গভীর নিম্নচাপ রেমালের প্রভাবে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাগুলোতে। বাদ যায়নি আরামবাগ-সহ হুগলির চারটি মহকুমা। গত রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত একনাগাড়ে ঝড় ও বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড গোটা জেলা। আরামবাগের ছ’টি ব্লকেই শতাধিক মাটির বাড়ি চরম ক্ষতিগ্রস্ত। বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বাদাম, তিল, তরমুজ ও সবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর ও চন্দনগর মহকুমাতেও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। একপ্রকার দক্ষিণ বঙ্গের অধিকাংশ জেলায় রেমালের প্রভাবে প্রবল ঝড় — বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাদাম, তিল, ধান ও সবজি চাষে। চিন্তায় চাষিরা।

পাকা ধান ওঠার শেষ মরসুমে অকাল বর্ষণ মই দিয়েছে। সেই সঙ্গে বাদাম ও তিলের নিচু জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন ওই সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া অর্থকরী ফসল সবজি পচে যেতে পারে। বিশেষ করে বেগুন, কাঁচা লঙ্কা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়স, করোলা ও পটল ইত্যাদি। এই সমস্ত সবজি জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। চিন্তায় চাষিদের মাথায় হাত। অধিকাংশ চাষি ধারদেনা করে সবজি চাষ করেছেন। প্রবল বর্ষণে ক্ষতির সম্মুখীন চাষিরা। আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে সবজীর দাম। এমনিতেই হু হু করে বাড়ছে আলুর দাম। এরপর সবজি নষ্ট হলে অগ্নিমূল্য হবে বাজারদর। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
উল্লেখ্য, এ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্ৰাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও নদীয়া জেলায় গত রবিবার রাত থেকে অঝোরে বৃষ্টির জল দাঁড়িয়েছে অধিকাংশ জায়গা। এসময় অতিরিক্ত বৃষ্টির ঠাণ্ডা জল সহ্য করতে পারবে না শাকসবজি। এগুলোতে পচন ধরবে।

ব্যাঙ্ক ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ করে অধিকাংশ চাষি চাষ শুরু করেছেন। এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। আরামবাগ মহকুমা কৃষি আধিকারিক বিকাশ দে বলেন, চলতি মরশুমে কিছু পাকা ধান, বাদাম ও তিলের পাশাপাশি সবজির কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে বৃষ্টির জল নিচু জমিতে যাতে না দাঁড়িয়ে থাকে তা চাষিদের দেখতে বলা হয়েছে। অবশ্য উঁচু জমিতে যে সমস্ত চাষির ফসল ছিল তাঁরা উপকৃত হবেন। কারণ বহুদিন বৃষ্টি হয়নি। বাদাম তোলার কাজটা আরও সহজ হবে।