বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসব হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার বোগার মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের তিনশো বছরেরও বেশি প্রাচীন দুর্গোৎসব অন্যতম। একসময় পুজো জাঁকজমক পূর্ণ হলেও কালের বিবর্তনে সেই জাঁকজমক আগের মত না থাকলেও আট পুরুষ ধরে ভক্তির ভাবে দেবী দুর্গার পুজো করে আসছেন বোগা গ্রামের মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।
মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের দুর্গোৎসবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের দুর্গোৎসবে দেবী দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে সিংহ ও মহিষাসুর থাকে না। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, গণেশ-সহ হর পার্বতী প্রতিমা পূজিত হন।

মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের বর্তমান কর্তা সুরজিৎ মিদ্যা চৌধুরী জানান, আট পুরুষ আগে মিদ্যাচৌধুরী পরিবারের জমিদার শম্ভুরাম মিদ্যার কোন সন্তান ছিলনা। কোন পুত্র সন্তান না থাকায় একদিকে বংশ রক্ষা আর অন্যদিকে জমিদারি রক্ষা নিয়ে চিন্তিত ও বিমর্ষ থাকতেন সবসময়। সেই সময়েই একদিন আচমকাই এক সাধু এসে হাজির হন জমিদার শম্ভুরাম মিদ্যার কাছে। শম্ভুরামের সন্তান না হওয়ার কারনে তাঁর মনোব্যথার কথা জানত পেরে সাধু জমিদার শম্ভুরামকে দুর্গাপুজো করার কথা জানান। সাধুর কথামত শম্ভুরাম দুর্গাপুজো শুরু করেন। শম্ভুরাম দুর্গাপুজো শুরুর এক বছরের মধ্যেই শম্ভুরাম মিদ্যার এক পুত্র সন্তান হয়। দেবী দুর্গার আরাধনার ফলে পুত্র সন্তান হওয়ায় শম্ভুরাম পুত্রের নাম রাখেন দুর্গাপ্রসাদ। যেহেতু সন্তান লাভের বাসনায় দুর্গাপুজো তাই ধ্বংস আর বিকাশের প্রতীক মহিষাসুর ও সিংহকে বাদ দিয়েই লক্ষ্মী,সরস্বতী,কার্ত্তিক গনেশের মূর্তি সহ দেবী দুর্গার হরপার্বতি রূপে পুজো শুরু হয়। সেই রীতি,রেওয়াজ ও ধারা আজও চলে আসছে।

পারিবারিক রীতি অনুসারে জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দোৎসবের দিন প্রতিমা তৈরির মাটি তোলা হয়। দেবী আরাধনার প্রথম ধাপ শুরু হয় মহাষষ্ঠীর দিন ঘটোত্তলনের মধ্যে দিয়ে। মহাষ্টমী ও মহানবমীতে ৬০খানা কাঁসার থালা ও রেকাবিতে করে দেবীকে নৈবেদ্য প্রদান করা হয়। এভাবেই আজ অষ্টম প্রজন্ম ধরে চলে আসছে মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের পূজা-আচার। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, মায়ের কাছে সন্তান কামনা করে মানত করলে পূর্ণ হয় সে কামনা। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে বিশেষ উৎসব। আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ এসে অংশ নেন খেজুরির বনেদি মিদ্যা চৌধুরী পরিবারের পুজোয় ।