আগামী সোমবার মেঘালয়ের ৬০টি আসনে লড়াই। অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের ৬০ আসনের ভোটও একই দিনে। ২০১৮ সালে মেঘালয়ে বিজেপির সমর্থন নিয়ে কনরাড সাংমার ন্যাশনাল পিপিলস পার্টি বা এনপিপি সরকার তৈরি করে। কিন্তু এবার এনপিপি লড়াই করছে একাই এবং তারা ৬০টির মধ্যে ৫৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে নাগা পিপলস ফ্রন্ট গত ২০১৮-র নির্বাচনে একাই ৬০টির মধ্যে ২৬টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হওয়ার পরেও বিরোধী আসনে বসেছিল। কেননা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জেলিয়াং-সহ ২১ জন বিধায়ক ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে নাগাল্যান্ড বিধানসভা কার্যত বিরোধী শূন্য। এবার ৬০টি আসনের মধ্যে এনডিপিপি ৪০টিতে এবং বিজেপি ২০টি আসনে লড়াই করছে।
মেঘালয়ের ৬০টি আসনে লড়াইকে গেরুয়া শিবির বন্ধুত্বপূর্ণ বলেছে। যদিও এ রাজ্যে প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল। তবে নির্বাচনের মুখে প্রধান বিরোধী তৃণমূল জোর ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, তাদের একাধিক বিধায়ক ক্ষমতাসীন এনপিপিতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ২ এনপিপি এবং ১ কংগ্রেস এবং ১ নির্দল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে এনপিপির সঙ্গে জোট না হলেও বিজেপি মনে করছে মেঘালয়ে তাদের ফল এবার আরও ভাল হবে। মেঘালয়ে ২০১৮-তে কংগ্রেস বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকলেও, তা ভাঙিয়ে কখনও বিজেপি আবার কখনও তৃণমূল ভারি হয়েছে। তবে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিজেপির সঙ্গে এনপিপির মত-পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড, সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং বিজেপি নেতার গ্রেফতারিও। এনপিপি মনে করে বিজেপির মতো জাতীয় দল আঞ্চলিক দলগুলিকে শেষ করে দিতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলই মেঘালয়ে ক্ষমতায় আসবে। মেঘালয়ে থাকা বাংলাভাষীদের বড় অংশকে তৃণমূল কংগ্রেস এবারের ভোটে টার্গেট করেছে। নির্বাচনের দিন ঘোষণার দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেঘালয় সফর করেছেন। মেঘালয়ে কংগ্রেসের অবস্থা সব থেকে খারাপ। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা যে ১৭ টি আসন দখল করেছিল, তার মধ্যে ১২ জন প্রথমে তৃণমূলে চলে যান। অন্যদিকে ৫ বিধায়ক এনপিপিকে সমর্থন করায় তাদেরকে কংগ্রেস সাসপেন্ড করে। আগামী সোমবার বিধানসভা ভোটের আগে মেঘালয়ের বিধায়ক সালেং সাংমা এনসিপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। সালেং সাংমা গাম্বেগরে কেন্দ্র থেকে তিন বার বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়ে এনসিপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে জয়ন্তীয়া পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা তথা পরিষদের সদস্য রিচার্ড লিংডো এনসিপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। ভোটের আগে উত্তর পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যে শুরু হয়েছে দলবদল ও যোগদানের পালা। ভোটের আগে সালেংয়ের কংগ্রেসে যোগদান হাত-শিবিরের মনোবল কিছুটা ফেরাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নাগাল্যান্ডের ভোটে চিরকালই রাস্তার উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি ইস্যুগুলি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। নাগাল্যান্ডের এই রাজনৈকি প্রোক্ষাপটের পাশাপাশি এনপিএফ নতুন করে নিজেদের ক্ষমতা এই রাজ্যে কায়েম করতে চাইছে। উল্লেখ্য, উত্তরপূর্বের ছটি রাজ্য মিলিয়ে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি নাগাল্যান্ডের রাজনীতিতে বহুবারই উঠে এসেছে। সেদিক থেকে ইস্টার্ন নাগা পিপলস অর্গানাইজেশনও ভোটে যে একটি ফ্যাক্টর তা অস্বীকার করা যায় না। এই বিষয়গুলিকে সরিয়ে রেখেও উত্তরপূর্বের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র ও নাগা সংগঠনগুলির যে বৈঠক বা তথাকথিত শান্তি বৈঠক বরাবর নাগাল্যান্ডের রাজনীতিতে বা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। এবারের ভোটে কি তার ব্যাতিক্রম ঘটবে নাকি তা প্রভাব ফেলবে সেকথা বলা যাবে ফল প্রকাশের দিন।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নাগা পিপল ফ্রন্ট যে দাবি তুলেছে তার মধ্যে মূল দাবিগুলি হল, সে রাজ্যের সাধারণ জনগণের ঘাড় থেকে অতিরিক্ত করের বোঝা নামাতে হবে, নাগারাজ্য জুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বিভিন্ন নাগা সংগঠনগুলির তোলাবাজিতে লাগাম লাগানো প্রভৃতি। যদিও ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে কিন্তু ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড লেজিসলেটর্স ইউনিয়ন ভোটে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এনপিএফ নাগাল্যান্ডের শাসক দল হিসেবে ক্ষমতায় ছিল। তাঁরা পরপর তিন দফা সরকার গঠন করেছিল। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ছবিটা পালটে যায়। উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডের অধিবাসীদের মূল রাজনৈতিক সমস্যাগুলো মেটানো হল নাগা পিপলস ফ্রন্ট-এর উদ্দেশ্য। তার জন্য তাদের ক্ষমতায় আসা দরকার, আর তা নাহলে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের সঙ্গে জোট বাঁধা। যে কারণে তাঁরা এনডিপিপি অথবা বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধতে পিছপা হবে না। কারণ, তাদের মূল দাবি নাগাদের সমস্যাগুলিকে সমাধান করার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রভাবিত করা।