আপনাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুনতে হয়, উনি আপনাদের তোষণ করেন ভোট ব্যাঙ্কের জন্য!হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো আর করোনা লকডাউন অমান্য করা যে এক জিনিস নয়, এটা কবে বুঝবেন? কেন্দ্রীয় সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বলপ্রয়োগ করছেন না। এখনও বোঝাচ্ছেন ঘরে থাকার যৌক্তিকতা। তবু কীসের আত্মবিশ্বাসে সব অমান্য করছেন? ইমামদের কথাও মানবেন না! না, সবাই নন। এটা লিখছি দায়িত্বজ্ঞানহীনদের উদ্দেশে। পরিবার আছে তো?
করোনার চেয়ে বড়ো ভাইরাস, সাম্প্রদায়িক ভাইরাস নিয়ে নোংরা খেলা খেলছে বিজেপি। একটাই ছক আপনাদের টার্গেট করা, আর হিন্দুদের আপনাদের উপর চটিয়ে দেওয়া। ভাবখানা যেন, আপনারাই দায়ী করোনা সংক্রমণের জন্য। তাই তো, নিজামুদ্দিন থেকে বাংলার নানা ছবি তুলে ধরে বিজেপি লোক ক্ষ্যাপাচ্ছে। ভোট, রাজনীতি এ সব পরের কথা। বাঁচার লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার কারণ যদি আপনাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হয়, তখন দিদির ভালো কাজের দাম থাকবে না। বিজেপি এখনই কেন্দ্রীয় সরকারের অপদার্থতা ঢেকে এমন হুইস্পারিং ক্যাম্পেন চালাচ্ছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নরম মনোভাবের নাকি বিপদ বাড়ছে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে। এটা বলছে না যে, অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা ভালো অবস্থায়। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশের অতুলনীয় অবদান ভেস্তে যাবে আপনাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায়?করোনা-যুদ্ধতে কিন্তু আমরা হারতে চাই না।
বেহাল অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে একুশে ভোটের আগে লোক কিনতে ওড়ানোর টাকা বিজেপির আছে। আপাতত এই বাজারেও ওরা ছক কষছে তৃণমূলের হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামাতে। মানুষ টাকার কাছে মাথা নত করে, বালাকোট সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আগা-মাথা না দেখে বিজেপির ফাঁদে পা দিয়ে ওদের জিতিয়ে এখন মাথা চাপড়াচ্ছেন! তাই খাল কেটে কুমির আনবেন না। ভেবেছেন কি, বিজেপি যদি জেতে এভাবে খুল্লমখুল্লা ঘুরতে পারবেন? পারবেন না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে বিজেপির রাস্তা চওড়া না করে সকাল থেকেই ঘরে থাকুন পরিবারের সঙ্গে। কটা তো দিন আর। দোকান-বাজার খোলা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হোম ডেলিভারি আছে। তৃণমূলের সৈনিকরাও আছেন জরুরি দরকারে সহযোগিতা করতে। লকডাউনে কিছু ক্ষেত্রে জননেত্রী ছাড় দিয়েছেন তো মানুষকে ভালো রাখার জন্যই।
মনে রাখবেন, জননেত্রী যেতে পারলেও কিন্তু কালীঘাটের মন্দিরে যাচ্ছেন না। আপনারা মসজিদে না গেলে কোনও অসুবিধা নেই। ঘরে থেকেই নমাজ পড়ুন। বিপদকে দূরে রাখুন। যাঁরা বোঝাচ্ছেন, সেই প্রশাসনের কথা শুনে সহযোগিতা করুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, এ লড়াই ক্ষুধার সঙ্গে নয়, রোগের সঙ্গে। লড়াই রোগের সঙ্গে, সাম্প্রদায়িক ভাইরাসের সঙ্গে নয়। তাই আসুন সকলে মিলে আমরা করোনাকে পরাস্ত করি, আর বিজেপির বিভাজনের ফাঁদ ছিন্ন করি।