ভারতীয় সংস্কৃতি স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসাকে কোনদিন মান্যতা দেয় নি তাই কৃষি ও খাদ্যকে ব্যবসার বাইরেই রাখতো। বেদের যুগে শিল্পী, কবি, লেখক ইত্যাদি বরেন্যদেরকেও কৃষিকাজ করতে হতো। কৃষি এক শ্রদ্ধার জীবিকা, কৃষি লাইফ স্টাইল নয় লাইফ সাপোর্টিং ম্যানেজমেন্ট-এর পুনঃ প্রতিষ্ঠা আমাদের এক মিশনও বটে। খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বা কৃষি সম্মান না পেলে ভোজন সামগ্রীও পূজা পাবে না, ভোজন সামগ্রী পূজা না পেলে খাদ্যও কখনো প্রসাদ হবে না, খাদ্য প্রসাদে রুপান্তর না হলে তা কখনই সাত্তিক আহার হবে না, আহার সাত্তিক না হলে আমাদের শারীরিক, মানষিক, বৌদ্ধিক, আত্মিক এবং অর্থনৈতীক বিকাশের সহায়ক হবে না।
যাকগে এসব ২ কেজি মুসুর ডাল কেনা বেচার জন্য এত জ্ঞান বিরক্তিকর! একে তো বাংলা বানান ভুলেরই ওয়ার্ল্ডকাপ বিজেতা আজ আবার abcd। দেখুন স্ক্রীনশট টার আজকের লেখার সম্পর্ক নাই তেমন তবে আগের জাঁতায় ভাঙ্গা মুসুর ডাল নিয়ে লেখাটার সাথে কিছু চেইন রিয়্যাকশন আছে কেমন সেটা-গ্লাইফোসেট-কানাডা-মুসুর ডাল আমদানী-টনি মিত্র–জিএম (GM) প্রোডাক্ট! আমি খাটো বুদ্ধির চেষো লোক ফলে ইন্টেলিকচুয়ালদের সস্তায় চকচকে মুসুর কেনার আগে এমন বখাটে লেখাকে ঔদ্ধত্ব মনে হতেই পারে তবে তার জন্য আমাকে পারলে ক্ষমা করিয়েন।

আমি তো হালের কথা বলছি মুসুরডালের বোদ্ধারাতো মুসুর ডালকে ১৩ হাজার বছর আগে গ্রীস থেকে আঙ্গুল ধরে হাটাতে হাটাতে প্যালেস্তাইন, তুর্কি ইত্যাদি হয়ে একদম আমাদের ভাতের থালায় এনে দাড় করিয়ে দিয়েছে। তবে সেদিন বোধহয় জিএম (GM) বীজ ছিল না, গ্লাইফোসেট প্রয়োগ হতো না আজকেরটা বলতে পারবো না। বিশ্বের প্রথম সারির বিজ্ঞানীরা বলছেন মুসুর ডালের শরীরে লুকিয়ে আছে অনেক পুষ্টিকর উপাদান যা একাধিক মারন রোগের প্রতিরোধক হিষাবে কাজ করে। হার্টকে সুস্থ রাখতে মুসুর ডালের নাকি বিকল্প নেই প্রতিদিন মুসুর ডাল খেলে এর ভিতরে থাকা ফাইবার রক্তে মিশে থাকা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয় তাতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনাকেও হ্রাস করে। মুসুর ডালে থাকা ফলেট এবং ম্যাগনেশিয়াম হার্টের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে, ফলেট শরীরে হমোসিস্টেনিনের মাত্রা কমায় ফলে হার্ট দীর্ঘদিন পর্যন্ত কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে, ম্যাগনেসিয়াম সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বৃদ্ধি করে তাতে কেবল হার্ট নয় শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরই কর্মক্ষমতা সুচারু রুপে চলে এবং বৃদ্ধি পায়। প্রচুর ফাইবারের কারনে শরীরে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে ফলে বদ-হজম-সহ গ্যাস অম্বলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম এবং ডাইভারটিকিউলোসিসের মতো রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পরিবারে ডাইবেটিস রোগ থাকলে বিশেষজ্ঞদের মতে খাবারে প্রতিদিন ডাল রাখা উচিত কারন ডালে থাকা সলেবল ফাইবার ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে সক্ষম ফলে পরিবারে বাকীদের ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিকে নিয়ন্ত্রন করে তেমনি ইনসুলিন রেজিস্টেন্স এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মতো সমস্যা বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে।

মুসুর ডালে থাকা ২৬% ক্যালরি মূলতঃ প্রোটিন হিসাবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দূর করে। যারা মাছ মাংশ অপছন্দ করেন তারা মুসুর ডালকে একটু বেশী গুরুত্ব দিলে ভালো। মুসুর ডালে পর্যাপ্ত পরিমানে কার্বোহাইড্রেডও বর্তমান, ফলে ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেড এনার্জি লেবেল বৃদ্ধি করে তাতে অল্পেতে ক্লান্ত হবার প্রবনতা রোধ করে। মুসুর ডালে থাকা কার্বোহাইড্রেড, প্রোটিন, উপকারি খনিজ এবং ফাইবার থাকার কারনে অযথা ওজন বৃদ্ধি হতে দেয় না। তবে এই ডালে প্রাণীজ প্রোটিন থাকে, মাছ মাংসে থাকা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড গুলি এই মুসুর ডালেও পাওয়া যায় বলে বড়দের মত তাই অনেকেই এই ডালকে এড়িয়ে চলেন। চোখের নীচের ফোলা ভাব এবং চোখের সমস্যা তে উপকার পাওয়া যায়। নিউট্রিশনিস্টরা জানাচ্ছেন মুসুর ডালে ফলিক অ্যাসিড থাকার কারনে পুরুষের শুক্রানু কমে যাওয়ার প্রবনতাকে প্রতিরোধ করে। তবে ইউরিক অ্যাসিড প্রবন শরীরধারীদের মুসুর ডালের প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ নেবেন নচেৎ হিতে বিপরীত হতে পারে।
রূপ সচেতন মাতৃশক্তি তাদের ত্বকের উজ্বলতা বৃদ্ধির জন্য মুসুর ডালকে ফেসপ্যাক হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। টক দই, ব্যসন, হলুদগুড়ো, মধু, চালের গুড়ো, আমন্ড ওয়েল, অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদির সাথে আলাদা আলাদা মিশিয়ে মাতৃশক্তি মুখের ছোপ দাগ মুছতে, ঠোটের উপরে বা গালের অবিঞ্ছিত রোম তুলতে, ত্বকের শুষ্কতা দুর করবে, রোদের কালোদাগ তুলতে, মৃত ত্বকের কোষ পরিষ্কার করতে মুসুর ডালের পেষ্টের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। সেকালের মুসুর ডাল বিষমুক্ত ছিল বাড়ীর জাঁতায় ভাঙ্গানো হতো আজ আর সেদিন নাই !

জাঁতায় ভাঙ্গানো মুসুর ডাল। অবশ্যই গ্লাইফোসেট (glyphosate) ফ্রী। এই গ্লাইফোসেট কি কেন কাদের এ নিয়ে আলোচ্য বিষয় আমাদের নয় কারন বামন হয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন আমরা দেখি না। তবে অত্যুৎসাহী বন্ধুরা নেটে গিয়ে দেখতে পারেন। মুসুর ডালকে গরীবের পাতের মাংসও বলে। একটি ডাটা বলছে ২০১৯ সালের প্রথম ৯ মাসে ভারত কানাডা থেকে ৫,৭৪,০৮৬ মেট্রিক টন মুসুর ডাল আমদানি করেছে (১ মে.টন=১০০০ কেজি)। আমার চেষো জ্ঞানে জানা বাঙ্গালী মুসুর ডাল খাওয়াতে স্বর্ন নয় প্ল্যাটিনাম পদক প্রাপ্ত। মুসুর ডালটাই আমার গরীব বাঙ্গালী ভাইদের নিত্য সর্বোচ্চ প্রোটিনের উৎস। মহাভারতের যুগে আচার্য্য দ্রোন গরিব ছিলেন ফলে পুত্র অশ্বত্থামাকে চালের পিটুলিগোলাকে জলে গুলে দুধ বলে খাওয়াতেন আর পুত্র অশ্বত্থামা তাই খেয়ে দুধ খাবার আনন্দে নাচতো। আজ সে দিন নাই তাই আমাদের জানতেই হবে আমার পাতের মুসুর ডালটাকে!