করণদিঘি বিধানসভা বাদ দিলে চারটি বিধানসভার মানুষ নির্ভর করে ইসলামপুর শহরের উপর। এখনকার ৯০% এর বেশী মানুষ কৃষিজীবী। সেই কৃষিজীবী পরিবারের ছেলে আজ ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুরো ইসলামপুর মহকুমার নাম উজ্জ্বল করেছে। ইসলামপুরের ছৌসিয়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ মঞ্জর হুসেইন আঞ্জুম ওরফে প্রিন্স ছোট থেকেই কৃতী ছাত্র। প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং এর পড়াশোনা ও পরে অন্য চাকরি করলেও রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী গোলাম রাব্বানীর অনুপ্রেরণায় ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন প্রিন্স। এবছর ইউপিএসসি পরীক্ষায় ১২৫ র্যাঙ্ক করে তাক লাগালেন তিনি। প্রিন্সের বাবা গত পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। সমস্ত সংসারের চাপ তার মার উপরে। কিছুটা জমি ছিল তাদের। সেই জমি বিক্রি করে ছেলের পড়াশুনায় লাগিয়ে দেন তার মা। ছেলেকে কষ্ট, অভাব বুঝতে দেননি মা। মায়ের আশা একটাই, স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হবে মানুষের মত মানুষ হবে।

১৯৫৬ সালে বিহারের পূর্ণিয়া জেলা থেকে আলাদা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত হয় এই শহর। দুটি পৌরসভা ও পাঁচটি বিধানসভাকে নিয়ে একটি মহকুমা করা হয় ইসলামপুর। এই ছোট শহরের নাম উজ্জ্বল করল শহরেরই ছেলে মহম্মদ মঞ্জর হুসেইন আঞ্জুম ওরফে প্রিন্স। ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সারা ভারতবর্ষে ১২৫ তম স্থান অধিকার করেছেন প্রিন্স। ছেলে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে খবর শুনেই প্রিন্সের মায়ের চোখ খুশিতে ছলছল করে ওঠে। এবিষয়ে প্রিন্সের মা জানান, প্রতিটি সন্তান তার বাবা-মায়ের খেয়াল রাখার পাশাপাশি পরিশ্রম করুক। মন থেকে কোন সাফল্য অর্জন করতে চাইলে তা সম্ভব হবেই। প্রতিটি বাবা-মা’ই তার সন্তানের সাফল্য চায়। প্রিন্সের এই সাফল্যে পুরো গ্রামের লোক আমাদের অনেক অভিনন্দন জানিয়েছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রিন্সের বাড়িতে শুভেচ্ছা বার্তা জানাতে হাজির স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইসলামপুর শহর সহ গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে উৎসবে পরিণত হল শুক্রবার রাতে। খবর পেয়ে প্রিন্স ও তাঁর পরিবারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী। প্রিন্স এই মুহূর্তে রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁর মা ও পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে বহু মানুষের ভিড় জমেছে তাঁর বাড়িতে।