বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে নির্লজ্জ রাজনীতি করছে বিজেপি। বড়ো সাগরেদ হয়েছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। আসলে বাংলাকে বদনাম করলেই ওঁদের দলে আজকাল গুরুত্ব মিলছে বোধ হয়। তা গোয়েলবাবু, এতোই যখন শ্রমিক স্পেশ্যাল করে ফেরানোর ফিরিস্তি দিচ্ছেন, সস্তা রাজনীতি করে বাংলার সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের তুলনা টানছেন, এ সব না করে ট্রেন দিন না। নাহলে আপনার দলের শাসনে থাকা রাজ্যগুলিতেও তো পরিযায়ী শ্রমিকরা আপনাদের সরকারকে সুঁটিয়ে লাল করে দেবে।

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে মধ্যপ্রদেশেরই ছিন্দওয়াড়া জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার। যানবাহন না পেয়ে এই পথ হেঁটে পেরোতে হচ্ছে শ্রমিকদের। বিজেপির সরকার এঁদের কোনও ভরসা দিতেই পারেনি।

গোয়েলবাবু বলছেন, বাংলা, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ডের সরকার নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে ট্রেন দিচ্ছে না। অ-বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিকে কেন টার্গেট করছেন বিজেপি মন্ত্রী তা সব নাগরিক বোঝেন। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ তাঁদের নিজেদের রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য কী করল, এই ছবি দেখে ভাবুন রেলমন্ত্রী।

এবার আসা যাক উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে। খুব বড়ো মুখ করে উত্তরপ্রদেশের সরকারের গুণগান করেছিলেন রেলমন্ত্রী গোয়েলবাবু। দিল্লি-গাজীপুর সীমানা তো বাংলায় নয়, তাই তো? তা সেখানেই শুক্রবার ১৫ মে সকালে ভিড় পরিযায়ী শ্রমিকদের।

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত সকলেই। তাঁদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায়। পুলিশ রাজ্যে ঢুকতে বাধা দিলে সকলে রাস্তায় বসে পড়েন। সন্তান কোলে এক মা জানালেন, যেখানে থাকতাম, বাড়িভাড়া দিতে না পারায় বাড়ির মালিক বের করে দিয়েছেন। বাচ্চাদের নিয়ে তাই নিজেদের বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই। কিছু না পেয়ে হাঁটছি।

কোথায় গেল মোদীবাবুর ভাষণ! অপরিকল্পিত লকডাউনে কয়েক কোটি মানুষকে বিপদে ফেলে শুধু ভাষণবাজি আর সস্তা রাজনীতি। করোনামুক্ত ভারতের সঙ্গে তাই বিজেপিমুক্ত ভারত গড়ার ডাক জোরালো হচ্ছে।
দারুন বলেছেন