কাজের অগ্রগতি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। লাইন পাতার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবুও দশবার ভাবছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নিউগড়িয়া বা কবি সুভাষ এবং রুবি বা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশনের মধ্যে এখনই মেট্রোরেল চালু করে দিলে তা বাণিজ্যিক দিক দিয়ে আদৌ বাস্তবসম্মত হবে কি না, সে ব্যাপারে কিন্তু মোটেই নিশ্চিত নন মেট্রো কর্তারা। আর ঠিক এই কারণেই ইএমবাইপাসের অভিজাত এলাকার উপর দিয়ে নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট লাইনে প্রথম পর্যায়ের মেট্রো চলাচল শুরু করানোর জন্য আরও একটু সময় নিতে চান তাঁরা। অথচ সামনের বছরের মাঝামাঝি নাগাদ চালু করে দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কথা ছিল প্রথম পর্যায়ে সত্যজিৎ রায় এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্টেশন স্পর্শ করে ছুটবে মেট্রো। স্থানীয় মানুষও প্রতীক্ষা করে চলেছেন অধীর আগ্রহে। তবুও কেন এই দ্বিধা?

বাস্তব বলছে, সংক্ষিপ্ত দুরত্বে তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না আদৌ। একেবারে গোড়ার দিকে সেক্টর ফাইভ থেকে এ্যাপলো পর্যন্ত মেট্রো চালিয়ে এই অভিজ্ঞতাই হয়েছে কর্তাদের। পরে ফুলবাগান পর্যন্ত ট্রেন চললেও যাত্রীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মিলছে না। স্বাভাবিকভাবেই আয়ের খাতা ভরছে না সেভাবে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নিউ গড়িয়া-রুবির মধ্যে মাসকয়েকের মধ্যে ট্রেন চালানো শুরু করলে আর্থিক দিক দিয়ে হতে পারে একই ধরনের ক্ষতি। তাই খুব দ্রুত নিউটাউন পর্যন্ত কাজ শেষ করে ফেলে বাস্তবসম্মত দুরত্বে ট্রেন চালানোর চেষ্টা চলছে।

এটা ঘটনা, নিউ গড়িয়া এবং রুবির মধ্যে দুরত্ব স্বল্প হলেও এখানে বাইপাসের দু-ধারে গড়ে উঠেছে প্রচুর আধুনিক আবাসন। প্রচুর মানুষ বাস করেন এই এলাকায়। রয়েছে বেশ কয়েকটি নামি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালও। ফলে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এখানে আসেন চিকিৎসার জন্য। সঙ্গত কারণেই বাইপাসে যানবাহনের পাশাপাশি উপর দিয়ে মেট্রো চললে সাড়া পাওয়া যাবে ভালই। তবুও ঝুঁকি নিতে চাইছে না মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেক্টর ফাইভের অফিসযাত্রীদের কথা ভেবে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে তারা। একই সঙ্গে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সেক্টর ফাইভে এসে মেশারও প্রতীক্ষা। তা হলেই নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো বাণিজ্যিক দিক দিয়ে লাভবান হবে বলে মেট্রো কর্তাদের আশা।