গত ২০ অক্টোবর মাটিগাড়ার বালাসন সেতুর তিন নম্বর পিলার বসে যায়। যার জেরে ওই সেতু কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে যায়। যার জেরে শিলিগুড়ি যাতায়াতে ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়। আজ সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করলেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শিলিগুড়ি এবং বাগডোগরার মধ্যে সংযোগকারী বেইলি ব্রীজের উদ্বোধন করা হবে। তবে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্মিত অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বেইলি ব্রীজের ওপর যান চলালচলের ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শিলিগুড়ি এবং বাগডোগরার মধ্যে সংযোগকারী বালাসন সেতুটি ৭ মিটার চওড়া থাকলেও, নব নির্মিত বেইলি ব্রীজটির চওড়া ২.৪৫ মিটার। সেই জন্য এই সেতু দিয়ে শুধুমাত্র একমুখী যান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেজন্য আলাদা করে ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে বালাসন-বেইলি ব্রীজে। বেইলি ব্রীজিটির উচ্চতা ১.২ মিটার হওয়ায় এবং দৈর্ঘ্যে ১২ মিটার হওয়ায় ব্রীজিটিতে ওঠার এবং নামার জন্য র্যাম্প তৈরী করা হয়েছে। সেইজন্য কোন গাড়ি যাতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করে সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা। সমস্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন এস.আই-এর নেতৃত্বে বালাসন সেতুতে একটি আলাদা করে আউটপোস্ট তৈরী করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা। রাতে সেতু পারাপারের জন্য হ্যালোজেন লাইট লাগানো হয়েছে। এই সেতু এবং আপ্রোচ রোড এলাকায় কোন গাড়ি পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমস্ত পণ্যবাহী যান চলাচলের পাশাপাশি ৪২ সিটের যাত্রী বাস এবং ভলভো ও দূরপাল্লার বাসের যাতায়াতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনীর ট্রাক যাতে বেইলি ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত না করে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বেইলি সেতু দিয়ে টোটো এবং রিক্সাভ্যান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে অটো, দু চাকার যান, চার চাকার যান এবং ছোট যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে পারবে বেইলি ব্রীজ দিয়ে। তবে এই সমস্ত যাত্রীবাহী গাড়ির ওজন, যাত্রী সহ ১৫ টনের নীচে হতে হবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা।

উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ রক্ষাকারী বালাসন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়ে ছিল আমজনতা। অবশেষে তড়িঘড়ি বালাসন ব্রিজ-এর ওপর বেইলি ব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার সেই ব্রিজের পাশে যান চলাচলের বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হল হিউম ব্রিজ গড়ে। রাজ্য পূর্ত দফতরের ন্যাশনাল হাইওয়ে ডিভিশন এই সেতু তৈরির কাজ শুরু করে। ১১ কোটি ৬ লক্ষ টাকা পৃথক সেতু তৈরির জন্য টেন্ডার করা হয়। বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য নদীতে হিউম পাইপ বসিয়ে হাইট বেরিয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে যানবাহন চলাচল শুরু হলে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা দিয়ে যানবাহন না যায়। ব্রিজের যে স্তম্ভের ক্ষতি হয়েছে তার পাশেই নতুন করে বেইলি ব্রিজের জন্য স্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া বালাসন সেতুর উপরে বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ শেষ করা হলো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কথা দেওয়া হয়েছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বেইলি ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রশাসন সেই কথা রেখেছে।