আজ বাংলার প্রায় ঘরে ঘরে সর্পদেবীকে আবাহন। ভক্তিভরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, মন্ত্রপাঠ, চণ্ডিপাঠ, মনসাগান করে সর্পসদেবীকে তুষ্ট করতে হবে। কারণ সারাটা বছর গ্রাম-বাংলার মানুষের ভয় থাকে সাপের দংশন থেকে। আজকের দিনে ঘরে ঘরে এমনকি অসংখ্য মনসা মন্দিরেও দেবী পূজিতা হচ্ছেন। এমন দৃশ্যও দেখা যাবে সাপের দংশন কিম্বা ভয়ের হাত থেকে বাঁচতে পাঁঠাবলীর রেওয়াজ। যা কয়েকশো বছর ধরে চলে আসছে। উল্লেখ করতেই হয় আরামবাগের মনসাডাঙ্গার আজকের মনসা পূজা। প্রায় আড়াইশো বছর ধরে চলে আসছে এই পূজা। সঙ্গে নিত্য পূজাও। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল শয়ে শয়ে পাঁঠাবলী। মন্দিরের সামনে হাড়িকাঠ ছাড়াই খোলা অবস্থায় কামার কোপ করছেন। মন্দিরের সামনে রক্তের স্রোত বইছে। শিশুদের অবাক নয়নে আতঙ্কের ছাপ চোখে-মুখে। পাঁঠা মানতকারী ভক্তরা বলীর সময় সাষ্টাঙ্গে ধুলোর সঙ্গে মাটিতে মিশে গেছেন। একটাই উদ্দেশ্য আমার সন্তান যেন বিষহরি থেকে রক্ষা পায়। এ দৃশ্য আজ দেখা গেল মনসাডাঙ্গায়।

প্রসঙ্গত, মনসাডাঙ্গার পূজা মানেই আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের পূজা। সকাল থেকে বিকেল ভক্তদের আসা – যাওয়া। সন্ধ্যায় গিন্নিদের ঠাকুরতলায় ফলাহার। আনন্দে মাতে শিশুরাও।
এখানকার পূজা কমিটির সদস্য আশিস রায় জানান, এই জাগ্রতদেবীর আরাধনায় কোনও খামতি থাকে না। গত আড়াইশো বছর ধরে এই পূজা চলে আসছে। তিনকড়ি হড় দেবীর স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন ‘আমা হতে তোদের সব হবে’। এরপর মাটির ছিটেবেড়া ঘরে দেবীর আরাধনা শুরু হয়। এখন দেবীর মূর্তি বসেছে। পাকার মন্দির হয়েছে। বলীপ্রথা আজও রয়ে গেছে। বরঞ্চ বলীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।করোনার প্রার্দুভাবের সময় দু’বছর নিয়মরক্ষার পূজা হয়েছে।এ বছর ধূমধাম করে পূজা হচ্ছে। গত ২০১৯ সালে এখানে পাঁঠাবলী হয়েছিল ৭৪৫টি।এবারে এখানে এখনো পযর্ন্ত (বেলা দুটো) হয়েছে প্রায় ৬৬৯টি। আশা করছি ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে। এখানে বলীর বৈশিষ্ট্য হল হাড়িকাঠে নয়। শিঙে সূতলি দড়ি ধরে কামার বলী করেন। অর্থাৎ ছাড়াকোপ হয়। এভাবেই চলে আসছে।

প্রসঙ্গত, তিন পুরুষ ধরে পারিবারিক পূজা আজ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের পূজা হয়ে উঠেছে। বলীপ্রথা অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে গেলেও এখানে বন্ধ হয়নি। বরঞ্চ বেড়েছে। প্রশাসন কিম্বা বুদ্ধিজীবীদের কারও হুঁশ নেই এব্যাপারে।