনৈতিক বিষয় দেখবে। স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে এনফোর্সমেন্ট টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির চিকিৎসক ডা. অভিজিৎ চৌধুরী এসএসকেএম হাসপাতালের ডা. ঢালিকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো দেখে রিপোর্ট দেবেন। ডা. অভিজিৎ চৌধুরী জানান, করোনা চিকিৎসায় বাংলা একটা দিশা দেখাচ্ছে। রাজ্যে যে কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক আছে সেখান থেকে প্লাজমা অন্যের শরীরে দিলে তাঁকে সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বণিকসভা, হসপিট্যালিটি সেক্টরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবান্ন সভাঘরে বিকেল চারটের সময় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনও পর্যন্ত ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ পিপিই, ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০ এন-৯৫ মাস্ক, ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ অন্য মাস্ক, প্রায় ৩ লাখ গ্লাভস, ৫ হাজার থার্মাল গান ও ৪২ হাজার ২৫১ লিটার স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লকডাউন কতদিন চলবে জানি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন শুরুর থেকে ৪৯ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসেবে ১৯ মে অবধি সকলে সাবধানে চললে আমরা করোনাকে পরাস্ত করতে পারব। সকলে মুখ ঢেকে বাজারে গিয়েও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলুন। মাস্ক না থাকলে কাপড় বা গামছা ব্যবহার করতে পারেন।