১৭ মার্চ শুক্রবার ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য পুর বাজেট পেশ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। করোনা-লকডাউন পর্ব পার করে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জন জীবন। নিউ নর্মাল-এর সঙ্গে তালমিলিয়ে আমাদের যাপন প্রণালী আজ অনেক আধুনিক। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গে তথা গোটা দেশে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের নিরিখে গত বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে কলকাতা পৌরসংস্থা কর বাবদ ভালো টাকা সংগ্রহ করেছে পুরসভার ভাঁড়ারে। কিন্তু তারপরেও চিন্তার কারণ থাকছে আয়ের থেকে ব্যায়ের বহর বেশি হওয়ায়। এই রকম অবস্থায় ২০২৩-এর পুর বাজেট পেশ করলেন মেয়র। বিগত কয়েক বছর ধরেই ঘাটতি বাজেট দেশে আসছে কলকাতাবাসী। এবারেও তার ব্যাতিক্রম হলো না। বাজেট পেশের পর দেখে গেল এবারে ঘাটতির পরিমাণ ১৪৬ কোটি টাকা।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম এদিন জানান, “গত অর্থবর্ষের বাজেটে যে বুনিয়াদ তৈরি বয়েছিল এ বছরের বাজেট নির্মাণ তার ভিত্তিতে এগিয়ে চলবে বলেই আশা করি। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব এবং একটি যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়া সত্ত্বেও আমরা কিন্তু ধীরে ধীরে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসছি সঠিক পথেই। গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটার ফলে বর্তমানে আমরা শক্তিশালী ভাবে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পেরেছি। আমি এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী যে-কলকাতা মহানগরীর সমস্ত জনসাধারণের অবিচ্ছেদ্য সমর্থন এবং আশীর্বাদের কারণেই আমরা আমাদের নাগরিক পরিষেবাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব যে আন্তর্জাতিক স্তরেও কলকাতা শহর অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় নগরী বলে পরিগণিত হবে এবং খ্যাতি অর্জন করবে, যেখানে প্রত্যেকটি জনসাধারণ উন্নত গুনমানের পরিষেবা পাবে। জন-পরিষেবাকে আরো উজ্জ্বল করে তোলার ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, সেগুলি হলো —পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলোক ও বিদ্যুতায়ন, মসৃণ সড়ক ব্যবস্থা, বস্তি উন্নয়ন, দুঃস্থ ও অবহেলিত মানুষের জীবনযাত্রার মনোন্নয়ন, সমাজকল্যাণ ও নগর দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রভৃতি।

কলকাতা পৌরসংস্থার নিজস্ব অর্থোপার্জন-সহ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অনুদানের সহযোগে শ্রীবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং অগ্রগতির এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক পরিষেবায় মহানাগরিক — এই মর্মে টক টু মেয়র কর্মসূচি সাধারণত প্রত্যেক শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে যেকোনো নাগরিক পৃথক পৃথক ভাবে মহানাগরিকের সাথে যে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে বা অভিযোগ জানাতে পারেন এবং এই পদ্ধতিতেই সাধারণ মানুষও আগামী দিনের নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সম্পূক্ত হয়ে থাকতে পারবেন। যাই হোক, কোভিড-১৯ এর জন্য তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে। এমতাবস্থায় সকলের উচিত অহেতুক খরচ বন্ধ করার দিকে যত্নবান হওয়া এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক কঠোরতা অবলম্বন করে শুধুমাত্র অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনের নিরিখে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা।”