আবার এক অমানবিক দৃশ্যের সম্মুখীন হলেন এলাকার মানুষ। এবার উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি। আনুমানিক বছর ৫৫-র এক অজ্ঞাত পরিচয় মানুষ প্রায় তিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে পরে রইলো। হাসপাতাল কর্মীরা যাওয়া আসার পথে দেখলেন কিন্তু কেউ গা করলেন না। ফলে যে কে সেই, অসুস্থ অসহায় মানুষটি মাটিতে শুয়েই কাটিয়ে দিলেন তিন দিন। মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিসের কাছে অসহায় হয়ে যায়। কখনো পরিস্থিতির কাছে, কখনো বা সময়ের কাছে, কখনো বা বয়সের কাছে।
অজ্ঞাত পরিচয় এই মানুষটি উলঙ্গ অবস্থাতেই পরেছিলেন হাসপাতালের সম্মুখে। কেউ হয়তোবা একটা নতুন গামছা কিনে তার লজ্জা ঢাকে। কেউ কেউ তাঁকে বিস্কুটও কিনে দেন। এইভাবেই কেটেছে তিনদিন। সোমবার ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে এই অমানবিক দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রোগী এবং রোগীর পরিজনরা। ক্ষোভের কারন জানতে এলাকার সাংবাদিকরা হাজির হন। শেষপর্যন্ত সাংবাদিকদের চাপে পড়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই অসুস্থ মানুষটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক এরপর তাঁকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেন। অসুস্থ ওই বৃদ্ধের পরিচয় জানা যায়নি। বৃদ্ধ পরিষ্কারভাবে কথা বলতে পারেন না।

অভিযোগ, এদিন সকাল থেকেই ওই বৃদ্ধ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিবস্ত্র হয়ে কাতরাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার আর্জি জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় বচসা বেধে যায়। ওই সময় ওখানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক এরপর তারাই বৃদ্ধের সহায়তায় এগিয়ে আসে। পরে অবশ্য ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। স্থানীয়রা ও হাসপাতালে উপস্থিত সকলেই এই ঘটনাকে অমানবিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. লাকি দেওয়ান বলেন, ‘আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি ওনার পরিচয় জানার কিন্তু বাড়ির লোকের কোনও খোঁজ পাইনি। এই রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে আইসোলেশন নেই। হাসপাতালের ভেতরে রাখা হয়েছিল বৃদ্ধকে। কখন তিনি একাই বাইরে বেরিয়ে শুয়ে ছিলেন আমরা খেয়াল করিনি।’ জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, ‘যতদূর খোঁজ পেয়েছি ওই বৃদ্ধ মানসিক ভারসাম্যহীন। খবর পাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে।’