যে কোনও খেলার সঙ্গে এখন জড়িয়ে রয়েছেন স্পন্সররা। স্পন্সর ছাড়া এখন যে কোনও খেলাও শুষ্ঠভাবে পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব। বিপণনের সঙ্গে খেলা এবং তার কুশীলবেরা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত কি ফুটবল কি ক্রিকেট। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা স্পন্সররাই দেয়। এছাড়া এর মধ্যেও অনেক পারমুটেশন ও কম্বিনেশন আছে।
এখন যে কোনও নামী-দামী খেলোয়াড়কে তার খেলার পাশাপাশি তাঁকে যে কম্পানি স্পন্সর করছে সেই কম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্যের দিকেও তাঁকে নজর দিতে হয়। সেই সব কম্পানির পণ্যের প্রচারে এই সব খেলোয়াড়দের বেশ বড়ো ভূমিকা আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করতে হয় সেই পণ্যের প্রচারের উদ্দেশ্যে। উপার্জনটাও মন্দ হয় না খেলার উপার্জনের কাছাকাছি কোনও ক্ষেত্রে একটু বেশি পৌঁছে যায় সেটি। দিনের বড় একটা অংশই ব্যয় করতে হয় করপোরেট হাউস কিংবা তাদের পণ্যের মিডিয়েটরের কাজে।
নিয়েলসেন স্পোর্টসপ্রো ২০২০ এটা হিসেব করে বের করেছে। এমনকি ৫০ জন ক্রীড়াতারকার একটা তালিকাও তৈরি করেছে তাঁরা, বিপণনের জগতে কার চাহিদা কত বেশি, তাঁর ওপর ভিত্তি করে। সে তালিকায় শীর্ষে আছে লিওনেল মেসির নাম। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোকে টপকে এই সম্মান অর্জন করেছেন বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার এই তারকা ফরোয়ার্ড।
কিসের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকাটা বানানো হয়েছে, তাঁর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছে স্পোর্টসপ্রো। কি ভাবে একজন খেলোয়াড় মার্কেটিং-এ সাহায্য করেন তার সঠিক পরিমাপ করার জন্য নিয়েলসেন বেশ কিছু পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছে, যেমন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার কত ফলোয়ার, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক পোস্টে লাইকের মাত্রা কী রকম, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফলোয়ারের সংখ্যা কীভাবে বাড়ছে, মিডিয়ায় সেই খেলোয়াড়ের মূল্য ইত্যাদি। দেখা গেছে মেসির বাজারদর সবচেয়ে বেশি।
তালিকার শীর্ষ দশে মেসি-রোনাল্ডো ছাড়াও আরও তিনজন ফুটবলার আছেন—পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার, লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ ও রোনালদোর ক্লাব-সতীর্থ, আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা। তাঁদের অবস্থান যথাক্রমে ৬, ৯ ও ১০। ক্রিকেটের আছেন দুজন, দুজনই ভারতের-বিরাট কোহলি (৪) ও রোহিত শর্মা (৮)।